লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

প্রায় ৯ বছর আগে রাজধানীর বাড্ডার মধ্য বাড্ডা এলাকায় স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পী এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবুল কাশেম জানান, ঘটনার পর থেকে মনির জামিনে ছিলেন। তবে গত ১৪ জুলাই যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। রায় ঘোষণার সময় তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় এবং রায় শেষে সাজা পরোয়ানা মূলে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার রায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০০৩ সালে মনির হোসেনের সাথে শাকির খাতুন সোমার বিয়ে হয় এবং তাদের একটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা সোমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন। মনির ব্যবসার কথা বলে সোমার পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ১১ লাখ টাকা নিলেও আরও টাকার জন্য তার ওপর নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করতেন। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হলে সোমা তার মায়ের বাসায় চলে যান। পরবর্তীতে আর এমন হবে না—এই শর্তে তাকে পুনরায় নিয়ে আসা হলেও নির্যাতনের মাত্রা কমেনি।

ঘটনার দিন অর্থাৎ ৬ অক্টোবর দুপুরে টাকা-পয়সা নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মনির ছুরি দিয়ে সোমাকে জবাই করে হত্যা করেন। সোমার আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সোমার মা মোসা. আক্তার বানু ওইদিনই বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারের পর মনির আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। বাড্ডা থানার এসআই বায়েজীদ বোস্তামী তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৮ সালের ১৭ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিচারকালে আদালত মোট ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে এবং সবশেষে মঙ্গলবার এই রায় প্রদান করা হলো।

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে এনসিপি বহরে হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:২৩:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

প্রায় ৯ বছর আগে রাজধানীর বাড্ডার মধ্য বাড্ডা এলাকায় স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পী এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবুল কাশেম জানান, ঘটনার পর থেকে মনির জামিনে ছিলেন। তবে গত ১৪ জুলাই যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। রায় ঘোষণার সময় তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় এবং রায় শেষে সাজা পরোয়ানা মূলে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার রায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০০৩ সালে মনির হোসেনের সাথে শাকির খাতুন সোমার বিয়ে হয় এবং তাদের একটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা সোমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন। মনির ব্যবসার কথা বলে সোমার পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ১১ লাখ টাকা নিলেও আরও টাকার জন্য তার ওপর নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করতেন। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হলে সোমা তার মায়ের বাসায় চলে যান। পরবর্তীতে আর এমন হবে না—এই শর্তে তাকে পুনরায় নিয়ে আসা হলেও নির্যাতনের মাত্রা কমেনি।

ঘটনার দিন অর্থাৎ ৬ অক্টোবর দুপুরে টাকা-পয়সা নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মনির ছুরি দিয়ে সোমাকে জবাই করে হত্যা করেন। সোমার আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সোমার মা মোসা. আক্তার বানু ওইদিনই বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারের পর মনির আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। বাড্ডা থানার এসআই বায়েজীদ বোস্তামী তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৮ সালের ১৭ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিচারকালে আদালত মোট ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে এবং সবশেষে মঙ্গলবার এই রায় প্রদান করা হলো।