লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাইবার আইন সংশোধন: গুজব ও অপপ্রচারে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেলের প্রস্তাব

সাইবার স্পেসে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো রুখতে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে সরকার। এতে সাইবার মাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য প্রচারের দায়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমান সাইবার সুরক্ষা আইনে এ ধরনের অপরাধের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট ধারা বা শাস্তির ব্যবস্থা নেই।

শুধু গুজব বা অপতথ্যই নয়, প্রস্তাবিত এই সংশোধনীতে ডিজিটাল মাধ্যমে মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন করা ও বুলিংয়ের উদ্দেশ্যে তথ্য তৈরি, সংরক্ষণ, প্রকাশ, প্রচার বা প্রকাশের হুমকি দেওয়াকেও অপরাধের আওতায় আনা হচ্ছে। এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত তথ্য-উপাত্ত এবং অডিওকেও এই আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, সাধারণ অপরাধের ক্ষেত্রে বর্তমানের সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানার শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী যদি কোনো নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হন, তবে অপরাধের শাস্তি দ্বিগুণ বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ৪০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’র স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক বা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এমন যেকোনো অসমর্থিত বা অযাচাইকৃত তথ্যকে ‘গুজব’ বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি ও প্রচারিত মিথ্যা বা বিকৃত তথ্যকে ‘অপতথ্য’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

সংশোধিত এই আইনে অপরাধে জড়িত কোনো কোম্পানির লাইসেন্স, নিবন্ধন বা কার্যক্রম স্থগিত, বাতিল বা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা আদালতকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। কোম্পানির সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অংশীদারি কারবার, সমিতি, ট্রাস্ট ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাকেও এর আওতায় আনা হচ্ছে। এছাড়া অপতথ্য, গুজব ও মানহানিকর কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্লক করা কনটেন্টের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী সব অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনালে হবে না। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার অবকাঠামোয় হামলা, সাইবার সন্ত্রাস, হ্যাকিং, যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং, রিভেঞ্জ পর্ন, শিশু যৌন নিপীড়ন, সেক্সটর্শন এবং গুজব ছড়ানোর মতো গুরুতর অপরাধগুলোর বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে। আর অন্যান্য অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অপরাধের বিচার হবে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। প্রয়োজনে এগুলো মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর অধীনে মোবাইল কোর্টেও বিচার করা যাবে।

এই আইনের খসড়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ অংশীজনদের মতামত নেওয়া শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গত ২৯ জুন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীকে প্রধান করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমন্বয়ে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

মতবিনিময় সভায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশিদ ভূঞা জানান, এটি গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের প্রাথমিক বৈঠক। পরবর্তীতে বিভিন্ন শ্রেণির অংশীজনদের সঙ্গে আরও আলোচনার মাধ্যমে সবার মতামত নিয়ে আইনটি চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, সাইবার স্পেস ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি যারা চরিত্রহনন ও সাইবার বুলিংয়ের মতো অপরাধে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটে আন্তঃজেলা ডাকাত ও সুইচ গিয়ার চাকুসহ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

সাইবার আইন সংশোধন: গুজব ও অপপ্রচারে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেলের প্রস্তাব

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাইবার স্পেসে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো রুখতে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে সরকার। এতে সাইবার মাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য প্রচারের দায়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমান সাইবার সুরক্ষা আইনে এ ধরনের অপরাধের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট ধারা বা শাস্তির ব্যবস্থা নেই।

শুধু গুজব বা অপতথ্যই নয়, প্রস্তাবিত এই সংশোধনীতে ডিজিটাল মাধ্যমে মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন করা ও বুলিংয়ের উদ্দেশ্যে তথ্য তৈরি, সংরক্ষণ, প্রকাশ, প্রচার বা প্রকাশের হুমকি দেওয়াকেও অপরাধের আওতায় আনা হচ্ছে। এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত তথ্য-উপাত্ত এবং অডিওকেও এই আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, সাধারণ অপরাধের ক্ষেত্রে বর্তমানের সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানার শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী যদি কোনো নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হন, তবে অপরাধের শাস্তি দ্বিগুণ বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ৪০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’র স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক বা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এমন যেকোনো অসমর্থিত বা অযাচাইকৃত তথ্যকে ‘গুজব’ বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি ও প্রচারিত মিথ্যা বা বিকৃত তথ্যকে ‘অপতথ্য’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

সংশোধিত এই আইনে অপরাধে জড়িত কোনো কোম্পানির লাইসেন্স, নিবন্ধন বা কার্যক্রম স্থগিত, বাতিল বা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা আদালতকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। কোম্পানির সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অংশীদারি কারবার, সমিতি, ট্রাস্ট ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাকেও এর আওতায় আনা হচ্ছে। এছাড়া অপতথ্য, গুজব ও মানহানিকর কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্লক করা কনটেন্টের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী সব অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনালে হবে না। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার অবকাঠামোয় হামলা, সাইবার সন্ত্রাস, হ্যাকিং, যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং, রিভেঞ্জ পর্ন, শিশু যৌন নিপীড়ন, সেক্সটর্শন এবং গুজব ছড়ানোর মতো গুরুতর অপরাধগুলোর বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে। আর অন্যান্য অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অপরাধের বিচার হবে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। প্রয়োজনে এগুলো মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর অধীনে মোবাইল কোর্টেও বিচার করা যাবে।

এই আইনের খসড়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ অংশীজনদের মতামত নেওয়া শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গত ২৯ জুন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীকে প্রধান করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমন্বয়ে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

মতবিনিময় সভায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশিদ ভূঞা জানান, এটি গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের প্রাথমিক বৈঠক। পরবর্তীতে বিভিন্ন শ্রেণির অংশীজনদের সঙ্গে আরও আলোচনার মাধ্যমে সবার মতামত নিয়ে আইনটি চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, সাইবার স্পেস ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি যারা চরিত্রহনন ও সাইবার বুলিংয়ের মতো অপরাধে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।