লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিলমারীতে প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে নজিরবিহীন অনিয়ম, নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রভাব

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের আন্তঃউপজেলা (উপজেলার মধ্যে) বদলিতে নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বদলি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেছেন। সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানেও এসব অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৭ জন সহকারী শিক্ষক আন্তঃউপজেলা বদলির জন্য আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে ‘প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ বিষয়ক কমিটি’ ১১ জন শিক্ষকের বদলির আদেশ জারি করে। তবে বদলি সংক্রান্ত নথি ও আদেশ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১১ জনের মধ্যে ৮ জন শিক্ষককেই নীতিমালা লঙ্ঘন করে বদলি করা হয়েছে। শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের পাঁচটি নির্দেশনার মধ্যে চারটি নির্দেশনাই এখানে অকার্যকর করা হয়েছে। শূন্য পদের বিপরীতে বদলি করার নিয়ম থাকলেও অনেক বিদ্যালয়ে শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক পদায়ন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জ্যেষ্ঠতার নিয়মও মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে।

তালিকায় ২ নম্বর ক্রমিকে থাকা মোছা. মহসিনা খাতুনকে ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সোনারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। অথচ ঢুষমারা বিদ্যালয়ে শিক্ষক ছিলেন মাত্র তিনজন। ৩ নম্বর ক্রমিকে থাকা মো. বাবলু মিয়াকে নটারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে রাণীগঞ্জ মদনমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। আটটি অনুমোদিত পদের এই বিদ্যালয়টিতে কর্মরত ছিলেন চারজন শিক্ষক। বাবলু মিয়াকে বদলি করায় ২৩২ জন শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য শিক্ষক রইলেন মাত্র তিনজন।

একইভাবে মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে খুঁড়িয়ে চলা নাওশালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৪ নম্বর ক্রমিকে থাকা মোছা. তামান্না ইসলাম তৃষাকে ফকিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। তার এই বদলিতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ৫ নম্বর ক্রমিকে থাকা মো. নুর আলমকে গৌড়মোহনহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে রাজারভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। নীতিমালা ভেঙে চার শিক্ষকের মধ্য থেকে তাকে বদলি করায় ওই স্কুলের ১৪০ জন শিক্ষার্থীর নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তালিকায় ৯ নম্বর ক্রমিকে থাকা মো. মোবারক হোসেনকে উত্তর খাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মগড়াকুড়া আকন্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। ছয়টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে এই বিদ্যালয়ে তিনজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। তাদের একজন পিটিআই প্রশিক্ষণে থাকায় বর্তমানে দুজন শিক্ষক দিয়ে ৯০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছিল। এর মধ্যে মোবারক হোসেনকে বদলি করায় বিদ্যালয়টির বর্তমান শিক্ষক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র একজনে। এছাড়া মাত্র দুজন শিক্ষকের স্কুল খোদ্দ বাঁশপাতারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জোনাব আলীকে (তালিকার ১০ নম্বর) বদলি করা হয়েছে চর পাত্রখাতা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তাকে বদলি করায় ওই স্কুলেও এখন শিক্ষক থাকলেন মাত্র একজন।

সবচেয়ে বেশি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তালিকার ১১ নম্বরে থাকা মাসুমা আক্তারকে নিয়ে। তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল বারীর আত্মীয় হওয়ায় সমস্ত নিয়মের ঊর্ধ্বে স্থান পেয়েছেন। মাত্র দুজন শিক্ষকের স্কুল মুদাফৎ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫৮ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ডেপুটেশন এবং মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা মাসুমা আক্তারকে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে মুদাফৎ থানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ৮ নম্বর তালিকায় থাকা মাসুমা আক্তারের স্বামী মনোয়ারুল ইসলামের বদলিতেও এই বিএনপি নেতার প্রভাব কাজ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম ভেঙে মনোয়ারুল ইসলামকে ছালীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ডাঙ্গার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। ছালীপাড়া বিদ্যালয়ে ১৫১ শিক্ষার্থীর বিপরীতে চারজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন, যা এখন কমে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।

