লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোহাগাড়ায় বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, ঋণের চাপে দিশেহারা কৃষক জসিম

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার নয় ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ফসলি জমি তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে আউশ ধান, আমনের বীজতলা, পানের বরজ এবং সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাজার হাজার কৃষক বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে আমনের বীজতলা ও পানের বরজের ক্ষয়ক্ষতি ছিল তুলনামূলক বেশি।

পদুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পদুয়ার মালি পাড়ার কৃষক জসিম এ বিপর্যয়ের শিকার হওয়া কৃষকদের একজন। তিন ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে অন্যের জমি বর্গা চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। পরিবারের আর্থিক দৈন্য ঘোচানোর আশায় তিনি বিভিন্ন এনজিও, সমবায় সমিতি এবং বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ৮০০ শতক জমিতে লাউ, তিতকরলা, চিচিঙ্গা, বরবটি, পেঁপে, ঢেঁড়স, চালকুমড়া, কলাসহ আউশ ও আমন ধানের চাষ করেছিলেন। কিন্তু অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় তার পুরো ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, লোহাগাড়ার প্রায় ৯ হাজার ৪০০ জন কৃষকের ১৫০ হেক্টর শস্যক্ষেত, ৩৬০ হেক্টর আমন ও আউশ বীজতলা এবং পাঁচ হেক্টর পানের বরজ বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ১৪ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা।

ঋণগ্রস্ত কৃষক জসিম জানান, তিনি প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে এক লাখ, পদক্ষেপ থেকে দুই লাখ, মুসলিম এইড থেকে তিন লাখ এবং ইসলামী ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এখন ফসলি জমি ধ্বংস হওয়ার পর সংসারের খরচ চালানো এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা তার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি সরকারি সহায়তা ছাড়া টিকে থাকা কঠিন বলে মন্তব্য করেন।

স্থানীয় কৃষক চাষী মিয়া জানান, জসিম উপজেলার অন্যতম সফল কৃষক হওয়া সত্ত্বেও ব্যাংক থেকে যথাযথ ঋণ সুবিধা পান না। বন্যার কারণে তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। নুরুল আজিম নামক স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জানান, জসিমকে প্রতি সপ্তাহে ও মাসে কিস্তি পরিশোধ করতে হয়, কিন্তু ফসল না থাকায় কিস্তি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি এখন প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং বর্তমানে মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার থেকে কোনো সহায়তা এলে তা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে। এছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কৃষকদের দ্রুত আবাদ শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সাবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ মৃত্যু: ইনচার্জ আটক, লাপাত্তা মালিকরা

লোহাগাড়ায় বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, ঋণের চাপে দিশেহারা কৃষক জসিম

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৫২:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার নয় ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ফসলি জমি তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে আউশ ধান, আমনের বীজতলা, পানের বরজ এবং সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাজার হাজার কৃষক বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে আমনের বীজতলা ও পানের বরজের ক্ষয়ক্ষতি ছিল তুলনামূলক বেশি।

পদুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পদুয়ার মালি পাড়ার কৃষক জসিম এ বিপর্যয়ের শিকার হওয়া কৃষকদের একজন। তিন ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে অন্যের জমি বর্গা চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। পরিবারের আর্থিক দৈন্য ঘোচানোর আশায় তিনি বিভিন্ন এনজিও, সমবায় সমিতি এবং বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ৮০০ শতক জমিতে লাউ, তিতকরলা, চিচিঙ্গা, বরবটি, পেঁপে, ঢেঁড়স, চালকুমড়া, কলাসহ আউশ ও আমন ধানের চাষ করেছিলেন। কিন্তু অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় তার পুরো ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, লোহাগাড়ার প্রায় ৯ হাজার ৪০০ জন কৃষকের ১৫০ হেক্টর শস্যক্ষেত, ৩৬০ হেক্টর আমন ও আউশ বীজতলা এবং পাঁচ হেক্টর পানের বরজ বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ১৪ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা।

ঋণগ্রস্ত কৃষক জসিম জানান, তিনি প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে এক লাখ, পদক্ষেপ থেকে দুই লাখ, মুসলিম এইড থেকে তিন লাখ এবং ইসলামী ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এখন ফসলি জমি ধ্বংস হওয়ার পর সংসারের খরচ চালানো এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা তার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি সরকারি সহায়তা ছাড়া টিকে থাকা কঠিন বলে মন্তব্য করেন।

স্থানীয় কৃষক চাষী মিয়া জানান, জসিম উপজেলার অন্যতম সফল কৃষক হওয়া সত্ত্বেও ব্যাংক থেকে যথাযথ ঋণ সুবিধা পান না। বন্যার কারণে তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। নুরুল আজিম নামক স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জানান, জসিমকে প্রতি সপ্তাহে ও মাসে কিস্তি পরিশোধ করতে হয়, কিন্তু ফসল না থাকায় কিস্তি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি এখন প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং বর্তমানে মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার থেকে কোনো সহায়তা এলে তা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে। এছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কৃষকদের দ্রুত আবাদ শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।