লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদত্যাগের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যেসব সুবিধা পাবেন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা এই নেতা পদত্যাগ করলেও আইন অনুযায়ী তিনি অবসরভাতা, চিকিৎসা সুবিধাসহ নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন। একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির প্রাপ্য এসব সুবিধার বিবরণ ‘রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইনে’ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি পদে কমপক্ষে ছয় মাস দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ করলে বা মেয়াদ শেষে অবসর নিলে তিনি আমৃত্যু মাসিক অবসর ভাতা পাবেন। এই ভাতার পরিমাণ হবে রাষ্ট্রপতির সর্বশেষ মাসিক বেতনের ৭৫ শতাংশ। ‘দ্য প্রেসিডেন্টস (রিমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫ (মে ২০১৬ পর্যন্ত সংশোধিত)’ অনুযায়ী, বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে মো. সাহাবুদ্দিন মাসে ৯০ হাজার টাকা অবসর ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবেন। তবে তিনি যদি আগে অন্য কোনো চাকরি থেকে অবসরভাতা পেয়ে থাকেন, তবে তিনি ওই অবসর ভাতা এবং রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতার মধ্যে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি মারা গেলে তাঁর বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী আমৃত্যু প্রাপ্য ভাতার দুই-তৃতীয়াংশ হারে মাসিক ভাতা পাবেন।

অবসর ভাতার পরিবর্তে সাবেক রাষ্ট্রপতি চাইলে আনুতোষিক বা এককালীন অর্থও নিতে পারবেন। প্রাধিকার অর্জনের এক মাসের মধ্যে তাকে এই ইচ্ছার কথা জানাতে হবে। আনুতোষিকের পরিমাণ হবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা প্রতি বছরের জন্য এক বছরের অবসর ভাতার সমপরিমাণ। মেয়াদকালে আংশিক বছরকেও পূর্ণ বছর হিসেবে গণ্য করা হবে। কোনো ব্যক্তি ছয় মাসের বেশি দায়িত্ব পালন করে আনুতোষিক বা ভাতার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না জানিয়ে মারা গেলে, তিনি আনুতোষিক চেয়েছেন বলে ধরে নিয়ে মনোনীত ব্যক্তি বা উত্তরাধিকারীরা সেই অর্থ পাবেন।

অন্যান্য সুবিধার মধ্যে মো. সাহাবুদ্দিন একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেনডেন্ট পাবেন। সরকার নির্ধারিত বার্ষিক দাপ্তরিক ব্যয়ও তিনি পাবেন। চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রে তিনি একজন মন্ত্রীর সমান সুবিধা পাবেন। এছাড়া সরকারি অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বিনা মূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ, আবাসস্থলে টেলিফোন সংযোগ এবং সরকার নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত বিল পরিশোধের সুবিধা থাকবে। সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাবেন এবং দেশের ভেতরে সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্টহাউসে বিনা ভাড়ায় থাকতে পারবেন। তার স্ত্রীও চিকিৎসা সুবিধা, কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং সার্কিট হাউসে বিনা ভাড়ায় থাকার সুবিধা পাবেন।

তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এসব সুবিধা বাতিল হতে পারে। দায়িত্ব শেষে অন্য কোনো দপ্তরে, আসনে, পদে বা মর্যাদায় দায়িত্ব পালন করে নির্ধারিত তহবিল থেকে বেতন বা সুবিধা নিলে তিনি এই অবসর সুবিধা পাবেন না। এছাড়া আদালতের মাধ্যমে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত হলে অথবা অসাংবিধানিক বা অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন বলে উচ্চ আদালত ঘোষণা করলেও সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে এসব সুবিধা পাওয়ার অধিকার হারাবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুলের শব্দে আম্পায়ার বিভ্রান্ত, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে প্রতারণার নজির

পদত্যাগের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যেসব সুবিধা পাবেন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩১:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা এই নেতা পদত্যাগ করলেও আইন অনুযায়ী তিনি অবসরভাতা, চিকিৎসা সুবিধাসহ নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন। একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির প্রাপ্য এসব সুবিধার বিবরণ ‘রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইনে’ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি পদে কমপক্ষে ছয় মাস দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ করলে বা মেয়াদ শেষে অবসর নিলে তিনি আমৃত্যু মাসিক অবসর ভাতা পাবেন। এই ভাতার পরিমাণ হবে রাষ্ট্রপতির সর্বশেষ মাসিক বেতনের ৭৫ শতাংশ। ‘দ্য প্রেসিডেন্টস (রিমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫ (মে ২০১৬ পর্যন্ত সংশোধিত)’ অনুযায়ী, বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে মো. সাহাবুদ্দিন মাসে ৯০ হাজার টাকা অবসর ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবেন। তবে তিনি যদি আগে অন্য কোনো চাকরি থেকে অবসরভাতা পেয়ে থাকেন, তবে তিনি ওই অবসর ভাতা এবং রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতার মধ্যে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি মারা গেলে তাঁর বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী আমৃত্যু প্রাপ্য ভাতার দুই-তৃতীয়াংশ হারে মাসিক ভাতা পাবেন।

অবসর ভাতার পরিবর্তে সাবেক রাষ্ট্রপতি চাইলে আনুতোষিক বা এককালীন অর্থও নিতে পারবেন। প্রাধিকার অর্জনের এক মাসের মধ্যে তাকে এই ইচ্ছার কথা জানাতে হবে। আনুতোষিকের পরিমাণ হবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা প্রতি বছরের জন্য এক বছরের অবসর ভাতার সমপরিমাণ। মেয়াদকালে আংশিক বছরকেও পূর্ণ বছর হিসেবে গণ্য করা হবে। কোনো ব্যক্তি ছয় মাসের বেশি দায়িত্ব পালন করে আনুতোষিক বা ভাতার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না জানিয়ে মারা গেলে, তিনি আনুতোষিক চেয়েছেন বলে ধরে নিয়ে মনোনীত ব্যক্তি বা উত্তরাধিকারীরা সেই অর্থ পাবেন।

অন্যান্য সুবিধার মধ্যে মো. সাহাবুদ্দিন একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেনডেন্ট পাবেন। সরকার নির্ধারিত বার্ষিক দাপ্তরিক ব্যয়ও তিনি পাবেন। চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রে তিনি একজন মন্ত্রীর সমান সুবিধা পাবেন। এছাড়া সরকারি অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বিনা মূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ, আবাসস্থলে টেলিফোন সংযোগ এবং সরকার নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত বিল পরিশোধের সুবিধা থাকবে। সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাবেন এবং দেশের ভেতরে সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্টহাউসে বিনা ভাড়ায় থাকতে পারবেন। তার স্ত্রীও চিকিৎসা সুবিধা, কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং সার্কিট হাউসে বিনা ভাড়ায় থাকার সুবিধা পাবেন।

তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এসব সুবিধা বাতিল হতে পারে। দায়িত্ব শেষে অন্য কোনো দপ্তরে, আসনে, পদে বা মর্যাদায় দায়িত্ব পালন করে নির্ধারিত তহবিল থেকে বেতন বা সুবিধা নিলে তিনি এই অবসর সুবিধা পাবেন না। এছাড়া আদালতের মাধ্যমে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত হলে অথবা অসাংবিধানিক বা অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন বলে উচ্চ আদালত ঘোষণা করলেও সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে এসব সুবিধা পাওয়ার অধিকার হারাবেন।