লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ৪

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর এবং পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মামলার ১ নম্বর আসামি ইদ্রিস ফকির, তার স্ত্রী হাসিনা বেগম, রাব্বি ফকির এবং ইয়াসিন আক্তার। তাদের সবার বাড়ি আগৈলঝাড়ার ফুলশ্রী এলাকায়। রবিবার দুপুরে আগৈলঝাড়া থানা কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খাঁন জানান, শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশের সহায়তায় এই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার তাদের আগৈলঝাড়ায় নিয়ে আসার পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর পাশাপাশি রবিবার সকালে থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে নুরু মিয়া নামে এই মামলার আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় চুরির অভিযোগে রিয়াজ ফকির নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে থানা হাজতে রাখা হয়। রাত ১১টার দিকে হাজতখানার গ্রিলে নিজের মাথা ঠুকে রিয়াজ জখম হন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে রিয়াজের নিজ গ্রামে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, পুলিশের নির্যাতনে তিনি মারা গেছেন। এই গুজবের জেরে বিকেল ৪টার দিকে দুই থেকে তিনশ বিক্ষুব্ধ নারী-পুরুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে থানায় অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা থানার বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করেন এবং এএসআই আব্দুল হালিমসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে আহত করেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের তীব্র সংঘর্ষ হয়।

এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং পুলিশ অভিযান চালিয়ে রিয়াজের বাবা ও বোনসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হওয়ার পর গত শুক্রবার মূল অভিযুক্ত রিয়াজকেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আগৈলঝাড়া থানার এএসআই আল-আমিন জানান, রিয়াজ একজন চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা এবং তার বিরুদ্ধে থানায় অন্তত তিনটি মাদকের মামলা রয়েছে। এর আগেও র‍্যাব ও পুলিশের হাতে মাদকসহ তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এমনকি হাসপাতাল থেকে আদালতে নেওয়ার পথেও রিয়াজ গাড়ির ভেতরে নিজের মাথায় আঘাত করছিলেন এবং পুলিশকে হুমকি দিচ্ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেনী হাসপাতালে এমপিদের নিয়ে অশোভন মন্তব্য, ৪ নার্সকে শোকজ

বরিশালে থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ৪

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর এবং পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মামলার ১ নম্বর আসামি ইদ্রিস ফকির, তার স্ত্রী হাসিনা বেগম, রাব্বি ফকির এবং ইয়াসিন আক্তার। তাদের সবার বাড়ি আগৈলঝাড়ার ফুলশ্রী এলাকায়। রবিবার দুপুরে আগৈলঝাড়া থানা কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খাঁন জানান, শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশের সহায়তায় এই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার তাদের আগৈলঝাড়ায় নিয়ে আসার পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর পাশাপাশি রবিবার সকালে থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে নুরু মিয়া নামে এই মামলার আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় চুরির অভিযোগে রিয়াজ ফকির নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে থানা হাজতে রাখা হয়। রাত ১১টার দিকে হাজতখানার গ্রিলে নিজের মাথা ঠুকে রিয়াজ জখম হন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে রিয়াজের নিজ গ্রামে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, পুলিশের নির্যাতনে তিনি মারা গেছেন। এই গুজবের জেরে বিকেল ৪টার দিকে দুই থেকে তিনশ বিক্ষুব্ধ নারী-পুরুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে থানায় অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা থানার বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করেন এবং এএসআই আব্দুল হালিমসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে আহত করেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের তীব্র সংঘর্ষ হয়।

এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং পুলিশ অভিযান চালিয়ে রিয়াজের বাবা ও বোনসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হওয়ার পর গত শুক্রবার মূল অভিযুক্ত রিয়াজকেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আগৈলঝাড়া থানার এএসআই আল-আমিন জানান, রিয়াজ একজন চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা এবং তার বিরুদ্ধে থানায় অন্তত তিনটি মাদকের মামলা রয়েছে। এর আগেও র‍্যাব ও পুলিশের হাতে মাদকসহ তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এমনকি হাসপাতাল থেকে আদালতে নেওয়ার পথেও রিয়াজ গাড়ির ভেতরে নিজের মাথায় আঘাত করছিলেন এবং পুলিশকে হুমকি দিচ্ছিলেন।