লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর এই শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো ইউরোপের দলটি। অন্যদিকে, নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি ছিল আর্জেন্টিনার সামনে, যা পূরণ হলো না।

নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের ১০৫ মিনিটে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ফেররান তরেস। বক্সের বাইরে থেকে নিকো উইলিয়ামসের বাড়ানো বল ফাঁকায় পেয়ে আগুনে এক শটে জালে জড়ান তিনি। এই গোলের পর শিরোপা থেকে মাত্র ১৪ মিনিটের দূরত্বে ছিল স্পেন। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে স্প্যানিশরা।

ম্যাচের আগে দুই দলের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক মারিও আলবার্তো কেম্পেস (আর্জেন্টিনা, ১৯৭৮) এবং আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা (স্পেন, ২০১০) শিরোপা উঁচিয়ে ধরেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হেলিকপ্টারে চড়ে নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে আসেন এবং ফাইনাল শুরু থেকেই উপস্থিত ছিলেন। তার হাতেই জয়ী দলের হাতে শিরোপা তুলে দেওয়ার কথা ছিল।

আর্জেন্টিনা এই ফাইনালে তিনটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছিল। নাহুয়েল মলিনার জায়গায় গঞ্জালো মন্তিয়েল, জুলিয়ানো সিমিওনের জায়গায় রদ্রিগো দে পল এবং ফিটনেস সমস্যায় থাকা লিয়ান্দ্রো পারেদেসের জায়গায় নিকোলাস গঞ্জালেস একাদশে সুযোগ পান। স্পেনের একাদশে ছিলেন সিমন, পোরো, কুবারসি, লাপোর্তে, কুকুরেয়া, রদ্রি, রুইজ, ইয়ামাল, ওলমো, বায়েণা এবং ওইয়েরজাবাল।

ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন ছিল শ্রেয়তর দল। প্রথমার্ধের শুরুর দিকেই, পঞ্চম মিনিটে স্পেনের লামিন ইয়ামাল গোলের খুব কাছাকাছি চলে যান, তবে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দারুণভাবে তা ঠেকিয়ে দেন। প্রথমার্ধের হাইড্রেসন ব্রেকের আগে স্পেনের বল পজেশন ছিল ৬৫ শতাংশ এবং তারা একটি শটও নিয়েছিল। মাঝমাঠে পারেদেসের অনুপস্থিতি ভালোভাবেই টের পাচ্ছিল আর্জেন্টিনা, স্পেনের ৪ জনের মিডফিল্ড তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে রেখেছিল।

৩৮ মিনিটে মিকেল ওইয়েরজাবালের জোরালো শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন এমি মার্তিনেজ। ৪০ মিনিটে স্পেনের প্রতি আক্রমণে ফাউল করে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ হলুদ কার্ড দেখেন। এর কিছুক্ষণ পরেই ৪৪ মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, তার বদলে মাঠে নামেন নিকলাস ওতামেন্দি। মার্ক কুকুরেয়ার বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধ গোলশূন্য (০-০) স্কোরলাইনে শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনি নিকো গনজালেসকে তুলে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে মাঠে নামান। পারেদেস এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬০ মিনিট খেলে ইংলিশদের মাঝমাঠ নিস্ক্রিয় রেখেছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধের ২২ মিনিট পর্যন্তও স্পেনই ছিল শ্রেয়তর প্রতিপক্ষ, আর্জেন্টিনা কোনোমতে তাদের ঠেকিয়ে রাখছিল। এই সময়ে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।

দানি অলমোর আক্রমণে কুকুরেয়ার জন্য কাটব্যাক করার আগেই গনজালো মন্তিয়েল দারুণভাবে বল ক্লিয়ার করে আর্জেন্টিনাকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন। এরপর এনজো ফার্নান্দেজ একটি প্রতি আক্রমণে অফ দ্য বলে রান নেওয়ার সময় রদ্রি এর্নান্দেজের সঙ্গে সংঘর্ষে মাটিতে পড়ে যান, রেফারি তাকে অভিনয়ের জন্য হলুদ কার্ড দেখান। পরে পাউ কুবারসির সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, ফলে আর্জেন্টিনা ১০ জনের দলে পরিণত হয়।

স্পেন গোলের আরও একটি সুযোগ পেয়েছিল যখন মিকেল মেরিনো বাম পাশ থেকে ভেসে আসা ক্রসে ফাঁকায় বল পেয়ে যান, কিন্তু তার ফ্রি হেডার লক্ষ্যের বাইরে দিয়ে চলে যায়। মেরিনোর শট ঠেকিয়ে দেওয়ার পর নিকো উইলিয়ামস ফিরতি শটে জালে বল জড়ালেও রেফারি তা বাতিল করে দেন, কারণ প্রথম শটের আগে মেরিনো নিকলাস ওতামেন্দিকে ফাউল করেছিলেন। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে লামিন ইয়ামালের নেওয়া ফ্রি কিকও মার্তিনেজের দারুণ সেভে আটকে যায়, যা আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল।

শুরুর ৪৫ মিনিটে আর্জেন্টিনা-স্পেনের কোনো দলই গোলের দেখা পেল না। ০-০ স্কোরলাইন নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর এই শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো ইউরোপের দলটি। অন্যদিকে, নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি ছিল আর্জেন্টিনার সামনে, যা পূরণ হলো না।

নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের ১০৫ মিনিটে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ফেররান তরেস। বক্সের বাইরে থেকে নিকো উইলিয়ামসের বাড়ানো বল ফাঁকায় পেয়ে আগুনে এক শটে জালে জড়ান তিনি। এই গোলের পর শিরোপা থেকে মাত্র ১৪ মিনিটের দূরত্বে ছিল স্পেন। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে স্প্যানিশরা।

ম্যাচের আগে দুই দলের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক মারিও আলবার্তো কেম্পেস (আর্জেন্টিনা, ১৯৭৮) এবং আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা (স্পেন, ২০১০) শিরোপা উঁচিয়ে ধরেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হেলিকপ্টারে চড়ে নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে আসেন এবং ফাইনাল শুরু থেকেই উপস্থিত ছিলেন। তার হাতেই জয়ী দলের হাতে শিরোপা তুলে দেওয়ার কথা ছিল।

আর্জেন্টিনা এই ফাইনালে তিনটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছিল। নাহুয়েল মলিনার জায়গায় গঞ্জালো মন্তিয়েল, জুলিয়ানো সিমিওনের জায়গায় রদ্রিগো দে পল এবং ফিটনেস সমস্যায় থাকা লিয়ান্দ্রো পারেদেসের জায়গায় নিকোলাস গঞ্জালেস একাদশে সুযোগ পান। স্পেনের একাদশে ছিলেন সিমন, পোরো, কুবারসি, লাপোর্তে, কুকুরেয়া, রদ্রি, রুইজ, ইয়ামাল, ওলমো, বায়েণা এবং ওইয়েরজাবাল।

ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন ছিল শ্রেয়তর দল। প্রথমার্ধের শুরুর দিকেই, পঞ্চম মিনিটে স্পেনের লামিন ইয়ামাল গোলের খুব কাছাকাছি চলে যান, তবে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দারুণভাবে তা ঠেকিয়ে দেন। প্রথমার্ধের হাইড্রেসন ব্রেকের আগে স্পেনের বল পজেশন ছিল ৬৫ শতাংশ এবং তারা একটি শটও নিয়েছিল। মাঝমাঠে পারেদেসের অনুপস্থিতি ভালোভাবেই টের পাচ্ছিল আর্জেন্টিনা, স্পেনের ৪ জনের মিডফিল্ড তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে রেখেছিল।

৩৮ মিনিটে মিকেল ওইয়েরজাবালের জোরালো শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন এমি মার্তিনেজ। ৪০ মিনিটে স্পেনের প্রতি আক্রমণে ফাউল করে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ হলুদ কার্ড দেখেন। এর কিছুক্ষণ পরেই ৪৪ মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, তার বদলে মাঠে নামেন নিকলাস ওতামেন্দি। মার্ক কুকুরেয়ার বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট দূরের পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধ গোলশূন্য (০-০) স্কোরলাইনে শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনি নিকো গনজালেসকে তুলে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে মাঠে নামান। পারেদেস এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬০ মিনিট খেলে ইংলিশদের মাঝমাঠ নিস্ক্রিয় রেখেছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধের ২২ মিনিট পর্যন্তও স্পেনই ছিল শ্রেয়তর প্রতিপক্ষ, আর্জেন্টিনা কোনোমতে তাদের ঠেকিয়ে রাখছিল। এই সময়ে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।

দানি অলমোর আক্রমণে কুকুরেয়ার জন্য কাটব্যাক করার আগেই গনজালো মন্তিয়েল দারুণভাবে বল ক্লিয়ার করে আর্জেন্টিনাকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন। এরপর এনজো ফার্নান্দেজ একটি প্রতি আক্রমণে অফ দ্য বলে রান নেওয়ার সময় রদ্রি এর্নান্দেজের সঙ্গে সংঘর্ষে মাটিতে পড়ে যান, রেফারি তাকে অভিনয়ের জন্য হলুদ কার্ড দেখান। পরে পাউ কুবারসির সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, ফলে আর্জেন্টিনা ১০ জনের দলে পরিণত হয়।

স্পেন গোলের আরও একটি সুযোগ পেয়েছিল যখন মিকেল মেরিনো বাম পাশ থেকে ভেসে আসা ক্রসে ফাঁকায় বল পেয়ে যান, কিন্তু তার ফ্রি হেডার লক্ষ্যের বাইরে দিয়ে চলে যায়। মেরিনোর শট ঠেকিয়ে দেওয়ার পর নিকো উইলিয়ামস ফিরতি শটে জালে বল জড়ালেও রেফারি তা বাতিল করে দেন, কারণ প্রথম শটের আগে মেরিনো নিকলাস ওতামেন্দিকে ফাউল করেছিলেন। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে লামিন ইয়ামালের নেওয়া ফ্রি কিকও মার্তিনেজের দারুণ সেভে আটকে যায়, যা আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল।

শুরুর ৪৫ মিনিটে আর্জেন্টিনা-স্পেনের কোনো দলই গোলের দেখা পেল না। ০-০ স্কোরলাইন নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে।