লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহাবিপর্যয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ দেশ অস্ট্রেলিয়া, বলছে নতুন গবেষণা

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, মহাবিপর্যয় থেকে বাঁচতে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হলো অস্ট্রেলিয়া। পারমাণবিক যুদ্ধ, আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ বা গ্রহাণুর আঘাতের মতো বিপদেও এই দেশ নিরাপদ থাকবে। গবেষকেরা এমন কিছু জায়গা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন, যেগুলো মারাত্মক সব বিপদ সামলে টিকে থাকতে পারবে। এখানে মহাবিপর্যয় বলতে এমন সব ঘটনাকে বোঝানো হয়েছে, যা খুব অল্প সময়ের মধ্যে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশের বেশি মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে।

জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব হ্যাগেনের গবেষক ফ্লোরিয়ান উলরিখ জেন এই গবেষণার প্রধান। ২৩ আগস্ট ‘গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় খাদ্যনিরাপত্তা, জৈব অস্ত্র ও আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের মতো বিভিন্ন ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষক দলটি মূলত তিন ধরনের বড় ঝুঁকির কথা চিহ্নিত করেছেন। প্রথমটি হলো, সূর্যের আলো আটকে দেয় এমন ঘটনা, যেমন পারমাণবিক যুদ্ধ বা বিশাল আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ। দ্বিতীয়টি হলো, বৈশ্বিক অবকাঠামো ধ্বংসকারী ঘটনা, যেমন ভূচৌম্বকীয় ঝড় বা বড় আকারের সাইবার আক্রমণ। তৃতীয়টি হলো জৈব ঝুঁকি বা বায়োহ্যাজার্ড, যা মারাত্মক সংক্রামক রোগের মাধ্যমে বিপুল মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে। গবেষকদের মতে, এসব ঘটনার প্রভাব হবে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী, যা বিশ্বজুড়ে দুর্ভিক্ষ ডেকে আনতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ধনী দেশের নিজস্ব কারখানা ও উৎপাদন ব্যবস্থা শক্তিশালী এবং যারা বিদেশি বাণিজ্যের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল নয়, তারা সংকট ভালোভাবে সামলাতে পারে। এছাড়া ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ; বড় মহাদেশের চেয়ে দ্বীপরাষ্ট্রগুলো নিজেদের আলাদা করে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে। তবে জাপানের মতো দেশ, যা বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল, তারা বিশ্ব বাণিজ্য বন্ধ হলে বিপদে পড়বে। উত্তর গোলার্ধের দেশগুলো পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি এবং আগ্নেয়গিরির বিপদে বেশি সংবেদনশীল। অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ, কারণ সেখানে আগ্নেয়গিরির সংখ্যা কম এবং বিশাল মহাসাগর আবহাওয়ার ভারসাম্য রক্ষা করে।

অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বের সেরা জায়গা হিসেবে পাওয়ার কারণ হলো এর ভৌগোলিক অবস্থান, প্রচুর খাদ্য উৎপাদন ক্ষমতা, বৈচিত্র্যময় আবহাওয়া এবং শক্তিশালী জ্বালানিব্যবস্থা। তালিকায় এরপরই রয়েছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও নিউজিল্যান্ড। তবে নিউজিল্যান্ডে জীবন্ত আগ্নেয়গিরি ও সুনামির ঝুঁকি রয়েছে এবং ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈষম্য বিদ্যমান। আইসল্যান্ড তালিকায় থাকলেও সূর্যের আলো আটকে গেলে সেখানে তাপমাত্রা মারাত্মক কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আমেরিকা ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পারমাণবিক যুদ্ধ ও সৌরঝড়ের ক্ষেত্রে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। গবেষক ফ্লোরিয়ান উলরিখ জেন জানান, মহাবিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা কম হলেও জাতীয় নিরাপত্তার তালিকায় এসব বিষয় রাখা এবং খাদ্য ও অবকাঠামো সুরক্ষায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইবি উপাচার্যের সাক্ষাৎ, ‘আবরার ফাহাদ হল’ উদ্বোধনের আমন্ত্রণ

