লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সের কর বিভাগে সাইবার হামলা: ৬ লাখ করদাতার তথ্য চুরি

ফ্রান্সের অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সরকারি কর প্রশাসন ডিজিএফআইপি (DGFiP) একটি বড় ধরনের সাইবার হামলার কবলে পড়েছে। এই ঘটনায় ফরাসি করদাতা ও ব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত এবং করসংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য চুরি হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে যখন হ্যাকাররা চুরি করা তথ্য সাইবার অপরাধীদের ব্যবহৃত একটি অনলাইন ফোরামে বিক্রির জন্য প্রকাশ করে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১২ আগস্ট, যখন এক হ্যাকার ওই অনলাইন ফোরামে দাবি করে যে, সে ফ্রান্সের কর প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে বিপুলসংখ্যক নাগরিকের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। এর পরদিন ফরাসি অর্থ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সাইবার হামলা ও তথ্য ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করে নেয়।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, হ্যাকার ডিজিএফআইপি-র অভ্যন্তরীণ একটি ব্যবস্থায় ভার্চুয়াল ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন ব্যবহার করে প্রবেশ করেছিল। ফরাসি কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, জুনের শেষ দিকে নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় এই অননুমোদিত প্রবেশাধিকার শনাক্ত করে তা বন্ধ করা হয়েছিল। তবে সেই সময়ে কোনো তথ্য চুরি হয়েছে কিনা, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে হ্যাকার প্রকাশ্যে তথ্য বিক্রির ঘোষণা দিলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। জুন মাসে অনুপ্রবেশের পথ বন্ধ করার পরও তথ্য চুরির বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না করায় ফরাসি কর্তৃপক্ষ সমালোচনার মুখে পড়েছে।

প্রাথমিকভাবে হ্যাকার কয়েক কোটি ফরাসি নাগরিকের তথ্য নিজের কাছে থাকার দাবি করলেও, বিক্রির জন্য দেওয়া নমুনায় ৬ লাখের বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকৃতপক্ষে কতজন আক্রান্ত হয়েছেন, তা নিশ্চিত করতে বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে ফরাসি কর প্রশাসন। চুরি হওয়া তথ্যের নমুনায় ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, করযোগ্য আয়, করের হার এবং পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া কিছু নথিতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকারি অর্থ দপ্তরের নাম ও করদাতার সঙ্গে কাজ করা কর্মকর্তার পরিচয়ও রয়েছে।

এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে পরিচয় জালিয়াতি ও প্রতারণার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আয় ও ঠিকানার মতো ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে প্রতারকরা বিশ্বাসযোগ্য সেজে নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ডিজিএফআইপি বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ফ্রান্সের জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা সংস্থা 'আনসি' (ANSSI)-এর সহায়তায় তদন্ত চলছে। সরকার এ ঘটনায় ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ সিএনআইএল (CNIL)-কে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ফ্রান্সের সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলো ধারাবাহিকভাবে সাইবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকারি একটি তথ্যভান্ডারে অনুপ্রবেশের ঘটনায় কয়েক মিলিয়ন মানুষের তথ্য ঝুঁকিতে পড়েছিল। এছাড়া জুলাইয়ের শেষ দিকে জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের তথ্য নিয়ে একটি নিরাপত্তা ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এমন ধারাবাহিক হামলা ফরাসি তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা বা হ্যাকারের দাবির সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্রান্সের কর বিভাগে সাইবার হামলা: ৬ লাখ করদাতার তথ্য চুরি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৪৩:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ফ্রান্সের অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সরকারি কর প্রশাসন ডিজিএফআইপি (DGFiP) একটি বড় ধরনের সাইবার হামলার কবলে পড়েছে। এই ঘটনায় ফরাসি করদাতা ও ব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত এবং করসংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য চুরি হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে যখন হ্যাকাররা চুরি করা তথ্য সাইবার অপরাধীদের ব্যবহৃত একটি অনলাইন ফোরামে বিক্রির জন্য প্রকাশ করে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১২ আগস্ট, যখন এক হ্যাকার ওই অনলাইন ফোরামে দাবি করে যে, সে ফ্রান্সের কর প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে বিপুলসংখ্যক নাগরিকের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। এর পরদিন ফরাসি অর্থ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সাইবার হামলা ও তথ্য ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করে নেয়।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, হ্যাকার ডিজিএফআইপি-র অভ্যন্তরীণ একটি ব্যবস্থায় ভার্চুয়াল ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন ব্যবহার করে প্রবেশ করেছিল। ফরাসি কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, জুনের শেষ দিকে নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় এই অননুমোদিত প্রবেশাধিকার শনাক্ত করে তা বন্ধ করা হয়েছিল। তবে সেই সময়ে কোনো তথ্য চুরি হয়েছে কিনা, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে হ্যাকার প্রকাশ্যে তথ্য বিক্রির ঘোষণা দিলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। জুন মাসে অনুপ্রবেশের পথ বন্ধ করার পরও তথ্য চুরির বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না করায় ফরাসি কর্তৃপক্ষ সমালোচনার মুখে পড়েছে।

প্রাথমিকভাবে হ্যাকার কয়েক কোটি ফরাসি নাগরিকের তথ্য নিজের কাছে থাকার দাবি করলেও, বিক্রির জন্য দেওয়া নমুনায় ৬ লাখের বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকৃতপক্ষে কতজন আক্রান্ত হয়েছেন, তা নিশ্চিত করতে বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে ফরাসি কর প্রশাসন। চুরি হওয়া তথ্যের নমুনায় ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, করযোগ্য আয়, করের হার এবং পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া কিছু নথিতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকারি অর্থ দপ্তরের নাম ও করদাতার সঙ্গে কাজ করা কর্মকর্তার পরিচয়ও রয়েছে।

এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে পরিচয় জালিয়াতি ও প্রতারণার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আয় ও ঠিকানার মতো ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে প্রতারকরা বিশ্বাসযোগ্য সেজে নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ডিজিএফআইপি বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ফ্রান্সের জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা সংস্থা 'আনসি' (ANSSI)-এর সহায়তায় তদন্ত চলছে। সরকার এ ঘটনায় ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ সিএনআইএল (CNIL)-কে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ফ্রান্সের সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলো ধারাবাহিকভাবে সাইবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকারি একটি তথ্যভান্ডারে অনুপ্রবেশের ঘটনায় কয়েক মিলিয়ন মানুষের তথ্য ঝুঁকিতে পড়েছিল। এছাড়া জুলাইয়ের শেষ দিকে জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের তথ্য নিয়ে একটি নিরাপত্তা ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এমন ধারাবাহিক হামলা ফরাসি তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা বা হ্যাকারের দাবির সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।