লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেরোবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত উভয় পক্ষ ক্যাম্পাসে মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। এর মধ্যে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে এবং ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা পার্কের মোড় মসজিদের সামনে অবস্থান করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দিনব্যাপী শাখা ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনী আয়োজন করেছিল। ওই প্রদর্শনীতে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড (জুডিশিয়াল কিলিং)’ হিসেবে কয়েকজনের ছবি প্রদর্শন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে গিয়ে ব্যানারটি সরিয়ে ফেলার দাবি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই পক্ষই লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক অভিযোগ করেন, ছাত্রদল এসে তাদের প্রদর্শনীতে থাকা ছবিগুলোকে ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে সরিয়ে ফেলতে বলে। তিনি বলেন, ‘আমরা ছাত্রদলকে বলেছি, আপনারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলুন, তারা সিদ্ধান্ত দেবে। আপনারা তো এখানকার অথরিটি না এসব নামিয়ে ফেলার জন্য। তো তারা প্রশাসনের সঙ্গে কথা না বলে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করেছে।’ শিবলী সাদিক আরও দাবি করেন, ছাত্রদল সভাপতিকে লক্ষ্য করে চড়াও হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং পরে প্রক্টর এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করলেও ছাত্রদল পরে পুনরায় লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে আক্রমণ চালায়।

অন্যদিকে, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন অভিযোগ করেন, ‘রাজাকারদের যে ছবি ছিল; গোলাম আজম, কাদের মোল্লা, নিজামী—তারা যে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ছিল, তাদের ছবিগুলো ম্যাডাম খালেদা জিয়ার পাশে টাঙানো বিষয়ে আমরা তাদের বলি এগুলো অপসারণ করতে হবে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিবিরের নেতা-কর্মীরা কারমাইকেল কলেজের ছাত্রশিবিরসহ বহিরাগতদের নিয়ে এসে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ইয়ামিন বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে কোনো আপস করব না। জুলাই নিয়েও কোনো আপস করব না। এগুলোর বিরুদ্ধে যারা আমরাও তাদের বিরুদ্ধে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান জানিয়েছেন, মারামারির সঙ্গে জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে অতিশীঘ্রই বিচার করা হবে এবং এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়েছে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে এবং দুই দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বৈঠক করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

বেরোবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩০:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত উভয় পক্ষ ক্যাম্পাসে মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। এর মধ্যে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে এবং ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা পার্কের মোড় মসজিদের সামনে অবস্থান করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দিনব্যাপী শাখা ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনী আয়োজন করেছিল। ওই প্রদর্শনীতে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড (জুডিশিয়াল কিলিং)’ হিসেবে কয়েকজনের ছবি প্রদর্শন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে গিয়ে ব্যানারটি সরিয়ে ফেলার দাবি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই পক্ষই লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক অভিযোগ করেন, ছাত্রদল এসে তাদের প্রদর্শনীতে থাকা ছবিগুলোকে ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে সরিয়ে ফেলতে বলে। তিনি বলেন, ‘আমরা ছাত্রদলকে বলেছি, আপনারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলুন, তারা সিদ্ধান্ত দেবে। আপনারা তো এখানকার অথরিটি না এসব নামিয়ে ফেলার জন্য। তো তারা প্রশাসনের সঙ্গে কথা না বলে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করেছে।’ শিবলী সাদিক আরও দাবি করেন, ছাত্রদল সভাপতিকে লক্ষ্য করে চড়াও হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং পরে প্রক্টর এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করলেও ছাত্রদল পরে পুনরায় লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে আক্রমণ চালায়।

অন্যদিকে, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন অভিযোগ করেন, ‘রাজাকারদের যে ছবি ছিল; গোলাম আজম, কাদের মোল্লা, নিজামী—তারা যে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ছিল, তাদের ছবিগুলো ম্যাডাম খালেদা জিয়ার পাশে টাঙানো বিষয়ে আমরা তাদের বলি এগুলো অপসারণ করতে হবে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিবিরের নেতা-কর্মীরা কারমাইকেল কলেজের ছাত্রশিবিরসহ বহিরাগতদের নিয়ে এসে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ইয়ামিন বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে কোনো আপস করব না। জুলাই নিয়েও কোনো আপস করব না। এগুলোর বিরুদ্ধে যারা আমরাও তাদের বিরুদ্ধে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান জানিয়েছেন, মারামারির সঙ্গে জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে অতিশীঘ্রই বিচার করা হবে এবং এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়েছে। বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে এবং দুই দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বৈঠক করছেন।