লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে জ্বালানি ও গ্যাস সংকটে হোটেল ব্যবসায় খাবারের দাম বৃদ্ধি

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকটের প্রভাবে বরিশালের হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। রান্নার খরচ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে খাবারের মূল্য সমন্বয় করছেন অথবা খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন। বর্তমানে নগরীর হোটেলগুলোতে ১০ টাকার পরোটা ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর ৫ টাকার পুরি ও শিঙাড়ার আকার আগের তুলনায় ছোট করা হয়েছে। এছাড়া মাছ ও মাংসসহ অন্যান্য সব খাবারের দাম জনপ্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

একই সঙ্গে নগরীতে এলপিজি গ্যাসের ভয়াবহ সংকট চলছে। বেশিরভাগ খুচরা দোকানে ১২ কেজির সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। হাতেগোনা কয়েকটি দোকানে গ্যাস পাওয়া গেলেও তা ২ হাজার টাকার বেশি দামে কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। স্থানীয় এলপিজি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রায় এক মাস ধরে কোম্পানিগুলো ডিলারদের চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। সান গ্যাসের বরিশালের ডিলার জুয়েল জানান, ২৬ সেপ্টেম্বর পাইকারি বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৬৪০ টাকা করা হয়েছে, যা আগে ১ হাজার ৫৮৫ টাকায় বিক্রি হতো। সরবরাহ কম থাকায় খুচরা ব্যবসায়ীদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি জানান। কাউনিয়ার বাসিন্দা আলামিন জানান, গ্যাস না পেয়ে অনেক ঘুরে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে তাকে।

রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০ সেপ্টেম্বর সরকার জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে। এর ফলে কাঁচামাল পরিবহন ও রান্নার খরচ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী নুরু মিয়া বলেন, জ্বালানি ও এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহের সংকটে আমরা দ্বিমুখী চাপে আছি। কর্মচারীর বেতন ও কাঁচামালের খরচ মেটাতে আগের দামে খাবার বিক্রি করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তাই খাবারের দাম বাড়াতে হয়েছে।

এদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দ্রুত তদারকি চালানো হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রোঞ্জের লড়াই: বাংলাদেশকে ১৬৬ রানের টার্গেট দিল শ্রীলঙ্কা

বরিশালে জ্বালানি ও গ্যাস সংকটে হোটেল ব্যবসায় খাবারের দাম বৃদ্ধি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০১:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকটের প্রভাবে বরিশালের হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। রান্নার খরচ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে খাবারের মূল্য সমন্বয় করছেন অথবা খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন। বর্তমানে নগরীর হোটেলগুলোতে ১০ টাকার পরোটা ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর ৫ টাকার পুরি ও শিঙাড়ার আকার আগের তুলনায় ছোট করা হয়েছে। এছাড়া মাছ ও মাংসসহ অন্যান্য সব খাবারের দাম জনপ্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

একই সঙ্গে নগরীতে এলপিজি গ্যাসের ভয়াবহ সংকট চলছে। বেশিরভাগ খুচরা দোকানে ১২ কেজির সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। হাতেগোনা কয়েকটি দোকানে গ্যাস পাওয়া গেলেও তা ২ হাজার টাকার বেশি দামে কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। স্থানীয় এলপিজি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রায় এক মাস ধরে কোম্পানিগুলো ডিলারদের চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। সান গ্যাসের বরিশালের ডিলার জুয়েল জানান, ২৬ সেপ্টেম্বর পাইকারি বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৬৪০ টাকা করা হয়েছে, যা আগে ১ হাজার ৫৮৫ টাকায় বিক্রি হতো। সরবরাহ কম থাকায় খুচরা ব্যবসায়ীদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি জানান। কাউনিয়ার বাসিন্দা আলামিন জানান, গ্যাস না পেয়ে অনেক ঘুরে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে তাকে।

রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০ সেপ্টেম্বর সরকার জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে। এর ফলে কাঁচামাল পরিবহন ও রান্নার খরচ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী নুরু মিয়া বলেন, জ্বালানি ও এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহের সংকটে আমরা দ্বিমুখী চাপে আছি। কর্মচারীর বেতন ও কাঁচামালের খরচ মেটাতে আগের দামে খাবার বিক্রি করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তাই খাবারের দাম বাড়াতে হয়েছে।

এদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দ্রুত তদারকি চালানো হবে।