নীতিমালা ভেঙে মাসুমা আক্তারের বদলির বিষয়ে চিলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কামরুজ্জামান বলেন, ‘তাকে বিশেষ বিবেচনায় বদলি করা হয়েছে।’ বিশেষ বিবেচনাটি কী—জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট করেই বলেন, ‘বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল বারী সাহেবের অনুরোধ ছিল।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম বদলির আদেশের কপি প্রস্তুত করা হয়েছিল। সেখানে ১১ জনের তালিকায় মাকসুদা আক্তার ও আবুল কাশেমের নাম থাকলেও পরবর্তীতে অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে ওই আদেশের কপি পাল্টে ফেলা হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর পুনরায় তৈরি করা নতুন আদেশের কপিতে মাকসুদা আক্তার ও আবুল কাশেমের পরিবর্তে মাসুমা আক্তার ও বাবলু মিয়ার নাম যুক্ত করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এই দুজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করতেই পূর্বের আদেশের কপি পরিবর্তন করা হয়েছিল।

শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. কামরুজ্জামান আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে বলেন, ‘কে কোথায় আর্থিক লেনদেন করেছে, বিষয়টি আমার জানা নেই। যেখানে শূন্য পদ রয়েছে, সেখানে নতুন শিক্ষক আসলেই পদায়ন দেওয়া হবে।’ তবে বদলি ও জ্যেষ্ঠতার নিয়ম ভঙ্গের বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।

অন্যদিকে, শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান দাবি করেন, ‘ডেপুটেশনে থাকা শিক্ষক, মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা শিক্ষক, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে না দেওয়া এবং দুজনের মধ্য থেকে একজনকে বদলি করার বিষয়ে নীতিমালা রয়েছে। আমরা সেসব নীতিমালা মেনেই বদলি করেছি।’

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুদের সঠিক বিকাশে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে : প্রধানমন্ত্রী

চিলমারীতে প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে নজিরবিহীন অনিয়ম, নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রভাব

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৪৩:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের আন্তঃউপজেলা (উপজেলার মধ্যে) বদলিতে নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বদলি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেছেন। সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানেও এসব অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৭ জন সহকারী শিক্ষক আন্তঃউপজেলা বদলির জন্য আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে ‘প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ বিষয়ক কমিটি’ ১১ জন শিক্ষকের বদলির আদেশ জারি করে। তবে বদলি সংক্রান্ত নথি ও আদেশ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১১ জনের মধ্যে ৮ জন শিক্ষককেই নীতিমালা লঙ্ঘন করে বদলি করা হয়েছে। শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের পাঁচটি নির্দেশনার মধ্যে চারটি নির্দেশনাই এখানে অকার্যকর করা হয়েছে। শূন্য পদের বিপরীতে বদলি করার নিয়ম থাকলেও অনেক বিদ্যালয়ে শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক পদায়ন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জ্যেষ্ঠতার নিয়মও মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে।

তালিকায় ২ নম্বর ক্রমিকে থাকা মোছা. মহসিনা খাতুনকে ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সোনারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। অথচ ঢুষমারা বিদ্যালয়ে শিক্ষক ছিলেন মাত্র তিনজন। ৩ নম্বর ক্রমিকে থাকা মো. বাবলু মিয়াকে নটারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে রাণীগঞ্জ মদনমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। আটটি অনুমোদিত পদের এই বিদ্যালয়টিতে কর্মরত ছিলেন চারজন শিক্ষক। বাবলু মিয়াকে বদলি করায় ২৩২ জন শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য শিক্ষক রইলেন মাত্র তিনজন।

