লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাইব্যুনালে ইয়ামিন ও একরাম হত্যায় দুই অভিযোগপত্র দাখিল

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাভারে এপিসি থেকে ফেলে আসহাবুল ইয়ামিনকে হত্যা এবং ২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হককে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দুটি পৃথক আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ দুটি আমলে নিয়ে গ্রেপ্তার আসামিদের সংশ্লিষ্ট মামলায় সোপর্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আগামী ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।

রোববার অভিযোগ দাখিল শেষে চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্ত সংস্থার জমা দেওয়া ১২টি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে অভিযোগপত্র দাখিল করা হচ্ছে। আসহাবুল ইয়ামিনকে এপিসিতে গুলি করে ওপর থেকে ফেলে দেওয়া এবং পরে টেনে-হিঁচড়ে রাস্তার পাশে ফেলে রাখার ভিডিওর ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এই ঘটনার ভিডিওচিত্র পর্যালোচনা করেছেন।

কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওবায়দুল কাদের, আব্দুর রহমান বদি ও বেনজীর আহমেদসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, একরামের মোবাইল ফোনে ধারণ হওয়া অডিও এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক আলামতের ভিত্তিতে এই অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেজর (অব.) রুহুল আমিন ওরফে রাজন এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশিকুর রহমান ওরফে সৈকত সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন, আর অন্য কর্মকর্তারা পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন।

দুই মামলার একটিতে চাকরিরত এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে আপাতত তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান এ সময় মন্তব্য করেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর সদস্যরা এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এছাড়া ট্রাইব্যুনালে সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর সাজ্জাদ সাক্ষ্য দিয়ে জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে সংঘটিত একাধিক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন। সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার তার গবেষণাভিত্তিক বই আদালতে আলামত হিসেবে উপস্থাপন করে আংশিক সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে চিফ প্রসিকিউটর জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিয়াকৈরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, চালক নিহত

ট্রাইব্যুনালে ইয়ামিন ও একরাম হত্যায় দুই অভিযোগপত্র দাখিল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাভারে এপিসি থেকে ফেলে আসহাবুল ইয়ামিনকে হত্যা এবং ২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হককে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দুটি পৃথক আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ দুটি আমলে নিয়ে গ্রেপ্তার আসামিদের সংশ্লিষ্ট মামলায় সোপর্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আগামী ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।

রোববার অভিযোগ দাখিল শেষে চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্ত সংস্থার জমা দেওয়া ১২টি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে অভিযোগপত্র দাখিল করা হচ্ছে। আসহাবুল ইয়ামিনকে এপিসিতে গুলি করে ওপর থেকে ফেলে দেওয়া এবং পরে টেনে-হিঁচড়ে রাস্তার পাশে ফেলে রাখার ভিডিওর ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এই ঘটনার ভিডিওচিত্র পর্যালোচনা করেছেন।

কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওবায়দুল কাদের, আব্দুর রহমান বদি ও বেনজীর আহমেদসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, একরামের মোবাইল ফোনে ধারণ হওয়া অডিও এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক আলামতের ভিত্তিতে এই অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেজর (অব.) রুহুল আমিন ওরফে রাজন এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশিকুর রহমান ওরফে সৈকত সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন, আর অন্য কর্মকর্তারা পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন।

দুই মামলার একটিতে চাকরিরত এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে আপাতত তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান এ সময় মন্তব্য করেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর সদস্যরা এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এছাড়া ট্রাইব্যুনালে সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর সাজ্জাদ সাক্ষ্য দিয়ে জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে সংঘটিত একাধিক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন। সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার তার গবেষণাভিত্তিক বই আদালতে আলামত হিসেবে উপস্থাপন করে আংশিক সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে চিফ প্রসিকিউটর জানান।