লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন পে-স্কেল: নিচের গ্রেডে ৫% ইনক্রিমেন্ট বহাল, উচ্চপদে কমছে হার

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মূল বেতনের তুলনায় বাড়ি ভাড়া ভাতার হারও কমানো হচ্ছে। এর ফলে উচ্চ বেতন পাওয়া কর্মকর্তারা শতাংশের হিসাবে আগের চেয়ে কম হারে ইনক্রিমেন্ট পাবেন। বর্তমানে সব গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবী মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পেলেও নতুন কাঠামোয় এই অভিন্ন হার আর থাকছে না। গ্রেড যত ওপরের দিকে যাবে, ইনক্রিমেন্টের হার তত কমবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-৬ পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগের মতোই বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পাবেন। তবে গ্রেড-৫-এর কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এই হার হবে ৪ শতাংশ। এছাড়া গ্রেড-৪ ও ৩-এর কর্মকর্তাদের জন্য ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এর কর্মকর্তাদের জন্য ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণ করা হচ্ছে। সশস্ত্র বাহিনীতেও এই একই নীতি অনুসরণ করা হবে। সেখানে ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য এবং তার নিচের পদের কর্মকর্তাদের জন্য ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ, মেজর পদে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেলে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ২০২৪ সালে চালু করা বিশেষ প্রণোদনাটি নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাতিল হয়ে যাবে, যা প্রথমে ৫ শতাংশ এবং পরে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথ বাহিনী নির্দেশাবলি-২০২৬’ অনুমোদন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তৈরি করা কার্যবিবরণী অনুযায়ী, নতুন কাঠামোতেও বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। এতে গ্রেড-২০-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১-এর নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান বিবেচনা করে বেতন-ভাতা যৌক্তিক করার লক্ষ্যে এই নতুন কাঠামো আনা হয়েছে। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় এটি একবারে বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হবে।

নতুন পে-স্কেলের আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে বাড়ি ভাড়া ভাতায়। বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়া হলেও নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারে বর্তমানে ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশের পরিবর্তে বাড়ি ভাড়া দেওয়া হবে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। আর সিটি করপোরেশন ও সাভারের বাইরে এই হার ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ করা হচ্ছে। তবে শতাংশের হার কমলেও মূল বেতন দ্বিগুণ বা তার বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাতার প্রকৃত টাকার অঙ্ক বৃদ্ধি পাবে।

উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়সীমাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে পদোন্নতি না হলেও একই গ্রেডে ১০ বছর চাকরি করলে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যে নিয়ম রয়েছে, নতুন কাঠামোয় সেই সময় কমিয়ে ৮ বছর করা হচ্ছে। তবে দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে একই গ্রেডে ৬ বছর চাকরির শর্ত বহাল থাকবে। পদোন্নতিযোগ্য পদে কর্মরতরা চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইবার এই সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে, যেসব পদে পদোন্নতির সুযোগ নেই অর্থাৎ ‘ব্লকড পদ’, সেসব পদের কর্মচারীরা চাকরিজীবনে তিনবার উচ্চতর গ্রেড পাবেন। সেক্ষেত্রে প্রথমবার আট বছর, দ্বিতীয়বার আরও ছয় বছর এবং তৃতীয়বার পরবর্তী আট বছর চাকরির পর এই সুবিধা পাওয়া যাবে।

চিকিৎসা ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে বয়স অনুযায়ী এটি নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে সব কর্মচারী মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেলেও নতুন কাঠামোয় ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সিরা পাবেন ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সিরা পাবেন ৪ হাজার টাকা। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সিরা মাসে ৫ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সিরা ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। এছাড়া প্রথমবারের মতো সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমানে শুধু প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা মোবাইল বিল পেলেও নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের জন্য মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতার প্রস্তাব করা হয়েছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হচ্ছে। তবে বাংলা নববর্ষ ভাতা ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাহাড়ি ভাতা এবং হাওড়, দ্বীপ ও চরভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশই থাকছে, তবে এগুলোর একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। এছাড়া ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পরিমাণ বিদ্যমান হারের চেয়ে ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতার কাঠামোও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষা সহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, কুক অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যালাউন্স, উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি-বিনোদন ভাতার বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত থাকবে।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিদ্যমান ৮১ ধরনের ভাতা পর্যালোচনা করেছে সচিব কমিটি। এর মধ্যে অফিসার ও সাধারণ সদস্যদের জন্য প্রতিরক্ষা ভাতা, কিট ভাতা, ডেঞ্জার মানি, দোভাষী ভাতা ও শিক্ষকতা ভাতাসহ বেশিরভাগ ভাতা বিদ্যমান পরিমাণের ওপর ১০ শতাংশ বাড়তে পারে এবং জরিপ ভাতা বাড়তে পারে ৩০ শতাংশ। তবে বাড়ি ভাড়া, যাতায়াত, কার্যভার, আপ্যায়ন, টিফিন, ধোলাই, পাহাড়ি, উৎসব, শ্রান্তি-বিনোদন, নববর্ষ, শিক্ষা সহায়ক, চিকিৎসা ও প্রেষণ ভাতা নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের অনুরূপ হবে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন এই কাঠামোর ফলে দেশের প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক নিয়মিত কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও যোগ্য সুবিধাভোগীরা উপকৃত হবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপান সফরে গেলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

