লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মোজাফফর

দীর্ঘ ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর-উত্তম) হত্যা মামলার অন্যতম মূলহোতা ছদ্মবেশী মেজর মোজাফফর হোসেন (অব.)। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করেন। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে কোর্ট মার্শাল সম্পন্ন করার জন্য তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয় থেকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দীর্ঘ সময় পলাতক থাকাকালীন মোজাফফর নিজের পরিচয় সম্পূর্ণ মুছে ফেলেছিলেন। তিনি আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে চেহারা, পোশাক ও চলাফেরার ধরন পরিবর্তন করেছিলেন। নিজেকে রাজনীতিবিমুখ অবসরপ্রাপ্ত সাধারণ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বনানীর ডিওএইচএসে শ্বশুরের বাসায় বসবাস করছিলেন। গোয়েন্দা সদস্যরা দীর্ঘদিন তার শারীরিক বৈশিষ্ট্য, বিশেষ করে নাকের নিচে থাকা একটি কালো জন্মদাগের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে আসছিলেন। মোজাফফরের মেয়ের কর্মস্থল ও চলাফেরা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তারা ওই বাসার অবস্থান নিশ্চিত করেন।

মঙ্গলবার রাতে ডিবির একটি দল টেলিকম কোম্পানির কর্মী পরিচয় দিয়ে ওই বাসায় গিয়ে মোজাফফরের মেয়ের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। এ সময় বয়োবৃদ্ধ মোজাফফর নিজেই বেরিয়ে আসেন এবং তার নাকের নিচের জন্মদাগ দেখে গোয়েন্দারা তাকে শনাক্ত করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেই নিজের পরিচয় নিশ্চিত করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে মোজাফফরই একমাত্র জীবিত ব্যক্তি। ঘটনার পর তিনি প্রথমে দেশের ভেতরেই আত্মগোপনে ছিলেন এবং পরে কলকাতায় গিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার আশ্রয় নেন। সেখানে তিনি কখনো ‘বিপ্লব সরকার’ আবার কখনো ‘জয় ব্যানার্জি’ ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন। কলকাতায় থাকাকালে তিনি থাইল্যান্ডে গিয়ে পলাতক আসামি মেজর এস এম খালেদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ভারতে অবস্থান করার পর তিনি দেশে ফিরে এসে নতুন পরিচয় নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ২৯ মে জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে সফরকালে ৩০ মে ভোরে সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা তাকে হত্যা করে। অভিযোগ রয়েছে, মোজাফফরই প্রথম জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান।

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুলের শব্দে আম্পায়ার বিভ্রান্ত, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে প্রতারণার নজির

৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মোজাফফর

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩১:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘ ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর-উত্তম) হত্যা মামলার অন্যতম মূলহোতা ছদ্মবেশী মেজর মোজাফফর হোসেন (অব.)। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করেন। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে কোর্ট মার্শাল সম্পন্ন করার জন্য তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয় থেকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দীর্ঘ সময় পলাতক থাকাকালীন মোজাফফর নিজের পরিচয় সম্পূর্ণ মুছে ফেলেছিলেন। তিনি আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে চেহারা, পোশাক ও চলাফেরার ধরন পরিবর্তন করেছিলেন। নিজেকে রাজনীতিবিমুখ অবসরপ্রাপ্ত সাধারণ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বনানীর ডিওএইচএসে শ্বশুরের বাসায় বসবাস করছিলেন। গোয়েন্দা সদস্যরা দীর্ঘদিন তার শারীরিক বৈশিষ্ট্য, বিশেষ করে নাকের নিচে থাকা একটি কালো জন্মদাগের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে আসছিলেন। মোজাফফরের মেয়ের কর্মস্থল ও চলাফেরা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তারা ওই বাসার অবস্থান নিশ্চিত করেন।

মঙ্গলবার রাতে ডিবির একটি দল টেলিকম কোম্পানির কর্মী পরিচয় দিয়ে ওই বাসায় গিয়ে মোজাফফরের মেয়ের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। এ সময় বয়োবৃদ্ধ মোজাফফর নিজেই বেরিয়ে আসেন এবং তার নাকের নিচের জন্মদাগ দেখে গোয়েন্দারা তাকে শনাক্ত করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেই নিজের পরিচয় নিশ্চিত করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে মোজাফফরই একমাত্র জীবিত ব্যক্তি। ঘটনার পর তিনি প্রথমে দেশের ভেতরেই আত্মগোপনে ছিলেন এবং পরে কলকাতায় গিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার আশ্রয় নেন। সেখানে তিনি কখনো ‘বিপ্লব সরকার’ আবার কখনো ‘জয় ব্যানার্জি’ ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন। কলকাতায় থাকাকালে তিনি থাইল্যান্ডে গিয়ে পলাতক আসামি মেজর এস এম খালেদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ভারতে অবস্থান করার পর তিনি দেশে ফিরে এসে নতুন পরিচয় নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ২৯ মে জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে সফরকালে ৩০ মে ভোরে সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা তাকে হত্যা করে। অভিযোগ রয়েছে, মোজাফফরই প্রথম জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান।