লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট: ভোগান্তিতে সিএনজি চালক ও নগরবাসী

রাজধানীজুড়ে গ্যাসের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্যাস সরবরাহ না থাকায় সিএনজিচালিত পরিবহণ খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং বাসাবাড়িতে রান্না করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ না থাকায় ফিলিং স্টেশনগুলো গ্যাস সরবরাহ কমাতে বাধ্য হচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও পাম্প পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর পুরান ঢাকা, হাজারীবাগ, লালবাগ, ওয়ারী, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, ডেমরা ও সবুজবাগসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এই দুর্ভোগের চিত্র পাওয়া গেছে। হাজারীবাগ ও লালবাগসহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বাসিন্দারা সরকার নির্ধারিত বিল পরিশোধ করেও গ্যাস পাচ্ছেন না। বেশিরভাগ সময় গ্যাসের কোনো চাপ থাকছে না, এমনকি গভীর রাতেও স্বাভাবিক রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। বংশাল, ইসলামপুর, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া ও সদরঘাট এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সকালে সন্তানদের টিফিন বা অফিসগামী সদস্যদের খাবার তৈরি করতে না পারায় অনেকে না খেয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছেন। লালবাগ শেখ সাহেব বাজার মন্দির গলির বাসিন্দা আরিফুর রহমান রনি জানান, তিন-চার দশকের বসবাসে এমন ভয়াবহ গ্যাস সংকট তিনি আগে দেখেননি।

সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল। ডেমরা এলাকার পাম্পগুলোতে গ্যাসের চাপ না থাকায় চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গ্যাস কম পাওয়ায় সিএনজি চালকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন, যার ফলে যাত্রী ও চালক উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রেন্ট-এ-কারের চালকরাও একই সমস্যায় পড়েছেন। উত্তরা এলাকার মেসার্স মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশন ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আরএসআর ফিলিং স্টেশনেও দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সিএনজি চালক জাহিদ হোসেন জানান, প্রতিদিন মহাজনকে ১২শ টাকা জমা দিতে হয়। গ্যাস লাগে প্রায় ৪শ টাকার। এর বাইরে সারা দিনে আমারও দুই-আড়াইশ টাকা খরচ আছে।

সবুজবাগের মালিবাগ হাজীপাড়ার সিটি ওভারসীজ সিএনজি লিমিটেড স্টেশনে সিএনজিচালক মো. আমির হামজা বলেন, সকাল ১০টায় লাইনে দাঁড়িয়েছি। সিরিয়াল অনুযায়ী গেটের সামনে আসতেই গ্যাস নেই জানিয়ে বন্ধ করে দেয়। এখন বেলা ৩টা বাজে, এখনো জানি না গ্যাস পাব কিনা। মিরপুরের সিরামিকস সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের স্টাফ নাজমুল জানান, পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় মাত্র একটি কমপ্রেশার দিয়ে সীমিত পরিসরে সরবরাহ চালানো হচ্ছে।

আবাসিক এলাকায় রান্নার সংকট আরও প্রকট। যাত্রাবাড়ী ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভোররাতে গ্যাস চলে যাওয়ার পর আর পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার হোটেল থেকে খাবার কিনছেন অথবা লাকড়ি বা বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন, যা জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। সূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা আয়েশা আক্তার অনি জানান, এক সপ্তাহ ধরে গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক হিটার ব্যবহার করতে হচ্ছে, এতে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাচ্ছে। ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আরিয়ান সাজ্জাদ এই সংকটের জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের নিয়মিত সরবরাহ না থাকাকে দায়ী করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও যুগ্ম সচিব ডা. সাবিনা ইয়াসমিনকে বাধ্যতামূলক অবসরে 

রাজধানীজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট: ভোগান্তিতে সিএনজি চালক ও নগরবাসী

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০৪:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

রাজধানীজুড়ে গ্যাসের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্যাস সরবরাহ না থাকায় সিএনজিচালিত পরিবহণ খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং বাসাবাড়িতে রান্না করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ না থাকায় ফিলিং স্টেশনগুলো গ্যাস সরবরাহ কমাতে বাধ্য হচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও পাম্প পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর পুরান ঢাকা, হাজারীবাগ, লালবাগ, ওয়ারী, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, ডেমরা ও সবুজবাগসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এই দুর্ভোগের চিত্র পাওয়া গেছে। হাজারীবাগ ও লালবাগসহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বাসিন্দারা সরকার নির্ধারিত বিল পরিশোধ করেও গ্যাস পাচ্ছেন না। বেশিরভাগ সময় গ্যাসের কোনো চাপ থাকছে না, এমনকি গভীর রাতেও স্বাভাবিক রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। বংশাল, ইসলামপুর, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া ও সদরঘাট এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সকালে সন্তানদের টিফিন বা অফিসগামী সদস্যদের খাবার তৈরি করতে না পারায় অনেকে না খেয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছেন। লালবাগ শেখ সাহেব বাজার মন্দির গলির বাসিন্দা আরিফুর রহমান রনি জানান, তিন-চার দশকের বসবাসে এমন ভয়াবহ গ্যাস সংকট তিনি আগে দেখেননি।

সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল। ডেমরা এলাকার পাম্পগুলোতে গ্যাসের চাপ না থাকায় চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গ্যাস কম পাওয়ায় সিএনজি চালকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন, যার ফলে যাত্রী ও চালক উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রেন্ট-এ-কারের চালকরাও একই সমস্যায় পড়েছেন। উত্তরা এলাকার মেসার্স মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশন ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আরএসআর ফিলিং স্টেশনেও দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সিএনজি চালক জাহিদ হোসেন জানান, প্রতিদিন মহাজনকে ১২শ টাকা জমা দিতে হয়। গ্যাস লাগে প্রায় ৪শ টাকার। এর বাইরে সারা দিনে আমারও দুই-আড়াইশ টাকা খরচ আছে।

সবুজবাগের মালিবাগ হাজীপাড়ার সিটি ওভারসীজ সিএনজি লিমিটেড স্টেশনে সিএনজিচালক মো. আমির হামজা বলেন, সকাল ১০টায় লাইনে দাঁড়িয়েছি। সিরিয়াল অনুযায়ী গেটের সামনে আসতেই গ্যাস নেই জানিয়ে বন্ধ করে দেয়। এখন বেলা ৩টা বাজে, এখনো জানি না গ্যাস পাব কিনা। মিরপুরের সিরামিকস সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের স্টাফ নাজমুল জানান, পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় মাত্র একটি কমপ্রেশার দিয়ে সীমিত পরিসরে সরবরাহ চালানো হচ্ছে।

আবাসিক এলাকায় রান্নার সংকট আরও প্রকট। যাত্রাবাড়ী ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভোররাতে গ্যাস চলে যাওয়ার পর আর পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার হোটেল থেকে খাবার কিনছেন অথবা লাকড়ি বা বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন, যা জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। সূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা আয়েশা আক্তার অনি জানান, এক সপ্তাহ ধরে গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক হিটার ব্যবহার করতে হচ্ছে, এতে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাচ্ছে। ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আরিয়ান সাজ্জাদ এই সংকটের জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের নিয়মিত সরবরাহ না থাকাকে দায়ী করেছেন।