মহাবিপর্যয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ দেশ অস্ট্রেলিয়া, বলছে নতুন গবেষণা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩৬:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, মহাবিপর্যয় থেকে বাঁচতে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হলো অস্ট্রেলিয়া। পারমাণবিক যুদ্ধ, আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ বা গ্রহাণুর আঘাতের মতো বিপদেও এই দেশ নিরাপদ থাকবে। গবেষকেরা এমন কিছু জায়গা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন, যেগুলো মারাত্মক সব বিপদ সামলে টিকে থাকতে পারবে। এখানে মহাবিপর্যয় বলতে এমন সব ঘটনাকে বোঝানো হয়েছে, যা খুব অল্প সময়ের মধ্যে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশের বেশি মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে।

জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব হ্যাগেনের গবেষক ফ্লোরিয়ান উলরিখ জেন এই গবেষণার প্রধান। ২৩ আগস্ট ‘গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় খাদ্যনিরাপত্তা, জৈব অস্ত্র ও আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের মতো বিভিন্ন ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষক দলটি মূলত তিন ধরনের বড় ঝুঁকির কথা চিহ্নিত করেছেন। প্রথমটি হলো, সূর্যের আলো আটকে দেয় এমন ঘটনা, যেমন পারমাণবিক যুদ্ধ বা বিশাল আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ। দ্বিতীয়টি হলো, বৈশ্বিক অবকাঠামো ধ্বংসকারী ঘটনা, যেমন ভূচৌম্বকীয় ঝড় বা বড় আকারের সাইবার আক্রমণ। তৃতীয়টি হলো জৈব ঝুঁকি বা বায়োহ্যাজার্ড, যা মারাত্মক সংক্রামক রোগের মাধ্যমে বিপুল মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে। গবেষকদের মতে, এসব ঘটনার প্রভাব হবে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী, যা বিশ্বজুড়ে দুর্ভিক্ষ ডেকে আনতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ধনী দেশের নিজস্ব কারখানা ও উৎপাদন ব্যবস্থা শক্তিশালী এবং যারা বিদেশি বাণিজ্যের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল নয়, তারা সংকট ভালোভাবে সামলাতে পারে। এছাড়া ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ; বড় মহাদেশের চেয়ে দ্বীপরাষ্ট্রগুলো নিজেদের আলাদা করে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে। তবে জাপানের মতো দেশ, যা বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল, তারা বিশ্ব বাণিজ্য বন্ধ হলে বিপদে পড়বে। উত্তর গোলার্ধের দেশগুলো পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি এবং আগ্নেয়গিরির বিপদে বেশি সংবেদনশীল। অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ, কারণ সেখানে আগ্নেয়গিরির সংখ্যা কম এবং বিশাল মহাসাগর আবহাওয়ার ভারসাম্য রক্ষা করে।

অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বের সেরা জায়গা হিসেবে পাওয়ার কারণ হলো এর ভৌগোলিক অবস্থান, প্রচুর খাদ্য উৎপাদন ক্ষমতা, বৈচিত্র্যময় আবহাওয়া এবং শক্তিশালী জ্বালানিব্যবস্থা। তালিকায় এরপরই রয়েছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও নিউজিল্যান্ড। তবে নিউজিল্যান্ডে জীবন্ত আগ্নেয়গিরি ও সুনামির ঝুঁকি রয়েছে এবং ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈষম্য বিদ্যমান। আইসল্যান্ড তালিকায় থাকলেও সূর্যের আলো আটকে গেলে সেখানে তাপমাত্রা মারাত্মক কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আমেরিকা ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পারমাণবিক যুদ্ধ ও সৌরঝড়ের ক্ষেত্রে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। গবেষক ফ্লোরিয়ান উলরিখ জেন জানান, মহাবিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা কম হলেও জাতীয় নিরাপত্তার তালিকায় এসব বিষয় রাখা এবং খাদ্য ও অবকাঠামো সুরক্ষায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।