লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ গুরুত্ব

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালকে দেশের ইতিহাসের এক অনন্য ও গৌরবময় সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শুধু চিকিৎসা ক্ষেত্রই নয়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

অনুষ্ঠানে ‘Prevention is better than cure’ বা ‘প্রতিরোধ প্রতিকারের চেয়ে উত্তম’—এই নীতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায়। পুষ্টি, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো বিষয়গুলোতে আগেভাগে স্বাস্থ্যসম্মত পরামর্শ পেলে রোগের নিরাময় অনেক সহজ হয়। নিয়মিত পরীক্ষা, সচেতনতা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক রোগ শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় সম্ভব। চিকিৎসকদের তিনি মানুষের বিপদের বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি মানবিক গুণাবলি অর্জনের আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা জোরদারে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। একই সঙ্গে পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সারাদেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে, যাদের ৮০ শতাংশই হবেন নারী।

স্বাস্থ্যখাতের বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাখাতের পর এবারই সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যখাতে। চলতি অর্থবছরে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে এই বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, ভালভ ও ক্যানসার চিকিৎসার কাঁচামালসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো হয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে দেশের ৫০০ উপজেলার মধ্যে বর্তমানে মাত্র পাঁচটিতে ১০০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। এ কারণে বর্তমানে ৩১ থেকে ৫১ শয্যার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতাল পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে হাসপাতালের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বরিশাল ও রাজশাহীতে নির্মিত ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর কথা জানান তিনি। পরিশেষে, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আজকের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নদের হাত ধরেই চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ গুরুত্ব

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৪৬:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালকে দেশের ইতিহাসের এক অনন্য ও গৌরবময় সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শুধু চিকিৎসা ক্ষেত্রই নয়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

অনুষ্ঠানে ‘Prevention is better than cure’ বা ‘প্রতিরোধ প্রতিকারের চেয়ে উত্তম’—এই নীতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায়। পুষ্টি, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো বিষয়গুলোতে আগেভাগে স্বাস্থ্যসম্মত পরামর্শ পেলে রোগের নিরাময় অনেক সহজ হয়। নিয়মিত পরীক্ষা, সচেতনতা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক রোগ শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় সম্ভব। চিকিৎসকদের তিনি মানুষের বিপদের বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি মানবিক গুণাবলি অর্জনের আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা জোরদারে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। একই সঙ্গে পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সারাদেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে, যাদের ৮০ শতাংশই হবেন নারী।

স্বাস্থ্যখাতের বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাখাতের পর এবারই সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যখাতে। চলতি অর্থবছরে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে এই বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, ভালভ ও ক্যানসার চিকিৎসার কাঁচামালসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো হয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে দেশের ৫০০ উপজেলার মধ্যে বর্তমানে মাত্র পাঁচটিতে ১০০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। এ কারণে বর্তমানে ৩১ থেকে ৫১ শয্যার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতাল পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে হাসপাতালের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বরিশাল ও রাজশাহীতে নির্মিত ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর কথা জানান তিনি। পরিশেষে, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আজকের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নদের হাত ধরেই চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে।