লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলন থামবে না: সিজেপি

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলমান আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সরকারের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার সুযোগ তৈরি হলেও দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া এই আন্দোলনের কোনো সমাধান সম্ভব নয়। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

সরকারের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার টেবিলে বসার আগেই সাংবাদিকদের কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন দিপকে। তিনি বলেন, সরকার যদি সত্যিই এই আন্দোলনের সমাধান চায়, তবে একমাত্র পথ হলো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। নিজের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, তারা কোনোভাবেই পিছু হটবেন না এবং পদত্যাগের চেয়ে কম কোনো কিছুই তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

২৬ দিনের অনশন ভেঙে দেওয়া সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক যদি আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান, সেক্ষেত্রে দলটির অবস্থান কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবেও দিপকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, এই আন্দোলন এখন আর শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই, এটি সারা দেশের তরুণদের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। তাই পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো আপস করা সম্ভব নয়।

আলোচনার ভেন্যু নিয়ে শুরু থেকেই টানাপড়েন ছিল। সরকার প্রথমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সরকারি বাসভবনকে আলোচনার স্থান হিসেবে প্রস্তাব করেছিল। তবে সিজেপি জানিয়ে দেয়, যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থল কিংবা নিরপেক্ষ কোনো স্থান ছাড়া তারা আলোচনায় বসবে না। শেষ পর্যন্ত সরকার অবস্থান পরিবর্তন করলে বৈঠকটি নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়। সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকার তাদের দাবি মেনে নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনায় রাজি হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট এবং আশা করছেন সরকার খোলা মনে জনগণের কথা শুনবে।

এর আগে গত ২০ জুলাই জে.পি. নাড্ডার বাসভবনে প্রথম দফা বৈঠকের পর সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেছিলেন যে, সেখানে তাদের কার্যত ভার্চুয়ালি গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। সে ঘটনার পর থেকেই তারা নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তায় আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ প্রসঙ্গে কোনো উল্লেখ ছিল না। এই বিষয়ে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের ঘোষণা নতুন কিছু নয়, কিন্তু এটি শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যার সমাধান দিতে পারে না।

আন্দোলনকারীদের শান্ত করতে সরকার বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বিনীত জোশিকে সরিয়ে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ে বদলি করে এবং স্কুল ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে মন্ত্রিসভার বৈঠকে একটি আইন চূড়ান্ত করা হবে এবং আগামী সপ্তাহেই সংসদে এসংক্রান্ত বিল উত্থাপন করা হবে। ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও সিজেপির এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি অব্যাহত রেখেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান-ওমান আলোচনার খবরে তেলের দাম হ্রাস

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলন থামবে না: সিজেপি

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:২০:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলমান আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সরকারের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার সুযোগ তৈরি হলেও দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া এই আন্দোলনের কোনো সমাধান সম্ভব নয়। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

সরকারের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার টেবিলে বসার আগেই সাংবাদিকদের কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন দিপকে। তিনি বলেন, সরকার যদি সত্যিই এই আন্দোলনের সমাধান চায়, তবে একমাত্র পথ হলো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। নিজের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, তারা কোনোভাবেই পিছু হটবেন না এবং পদত্যাগের চেয়ে কম কোনো কিছুই তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

২৬ দিনের অনশন ভেঙে দেওয়া সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক যদি আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান, সেক্ষেত্রে দলটির অবস্থান কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবেও দিপকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, এই আন্দোলন এখন আর শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই, এটি সারা দেশের তরুণদের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। তাই পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো আপস করা সম্ভব নয়।

আলোচনার ভেন্যু নিয়ে শুরু থেকেই টানাপড়েন ছিল। সরকার প্রথমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সরকারি বাসভবনকে আলোচনার স্থান হিসেবে প্রস্তাব করেছিল। তবে সিজেপি জানিয়ে দেয়, যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থল কিংবা নিরপেক্ষ কোনো স্থান ছাড়া তারা আলোচনায় বসবে না। শেষ পর্যন্ত সরকার অবস্থান পরিবর্তন করলে বৈঠকটি নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়। সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকার তাদের দাবি মেনে নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনায় রাজি হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট এবং আশা করছেন সরকার খোলা মনে জনগণের কথা শুনবে।

এর আগে গত ২০ জুলাই জে.পি. নাড্ডার বাসভবনে প্রথম দফা বৈঠকের পর সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেছিলেন যে, সেখানে তাদের কার্যত ভার্চুয়ালি গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। সে ঘটনার পর থেকেই তারা নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তায় আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ প্রসঙ্গে কোনো উল্লেখ ছিল না। এই বিষয়ে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের ঘোষণা নতুন কিছু নয়, কিন্তু এটি শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যার সমাধান দিতে পারে না।

আন্দোলনকারীদের শান্ত করতে সরকার বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বিনীত জোশিকে সরিয়ে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ে বদলি করে এবং স্কুল ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে মন্ত্রিসভার বৈঠকে একটি আইন চূড়ান্ত করা হবে এবং আগামী সপ্তাহেই সংসদে এসংক্রান্ত বিল উত্থাপন করা হবে। ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও সিজেপির এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি অব্যাহত রেখেছে।