লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেট্রোরেলের নতুন অবকাঠামো নির্মাণে ৪৬ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব অনুমোদন

রাজধানীর ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে লাইন-১ ও লাইন-৫-এর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের আটটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে লাইন-১-এর চারটি ও লাইন-৫-এর একটি প্যাকেজের পূর্তকাজ রয়েছে। এছাড়া আরও তিনটি প্যাকেজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

লাইন-১-এর সিপি-০৬ প্যাকেজের আওতায় বাড্ডা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণ করা হবে। এতে দুটি সুড়ঙ্গ এবং বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ ও খিলক্ষেত—এই তিনটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ভ্যাট ও করসহ এই কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। জাপানের নিশিমাতসু, টিপিএল ও টোডার যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে, যাদের দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে ৩২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেশি। একই লাইনের সিপি-০৯ প্যাকেজে ট্র্যাক ও বৈদ্যুতিক সুবিধা স্থাপনের জন্য ভারতের এলঅ্যান্ডটি ও সুমিতোমোর যৌথ উদ্যোগকে সুপারিশ করা হয়েছে। ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে তাদের দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে ৪৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি।

সিপি-১০ প্যাকেজের আওতায় সংকেত ও টেলিযোগাযোগব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্মের পর্দা-দরজা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম স্থাপনের কাজ দেওয়া হচ্ছে ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রোকে। ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্যাকেজটির দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে ৫০ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি। এছাড়া সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর ওয়ার্কশপ, স্টাবিলিং শেড এবং অপারেশন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ৪ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে, যা সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগকে দেওয়া হয়েছে। সিপি-০৪ প্যাকেজে রামপুরা থেকে নতুনবাজার পর্যন্ত লাইন ও স্টেশন নির্মাণের জন্য ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে টোকিউ-মিল যৌথ উদ্যোগকে এবং সিপি-০৭ প্যাকেজে সিআরইসি-মিল-এমবিইসি যৌথ উদ্যোগকে ২ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকায় কাজ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০৩ প্যাকেজে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার ও নতুনবাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ এবং পাঁচটি স্টেশন নির্মাণের জন্য ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। চীনের সিআরইসি, এমআইএল ও এমবিইএলের যৌথ উদ্যোগকে এই কাজের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে, যাদের দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি। এছাড়া একই রুটের সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণের জন্য ১ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম ও হ্যানিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, লাইন-১ ও লাইন-৫-এর প্রথম সংশোধিত প্রকল্প গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত হয়েছে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্প দুটির মেয়াদ ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) যৌথভাবে এই প্রকল্প দুটিতে অর্থায়ন করছে। লাইন-৫ রুটটি গাবতলী থেকে শুরু হয়ে কারওয়ান বাজার ও আফতাবনগর হয়ে দাসেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। অন্যদিকে লাইন-১ বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত দুটি রুটে নির্মিত হচ্ছে।

রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিংয়ের পাশাপাশি ১৩২ কেভি প্রাথমিক ফিডার, রিসিভিং উপকেন্দ্র, সহায়ক উপকেন্দ্র, ৩৩/০.৪১৫ কেভি বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং ১ হাজার ৫০০ ভোল্টের ওভারহেড বিদ্যুৎব্যবস্থা থাকবে।এ কাজে ব্যয় হবে ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেনীতে দেশের প্রথম সরকারি রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মেট্রোরেলের নতুন অবকাঠামো নির্মাণে ৪৬ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব অনুমোদন

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে লাইন-১ ও লাইন-৫-এর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের আটটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে লাইন-১-এর চারটি ও লাইন-৫-এর একটি প্যাকেজের পূর্তকাজ রয়েছে। এছাড়া আরও তিনটি প্যাকেজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

লাইন-১-এর সিপি-০৬ প্যাকেজের আওতায় বাড্ডা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণ করা হবে। এতে দুটি সুড়ঙ্গ এবং বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ ও খিলক্ষেত—এই তিনটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ভ্যাট ও করসহ এই কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। জাপানের নিশিমাতসু, টিপিএল ও টোডার যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে, যাদের দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে ৩২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেশি। একই লাইনের সিপি-০৯ প্যাকেজে ট্র্যাক ও বৈদ্যুতিক সুবিধা স্থাপনের জন্য ভারতের এলঅ্যান্ডটি ও সুমিতোমোর যৌথ উদ্যোগকে সুপারিশ করা হয়েছে। ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে তাদের দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে ৪৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি।

সিপি-১০ প্যাকেজের আওতায় সংকেত ও টেলিযোগাযোগব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্মের পর্দা-দরজা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম স্থাপনের কাজ দেওয়া হচ্ছে ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রোকে। ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্যাকেজটির দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে ৫০ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি। এছাড়া সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর ওয়ার্কশপ, স্টাবিলিং শেড এবং অপারেশন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ৪ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে, যা সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগকে দেওয়া হয়েছে। সিপি-০৪ প্যাকেজে রামপুরা থেকে নতুনবাজার পর্যন্ত লাইন ও স্টেশন নির্মাণের জন্য ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে টোকিউ-মিল যৌথ উদ্যোগকে এবং সিপি-০৭ প্যাকেজে সিআরইসি-মিল-এমবিইসি যৌথ উদ্যোগকে ২ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকায় কাজ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০৩ প্যাকেজে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার ও নতুনবাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ এবং পাঁচটি স্টেশন নির্মাণের জন্য ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। চীনের সিআরইসি, এমআইএল ও এমবিইএলের যৌথ উদ্যোগকে এই কাজের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে, যাদের দর সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি। এছাড়া একই রুটের সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণের জন্য ১ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিয়াম ও হ্যানিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, লাইন-১ ও লাইন-৫-এর প্রথম সংশোধিত প্রকল্প গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত হয়েছে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্প দুটির মেয়াদ ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) যৌথভাবে এই প্রকল্প দুটিতে অর্থায়ন করছে। লাইন-৫ রুটটি গাবতলী থেকে শুরু হয়ে কারওয়ান বাজার ও আফতাবনগর হয়ে দাসেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। অন্যদিকে লাইন-১ বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত দুটি রুটে নির্মিত হচ্ছে।

রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিংয়ের পাশাপাশি ১৩২ কেভি প্রাথমিক ফিডার, রিসিভিং উপকেন্দ্র, সহায়ক উপকেন্দ্র, ৩৩/০.৪১৫ কেভি বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং ১ হাজার ৫০০ ভোল্টের ওভারহেড বিদ্যুৎব্যবস্থা থাকবে।এ কাজে ব্যয় হবে ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।