লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিবার ও সমাজে ইসলামি শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে ইসলামি শিক্ষা এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইসলামি শিক্ষার মূল ভিত্তি হলো আল-কোরআন ও হাদিস। পবিত্র কোরআনের সুরা তাহরিমে আল্লাহতায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, 'হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।' এই আয়াতটি স্পষ্ট করে দেয় যে, ইসলামি শিক্ষার চর্চা ও প্রচলন পরিবার থেকেই শুরু হওয়া জরুরি।

অভিভাবকদের জন্য তাদের সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই দ্বীনি শিক্ষা দেওয়া অপরিহার্য। এর মাধ্যমে সন্তানরা নৈতিকভাবে গড়ে ওঠে এবং ভবিষ্যতে জাতির কাছে ইসলামের আদর্শ তুলে ধরতে সক্ষম হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, 'তোমরা প্রত্যেকে একজন দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে' (বোখারি ও মুসলিম)। অভিভাবকরা যদি নিজেরা ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত হন এবং তা নিজ জীবনে অনুসরণ করেন, তবে সন্তানরা সহজেই সেই শিক্ষায় বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়।

পরিবার ও সমাজে ইসলামি শিক্ষার চর্চা সন্তানদের সঠিক ও ভুলের পার্থক্য করতে শেখায়। এটি বড়দের প্রতি সম্মান এবং ছোটদের প্রতি সহানুভূতি গড়ে তোলে। সুরা লুকমানের ১৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা শিখিয়েছেন, 'হে আমার বৎস, তুমি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করো না, নিশ্চয়ই শিরক মহা অন্যায়।' এছাড়া সুরা লুকমানের ১৭ নম্বর আয়াতে সালাত কায়েম, সৎকাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার উপদেশ দেওয়া হয়েছে, যা একটি আদর্শ পরিবারের রূপরেখা তৈরি করে।

ইসলামি শিক্ষা সমাজে ইনসাফ, দয়া, মানবতা, সহযোগিতা ও সহনশীলতার মতো গুণাবলি শিক্ষা দেয়। আল্লাহতায়ালা সুরা নাহলের ৯০ নম্বর আয়াতে ন্যায়বিচার, সদাচরণ এবং আত্মীয়স্বজনকে তাদের হক প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী অনুসরণ করাই প্রকৃত ইসলামি শিক্ষা। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, 'যে কোনো ভালো কাজের দিকনির্দেশনা দেয়, তার জন্য ওই কাজকারীর সমান সওয়াব রয়েছে' (মুসলিম: ১৮৯৩)। এছাড়া পরিবার-পরিজনের জন্য উত্তম ব্যক্তিকেই শ্রেষ্ঠ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামি শিক্ষার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

আল্লাহতায়ালা বলেছেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ আদেশ দেন ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়স্বজনকে তাদের হক প্রদান করতে।' (সুরা নাহল : ৯০)। তিনি আরও বলেছেন, 'নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ।' (সুরা আহজাব : ২১)। পরিবার ও সমাজে রাসুল (সা.)-এর জীবনী অনুসরণ করাই প্রকৃত ইসলামি শিক্ষা। তিনি আরও বলেছেন, 'হে বৎ

এক আদর্শ পিতা কীভাবে সন্তানকে উপদেশ দিচ্ছেন, তা এই আয়াতে স্পষ্ট। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যে কোনো ভালো কাজের দিকনির্দেশনা দেয়, তার জন্য ওই কাজকারীর সমান সওয়াব রয়েছে।' (মুসলিম : ১৮৯৩)। 'তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবার-পরিজনের জন্য উত্তম। আর আমি আমার পরিবারের জন্য তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।' (তিরমিজি : ৩৮৯৫)

জনপ্রিয় সংবাদ

রিয়াদের বিমানবন্দরে হুতি হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত

পরিবার ও সমাজে ইসলামি শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০০:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে ইসলামি শিক্ষা এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইসলামি শিক্ষার মূল ভিত্তি হলো আল-কোরআন ও হাদিস। পবিত্র কোরআনের সুরা তাহরিমে আল্লাহতায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, 'হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।' এই আয়াতটি স্পষ্ট করে দেয় যে, ইসলামি শিক্ষার চর্চা ও প্রচলন পরিবার থেকেই শুরু হওয়া জরুরি।

অভিভাবকদের জন্য তাদের সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই দ্বীনি শিক্ষা দেওয়া অপরিহার্য। এর মাধ্যমে সন্তানরা নৈতিকভাবে গড়ে ওঠে এবং ভবিষ্যতে জাতির কাছে ইসলামের আদর্শ তুলে ধরতে সক্ষম হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, 'তোমরা প্রত্যেকে একজন দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে' (বোখারি ও মুসলিম)। অভিভাবকরা যদি নিজেরা ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত হন এবং তা নিজ জীবনে অনুসরণ করেন, তবে সন্তানরা সহজেই সেই শিক্ষায় বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়।

পরিবার ও সমাজে ইসলামি শিক্ষার চর্চা সন্তানদের সঠিক ও ভুলের পার্থক্য করতে শেখায়। এটি বড়দের প্রতি সম্মান এবং ছোটদের প্রতি সহানুভূতি গড়ে তোলে। সুরা লুকমানের ১৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা শিখিয়েছেন, 'হে আমার বৎস, তুমি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করো না, নিশ্চয়ই শিরক মহা অন্যায়।' এছাড়া সুরা লুকমানের ১৭ নম্বর আয়াতে সালাত কায়েম, সৎকাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার উপদেশ দেওয়া হয়েছে, যা একটি আদর্শ পরিবারের রূপরেখা তৈরি করে।

ইসলামি শিক্ষা সমাজে ইনসাফ, দয়া, মানবতা, সহযোগিতা ও সহনশীলতার মতো গুণাবলি শিক্ষা দেয়। আল্লাহতায়ালা সুরা নাহলের ৯০ নম্বর আয়াতে ন্যায়বিচার, সদাচরণ এবং আত্মীয়স্বজনকে তাদের হক প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী অনুসরণ করাই প্রকৃত ইসলামি শিক্ষা। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, 'যে কোনো ভালো কাজের দিকনির্দেশনা দেয়, তার জন্য ওই কাজকারীর সমান সওয়াব রয়েছে' (মুসলিম: ১৮৯৩)। এছাড়া পরিবার-পরিজনের জন্য উত্তম ব্যক্তিকেই শ্রেষ্ঠ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামি শিক্ষার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

আল্লাহতায়ালা বলেছেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ আদেশ দেন ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়স্বজনকে তাদের হক প্রদান করতে।' (সুরা নাহল : ৯০)। তিনি আরও বলেছেন, 'নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ।' (সুরা আহজাব : ২১)। পরিবার ও সমাজে রাসুল (সা.)-এর জীবনী অনুসরণ করাই প্রকৃত ইসলামি শিক্ষা। তিনি আরও বলেছেন, 'হে বৎ

এক আদর্শ পিতা কীভাবে সন্তানকে উপদেশ দিচ্ছেন, তা এই আয়াতে স্পষ্ট। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যে কোনো ভালো কাজের দিকনির্দেশনা দেয়, তার জন্য ওই কাজকারীর সমান সওয়াব রয়েছে।' (মুসলিম : ১৮৯৩)। 'তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবার-পরিজনের জন্য উত্তম। আর আমি আমার পরিবারের জন্য তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।' (তিরমিজি : ৩৮৯৫)