লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ আইজিপির

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ২৮

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশিংয়ের ধরনে পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি এবং আধুনিক পুলিশিংয়ের জন্য সাইবার অপরাধ তদন্তের সক্ষমতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।

রোববার রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্তবিষয়ক ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (টিওটি) কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক, এনক্রিপটেড যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মতো নতুন প্রযুক্তি যেমন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য তৈরি করেছে নতুন চ্যালেঞ্জ। অপরাধীরা প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাইবার প্রতারণা, অনলাইন আর্থিক অপরাধ, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, অনলাইনে হয়রানি ও ডিজিটাল চাঁদাবাজির মতো অপরাধ করছে।

প্রশিক্ষণার্থী পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আইজিপি বলেন, এ কোর্সের মাধ্যমে তারা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করবেন না, বরং প্রশিক্ষণ প্রদান ও যোগাযোগ দক্ষতাও অর্জন করবেন। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান অন্যান্য তদন্তকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কার্যকরভাবে অন্যান্য তদন্তকারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হলে সাইবার মামলা তদন্তকারীর সংখ্যা বহুগুণ বাড়বে। এ ধরনের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং উইং ও পুলিশ স্টাফ কলেজ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান আইজিপি। তিনি নিয়মিত প্রশিক্ষণ আয়োজনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ উপকরণ ও মডিউল হালনাগাদ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর (অতিরিক্ত আইজি) কাজী মো. ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিআইডি প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিআইজি (ট্রেনিং) মো. একরামুল হাবিব এবং সাইবার অপরাধ তদন্ত প্রশিক্ষণ রোডম্যাপ ও বাস্তবায়ন কৌশল উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রেনিং-২) ড. মোছা. শেহেলা পারভীন।

সভাপতির বক্তব্যে কাজী মো. ফজলুল করিম বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের এপেক্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট হিসেবে পুলিশ স্টাফ কলেজ নানামুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। এই প্রশিক্ষণ সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ কর্মকর্তাদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই দশ দিনের প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণকারী ৩৩২ জন পুলিশ কর্মকর্তা পর্যায়ক্রমে মাঠপর্যায়ে তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মজুরি আন্দোলনের জেরে ৬৮১ কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ আইজিপির

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৩৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ২৮

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশিংয়ের ধরনে পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি এবং আধুনিক পুলিশিংয়ের জন্য সাইবার অপরাধ তদন্তের সক্ষমতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।

রোববার রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্তবিষয়ক ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (টিওটি) কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক, এনক্রিপটেড যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মতো নতুন প্রযুক্তি যেমন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য তৈরি করেছে নতুন চ্যালেঞ্জ। অপরাধীরা প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাইবার প্রতারণা, অনলাইন আর্থিক অপরাধ, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, অনলাইনে হয়রানি ও ডিজিটাল চাঁদাবাজির মতো অপরাধ করছে।

প্রশিক্ষণার্থী পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আইজিপি বলেন, এ কোর্সের মাধ্যমে তারা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করবেন না, বরং প্রশিক্ষণ প্রদান ও যোগাযোগ দক্ষতাও অর্জন করবেন। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান অন্যান্য তদন্তকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কার্যকরভাবে অন্যান্য তদন্তকারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হলে সাইবার মামলা তদন্তকারীর সংখ্যা বহুগুণ বাড়বে। এ ধরনের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং উইং ও পুলিশ স্টাফ কলেজ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান আইজিপি। তিনি নিয়মিত প্রশিক্ষণ আয়োজনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ উপকরণ ও মডিউল হালনাগাদ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর (অতিরিক্ত আইজি) কাজী মো. ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিআইডি প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিআইজি (ট্রেনিং) মো. একরামুল হাবিব এবং সাইবার অপরাধ তদন্ত প্রশিক্ষণ রোডম্যাপ ও বাস্তবায়ন কৌশল উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রেনিং-২) ড. মোছা. শেহেলা পারভীন।

সভাপতির বক্তব্যে কাজী মো. ফজলুল করিম বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের এপেক্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট হিসেবে পুলিশ স্টাফ কলেজ নানামুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। এই প্রশিক্ষণ সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ কর্মকর্তাদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই দশ দিনের প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণকারী ৩৩২ জন পুলিশ কর্মকর্তা পর্যায়ক্রমে মাঠপর্যায়ে তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।