লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআই কি মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে? সতর্কবার্তা গবেষকদের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কি অদূর ভবিষ্যতে মানবজাতিকে বিলুপ্ত করে দিতে পারে? এমন এক উদ্বেগজনক প্রশ্ন সামনে এনেছেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক অধ্যাপক টবি ওয়ালশ। গত ২২ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য কনভারসেশন’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এআই নিয়ে নিজের আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। সিএসআইআরওর ডেটা৬১-এর এই গবেষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণার জন্য সেলেস্টিনো ইউরেকা পুরস্কারসহ একাধিক সম্মাননা পেয়েছেন এবং তাঁর লেখা ‘গড এআই: বুম অর ডুম? হোয়াট টু এক্সপেক্ট হোয়েন মেশিনস আউটস্মার্ট আস’ বইটি বর্তমানে বেশ আলোচিত।

এআই নিয়ে এই ভয়ের বাতাবরণ আরও ঘনীভূত হয়েছে এআই গবেষক জ্যাকব কক্সনের সাম্প্রতিক পদত্যাগের পর। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শুরুতে অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগ করার সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, এআই কারিগরেরা বিশ্বাস করেন যে এই দশকের শেষ নাগাদ এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করে ফেলতে পারে। কক্সনের এই মতের সাথে একমত পোষণ করেছেন অ্যানথ্রপিকের জ্যেষ্ঠ কর্মী ইভান হুবিঙ্গার, যিনি মনে করেন আগামী এক দশকে এমনটা ঘটার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি। এই ধরনের মন্তব্যের ফলে এআই গবেষণার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তির ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মূলত ‘সুপারইন্টেলিজেন্ট’ এআই বা মানুষের চেয়েও শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে চিন্তিত। তাঁদের মতে, একটি সুপারইন্টেলিজেন্স আমাদের চেয়ে কম বুদ্ধিমান প্রাণীদের ধ্বংস করতে কী করতে পারে, তা আগে থেকে অনুমান করা অসম্ভব। অক্সফোর্ডের দার্শনিক নিক বোস্ট্রমের মতে, একটি সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই যদি কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে মনোনিবেশ করে, তবে সে লক্ষ্য পূরণের পথে মানুষ বা পৃথিবীকেই বাধা হিসেবে গণ্য করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, পেপারক্লিপ তৈরির লক্ষ্য দেওয়া হলে এআইটি পৃথিবী ও নক্ষত্রকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে।

তবে বাস্তবে এমনটা ঘটা বেশ জটিল। যদিও পেপারক্লিপ তৈরির কারখানার মতো কাল্পনিক পরিস্থিতিতে আইনি বাধা বা জনমতের মতো বিষয়গুলো এআইকে থামিয়ে দিতে পারে, কিন্তু জৈব অস্ত্রের ঝুঁকিটি অনেক বেশি বাস্তব। গত মাসে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা জেনেটিক ভাষা মডেল ব্যবহার করে ১৬টি নতুন ভাইরাস সংশ্লেষণ করার ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও গবেষকেরা নিজেরা ভাইরাস তৈরি করেননি, বরং একটি বাণিজ্যিক পরীক্ষাগারকে সিকোয়েন্স পাঠিয়েছিলেন, তবুও এই প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য বড় হুমকি হতে পারে।

এআই যদি সামরিক পারমাণবিক অস্ত্রের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করে, তবে ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যদিও বিশ্বের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত আগের চেয়ে কমেছে, তবুও তা পৃথিবীর অর্ধেক মানুষকে মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট। সবশেষে, সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মাধ্যমেও এআই আমাদের ধ্বংসের কারণ হতে পারে, যেখানে বড় পরিসরে মানুষের জীবন টিকিয়ে রাখার সক্ষমতাই নষ্ট হয়ে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রায়গঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এমপি আয়নুল হকের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

এআই কি মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে? সতর্কবার্তা গবেষকদের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০০:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কি অদূর ভবিষ্যতে মানবজাতিকে বিলুপ্ত করে দিতে পারে? এমন এক উদ্বেগজনক প্রশ্ন সামনে এনেছেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক অধ্যাপক টবি ওয়ালশ। গত ২২ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য কনভারসেশন’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এআই নিয়ে নিজের আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। সিএসআইআরওর ডেটা৬১-এর এই গবেষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণার জন্য সেলেস্টিনো ইউরেকা পুরস্কারসহ একাধিক সম্মাননা পেয়েছেন এবং তাঁর লেখা ‘গড এআই: বুম অর ডুম? হোয়াট টু এক্সপেক্ট হোয়েন মেশিনস আউটস্মার্ট আস’ বইটি বর্তমানে বেশ আলোচিত।

এআই নিয়ে এই ভয়ের বাতাবরণ আরও ঘনীভূত হয়েছে এআই গবেষক জ্যাকব কক্সনের সাম্প্রতিক পদত্যাগের পর। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শুরুতে অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগ করার সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, এআই কারিগরেরা বিশ্বাস করেন যে এই দশকের শেষ নাগাদ এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করে ফেলতে পারে। কক্সনের এই মতের সাথে একমত পোষণ করেছেন অ্যানথ্রপিকের জ্যেষ্ঠ কর্মী ইভান হুবিঙ্গার, যিনি মনে করেন আগামী এক দশকে এমনটা ঘটার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি। এই ধরনের মন্তব্যের ফলে এআই গবেষণার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তির ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মূলত ‘সুপারইন্টেলিজেন্ট’ এআই বা মানুষের চেয়েও শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে চিন্তিত। তাঁদের মতে, একটি সুপারইন্টেলিজেন্স আমাদের চেয়ে কম বুদ্ধিমান প্রাণীদের ধ্বংস করতে কী করতে পারে, তা আগে থেকে অনুমান করা অসম্ভব। অক্সফোর্ডের দার্শনিক নিক বোস্ট্রমের মতে, একটি সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই যদি কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে মনোনিবেশ করে, তবে সে লক্ষ্য পূরণের পথে মানুষ বা পৃথিবীকেই বাধা হিসেবে গণ্য করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, পেপারক্লিপ তৈরির লক্ষ্য দেওয়া হলে এআইটি পৃথিবী ও নক্ষত্রকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে।

তবে বাস্তবে এমনটা ঘটা বেশ জটিল। যদিও পেপারক্লিপ তৈরির কারখানার মতো কাল্পনিক পরিস্থিতিতে আইনি বাধা বা জনমতের মতো বিষয়গুলো এআইকে থামিয়ে দিতে পারে, কিন্তু জৈব অস্ত্রের ঝুঁকিটি অনেক বেশি বাস্তব। গত মাসে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা জেনেটিক ভাষা মডেল ব্যবহার করে ১৬টি নতুন ভাইরাস সংশ্লেষণ করার ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও গবেষকেরা নিজেরা ভাইরাস তৈরি করেননি, বরং একটি বাণিজ্যিক পরীক্ষাগারকে সিকোয়েন্স পাঠিয়েছিলেন, তবুও এই প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য বড় হুমকি হতে পারে।

এআই যদি সামরিক পারমাণবিক অস্ত্রের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করে, তবে ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যদিও বিশ্বের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত আগের চেয়ে কমেছে, তবুও তা পৃথিবীর অর্ধেক মানুষকে মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট। সবশেষে, সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মাধ্যমেও এআই আমাদের ধ্বংসের কারণ হতে পারে, যেখানে বড় পরিসরে মানুষের জীবন টিকিয়ে রাখার সক্ষমতাই নষ্ট হয়ে যাবে।