একইভাবে মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে খুঁড়িয়ে চলা নাওশালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৪ নম্বর ক্রমিকে থাকা মোছা. তামান্না ইসলাম তৃষাকে ফকিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। তার এই বদলিতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ৫ নম্বর ক্রমিকে থাকা মো. নুর আলমকে গৌড়মোহনহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে রাজারভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। নীতিমালা ভেঙে চার শিক্ষকের মধ্য থেকে তাকে বদলি করায় ওই স্কুলের ১৪০ জন শিক্ষার্থীর নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তালিকায় ৯ নম্বর ক্রমিকে থাকা মো. মোবারক হোসেনকে উত্তর খাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মগড়াকুড়া আকন্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। ছয়টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে এই বিদ্যালয়ে তিনজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। তাদের একজন পিটিআই প্রশিক্ষণে থাকায় বর্তমানে দুজন শিক্ষক দিয়ে ৯০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছিল। এর মধ্যে মোবারক হোসেনকে বদলি করায় বিদ্যালয়টির বর্তমান শিক্ষক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র একজনে। এছাড়া মাত্র দুজন শিক্ষকের স্কুল খোদ্দ বাঁশপাতারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জোনাব আলীকে (তালিকার ১০ নম্বর) বদলি করা হয়েছে চর পাত্রখাতা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তাকে বদলি করায় ওই স্কুলেও এখন শিক্ষক থাকলেন মাত্র একজন।

সবচেয়ে বেশি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তালিকার ১১ নম্বরে থাকা মাসুমা আক্তারকে নিয়ে। তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল বারীর আত্মীয় হওয়ায় সমস্ত নিয়মের ঊর্ধ্বে স্থান পেয়েছেন। মাত্র দুজন শিক্ষকের স্কুল মুদাফৎ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫৮ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ডেপুটেশন এবং মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা মাসুমা আক্তারকে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে মুদাফৎ থানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ৮ নম্বর তালিকায় থাকা মাসুমা আক্তারের স্বামী মনোয়ারুল ইসলামের বদলিতেও এই বিএনপি নেতার প্রভাব কাজ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম ভেঙে মনোয়ারুল ইসলামকে ছালীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ডাঙ্গার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। ছালীপাড়া বিদ্যালয়ে ১৫১ শিক্ষার্থীর বিপরীতে চারজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন, যা এখন কমে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।

নীতিমালা ভেঙে মাসুমা আক্তারের বদলির বিষয়ে চিলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কামরুজ্জামান বলেন, ‘তাকে বিশেষ বিবেচনায় বদলি করা হয়েছে।’ বিশেষ বিবেচনাটি কী—জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট করেই বলেন, ‘বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল বারী সাহেবের অনুরোধ ছিল।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম বদলির আদেশের কপি প্রস্তুত করা হয়েছিল। সেখানে ১১ জনের তালিকায় মাকসুদা আক্তার ও আবুল কাশেমের নাম থাকলেও পরবর্তীতে অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে ওই আদেশের কপি পাল্টে ফেলা হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর পুনরায় তৈরি করা নতুন আদেশের কপিতে মাকসুদা আক্তার ও আবুল কাশেমের পরিবর্তে মাসুমা আক্তার ও বাবলু মিয়ার নাম যুক্ত করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এই দুজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করতেই পূর্বের আদেশের কপি পরিবর্তন করা হয়েছিল।

শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. কামরুজ্জামান আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে বলেন, ‘কে কোথায় আর্থিক লেনদেন করেছে, বিষয়টি আমার জানা নেই। যেখানে শূন্য পদ রয়েছে, সেখানে নতুন শিক্ষক আসলেই পদায়ন দেওয়া হবে।’ তবে বদলি ও জ্যেষ্ঠতার নিয়ম ভঙ্গের বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।

অন্যদিকে, শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান দাবি করেন, ‘ডেপুটেশনে থাকা শিক্ষক, মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা শিক্ষক, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে না দেওয়া এবং দুজনের মধ্য থেকে একজনকে বদলি করার বিষয়ে নীতিমালা রয়েছে। আমরা সেসব নীতিমালা মেনেই বদলি করেছি।’