লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘শিরশ্ছেদের আগে শেষ সুযোগ’, ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চরম সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তেহরানের সামনে এটিই 'শিরশ্ছেদের আগে শেষ সুযোগ'। তবে ওয়াশিংটনের সাথে কোনো ধরনের আলোচনার দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নয়, বরং ওমানের সাথে হরমুজ প্রণালির নৌপথ নিয়ে আলোচনা চলছে।

সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের অনুরোধে তিনি ইরানের সাথে আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বর্তমানে তাদের কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তেহরানের এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প দাবি করেন, "আমরা এখনই কথা বলছি।" ট্রাম্পের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি এই আলোচনার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা, যা খুব দ্রুত এমনকি "আগামীকালই" খুলে যেতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ বা নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি সফল হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে সংঘাত চলছে। যুদ্ধ শুরুর পাঁচ মাস পরও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও তাদের মিত্রদের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে ইরান। পাশাপাশি তাদের কাছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতও রয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্পের অবস্থানে নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে; গত সপ্তাহে তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে কঠোর হামলার হুমকি দিলেও শনিবার জানান যে একটি চুক্তির কাঠামো তৈরি হয়েছে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো আলোচনা হচ্ছে না, বরং তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছেন। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথটি যুদ্ধের কারণে বর্তমানে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে, যা সংঘাত নিরসনের বড় বাধা। ইরান এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এবং সেখানে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের দাবি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাঘাই বলেন, ওমানের সাথে একটি সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা দুই দেশের সার্বভৌম অধিকার এবং ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করবে। তবে এই সমঝোতা হলেই প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। এরই মধ্যে গত রবিবার (৩ আগস্ট) ওমান উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজের পাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। তবে জাহাজ ও ক্রুরা নিরাপদ রয়েছেন।

ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের অবস্থানকে ‘দ্বিমুখী নীতি’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি দাবি করেন, তেহরান প্রকাশ্যে আলোচনা অস্বীকার করলেও গোপনে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো চুক্তি বা সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ব্যতিরেকে ইরানে কোনো কিছু প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান যে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা তাকে বড় ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছে। তবে ইরানি গণমাধ্যম এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তেহরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো অনুরোধ করা হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন গুণী অভিনেত্রী রিনা রহমান

‘শিরশ্ছেদের আগে শেষ সুযোগ’, ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চরম সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তেহরানের সামনে এটিই 'শিরশ্ছেদের আগে শেষ সুযোগ'। তবে ওয়াশিংটনের সাথে কোনো ধরনের আলোচনার দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নয়, বরং ওমানের সাথে হরমুজ প্রণালির নৌপথ নিয়ে আলোচনা চলছে।

সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের অনুরোধে তিনি ইরানের সাথে আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বর্তমানে তাদের কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তেহরানের এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প দাবি করেন, "আমরা এখনই কথা বলছি।" ট্রাম্পের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি এই আলোচনার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা, যা খুব দ্রুত এমনকি "আগামীকালই" খুলে যেতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ বা নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি সফল হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে সংঘাত চলছে। যুদ্ধ শুরুর পাঁচ মাস পরও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও তাদের মিত্রদের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে ইরান। পাশাপাশি তাদের কাছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতও রয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্পের অবস্থানে নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে; গত সপ্তাহে তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে কঠোর হামলার হুমকি দিলেও শনিবার জানান যে একটি চুক্তির কাঠামো তৈরি হয়েছে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো আলোচনা হচ্ছে না, বরং তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছেন। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথটি যুদ্ধের কারণে বর্তমানে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে, যা সংঘাত নিরসনের বড় বাধা। ইরান এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এবং সেখানে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের দাবি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাঘাই বলেন, ওমানের সাথে একটি সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা দুই দেশের সার্বভৌম অধিকার এবং ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করবে। তবে এই সমঝোতা হলেই প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। এরই মধ্যে গত রবিবার (৩ আগস্ট) ওমান উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজের পাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। তবে জাহাজ ও ক্রুরা নিরাপদ রয়েছেন।

ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের অবস্থানকে ‘দ্বিমুখী নীতি’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি দাবি করেন, তেহরান প্রকাশ্যে আলোচনা অস্বীকার করলেও গোপনে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো চুক্তি বা সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ব্যতিরেকে ইরানে কোনো কিছু প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান যে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা তাকে বড় ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছে। তবে ইরানি গণমাধ্যম এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তেহরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো অনুরোধ করা হয়নি।