নতুন পে-স্কেল: নিচের গ্রেডে ৫% ইনক্রিমেন্ট বহাল, উচ্চপদে কমছে হার

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মূল বেতনের তুলনায় বাড়ি ভাড়া ভাতার হারও কমানো হচ্ছে। এর ফলে উচ্চ বেতন পাওয়া কর্মকর্তারা শতাংশের হিসাবে আগের চেয়ে কম হারে ইনক্রিমেন্ট পাবেন। বর্তমানে সব গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবী মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পেলেও নতুন কাঠামোয় এই অভিন্ন হার আর থাকছে না। গ্রেড যত ওপরের দিকে যাবে, ইনক্রিমেন্টের হার তত কমবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-৬ পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগের মতোই বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পাবেন। তবে গ্রেড-৫-এর কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এই হার হবে ৪ শতাংশ। এছাড়া গ্রেড-৪ ও ৩-এর কর্মকর্তাদের জন্য ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এর কর্মকর্তাদের জন্য ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণ করা হচ্ছে। সশস্ত্র বাহিনীতেও এই একই নীতি অনুসরণ করা হবে। সেখানে ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য এবং তার নিচের পদের কর্মকর্তাদের জন্য ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ, মেজর পদে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেলে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ২০২৪ সালে চালু করা বিশেষ প্রণোদনাটি নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাতিল হয়ে যাবে, যা প্রথমে ৫ শতাংশ এবং পরে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথ বাহিনী নির্দেশাবলি-২০২৬’ অনুমোদন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তৈরি করা কার্যবিবরণী অনুযায়ী, নতুন কাঠামোতেও বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। এতে গ্রেড-২০-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১-এর নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান বিবেচনা করে বেতন-ভাতা যৌক্তিক করার লক্ষ্যে এই নতুন কাঠামো আনা হয়েছে। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় এটি একবারে বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হবে।

নতুন পে-স্কেলের আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে বাড়ি ভাড়া ভাতায়। বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়া হলেও নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারে বর্তমানে ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশের পরিবর্তে বাড়ি ভাড়া দেওয়া হবে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। আর সিটি করপোরেশন ও সাভারের বাইরে এই হার ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ করা হচ্ছে। তবে শতাংশের হার কমলেও মূল বেতন দ্বিগুণ বা তার বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাতার প্রকৃত টাকার অঙ্ক বৃদ্ধি পাবে।

উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়সীমাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে পদোন্নতি না হলেও একই গ্রেডে ১০ বছর চাকরি করলে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যে নিয়ম রয়েছে, নতুন কাঠামোয় সেই সময় কমিয়ে ৮ বছর করা হচ্ছে। তবে দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে একই গ্রেডে ৬ বছর চাকরির শর্ত বহাল থাকবে। পদোন্নতিযোগ্য পদে কর্মরতরা চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইবার এই সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে, যেসব পদে পদোন্নতির সুযোগ নেই অর্থাৎ ‘ব্লকড পদ’, সেসব পদের কর্মচারীরা চাকরিজীবনে তিনবার উচ্চতর গ্রেড পাবেন। সেক্ষেত্রে প্রথমবার আট বছর, দ্বিতীয়বার আরও ছয় বছর এবং তৃতীয়বার পরবর্তী আট বছর চাকরির পর এই সুবিধা পাওয়া যাবে।

চিকিৎসা ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে বয়স অনুযায়ী এটি নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে সব কর্মচারী মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেলেও নতুন কাঠামোয় ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সিরা পাবেন ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সিরা পাবেন ৪ হাজার টাকা। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সিরা মাসে ৫ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সিরা ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। এছাড়া প্রথমবারের মতো সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমানে শুধু প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা মোবাইল বিল পেলেও নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের জন্য মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতার প্রস্তাব করা হয়েছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হচ্ছে। তবে বাংলা নববর্ষ ভাতা ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাহাড়ি ভাতা এবং হাওড়, দ্বীপ ও চরভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশই থাকছে, তবে এগুলোর একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। এছাড়া ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পরিমাণ বিদ্যমান হারের চেয়ে ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতার কাঠামোও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষা সহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, কুক অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যালাউন্স, উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি-বিনোদন ভাতার বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত থাকবে।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিদ্যমান ৮১ ধরনের ভাতা পর্যালোচনা করেছে সচিব কমিটি। এর মধ্যে অফিসার ও সাধারণ সদস্যদের জন্য প্রতিরক্ষা ভাতা, কিট ভাতা, ডেঞ্জার মানি, দোভাষী ভাতা ও শিক্ষকতা ভাতাসহ বেশিরভাগ ভাতা বিদ্যমান পরিমাণের ওপর ১০ শতাংশ বাড়তে পারে এবং জরিপ ভাতা বাড়তে পারে ৩০ শতাংশ। তবে বাড়ি ভাড়া, যাতায়াত, কার্যভার, আপ্যায়ন, টিফিন, ধোলাই, পাহাড়ি, উৎসব, শ্রান্তি-বিনোদন, নববর্ষ, শিক্ষা সহায়ক, চিকিৎসা ও প্রেষণ ভাতা নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের অনুরূপ হবে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন এই কাঠামোর ফলে দেশের প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক নিয়মিত কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও যোগ্য সুবিধাভোগীরা উপকৃত হবেন।