লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনিশ্চিত বিশ্বে জাপানের কূটনীতি নিয়ে যা বললেন ফুমিও কিশিদা

জাপানের ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ফুমিও কিশিদা। এর আগে ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। বর্তমানে এলডিপির প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত কিশিদা তাঁর মেয়াদকালে করোনা মহামারির চ্যালেঞ্জ, শিনজো আবে হত্যাকাণ্ড, ইউনিফিকেশন গির্জা ও দলীয় অর্থ কেলেঙ্কারির মতো জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের প্রেক্ষাপটে প্রথম জাপানি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া এবং ২০২৩ সালে গোপনে ইউক্রেন সফর করা তাঁর উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ ছিল। এছাড়া একই বছর হিরোশিমায় জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন করেন তিনি। ২০২৪ সালে পদত্যাগের পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন শিগেরু ইশিবা।

পদ ছাড়লেও কিশিদা কূটনীতি ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বিশেষ দূত হিসেবে ফিলিপাইন সফর করেছেন, যা জাপানের রাজনীতিতে তাঁর ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়। গত ২৬ জুন টোকিওতে বিদেশি সাংবাদিকদের ক্লাব এফসিসিজেতে ‘অনিশ্চিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জাপানের কূটনীতি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। কিশিদা বলেন, স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের স্থিতিশীলতা এখন আর নেই। চীনের সামরিক ও অর্থনৈতিক উত্থান কৌশলগত প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছে এবং ইউক্রেনে রুশ আক্রমণ জাতিসংঘ স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করেছে, যা বিশ্বকে এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রত্যাবর্তনকে কিশিদা কেবল ব্যক্তিগত প্রভাব হিসেবে না দেখে বরং একটি কাঠামোগত প্রবণতা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চরম ডানপন্থী শক্তির উত্থান ও অন্তর্মুখী প্রবণতা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার গভীরে বিদ্যমান হতাশারই প্রতিফলন। এই পরিবর্তনশীল বিশ্বে জাপানের করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, আইনের শাসনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান, বহুপক্ষীয়তা ও মুক্ত বাণিজ্যের মূল্যবোধ রক্ষা করাই একমাত্র পথ। প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা জাপানের মতো দ্বীপরাষ্ট্রের জন্য জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রধান শক্তিগুলোর সাথে বিচক্ষণতার সাথে কাজ করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

কিশিদার মতে, জাপানের কূটনীতি দুটি স্তরে এগোবে—একদিকে আদর্শের অনুসরণ, অন্যদিকে প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার সাথে বাস্তবতার মোকাবিলা। তিনি পারমাণবিক অস্ত্রহীন বিশ্বকে কেবল কল্পনা নয়, বরং একটি আদর্শ হিসেবে অভিহিত করেন যা ধাপে ধাপে বাস্তবসম্মতভাবে অনুসরণ করতে হবে। মানবিক মর্যাদা ও মানব নিরাপত্তার ধারণাকে জাপানের অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুক্ত ও অবাধ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য সমষ্টিগত শক্তি বৃদ্ধি এবং জবরদস্তি প্রত্যাখ্যান করা সময়ের দাবি। আন্তর্জাতিক আইনই জাপানের মতো দেশগুলোর জন্য রক্ষাকবচ, তাই বিশ্ব সম্প্রদায়কে আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রাম আদালতের ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে ঢাকায় প্রশিক্ষণ শুরু

অনিশ্চিত বিশ্বে জাপানের কূটনীতি নিয়ে যা বললেন ফুমিও কিশিদা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:০৪:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

জাপানের ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ফুমিও কিশিদা। এর আগে ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। বর্তমানে এলডিপির প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত কিশিদা তাঁর মেয়াদকালে করোনা মহামারির চ্যালেঞ্জ, শিনজো আবে হত্যাকাণ্ড, ইউনিফিকেশন গির্জা ও দলীয় অর্থ কেলেঙ্কারির মতো জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের প্রেক্ষাপটে প্রথম জাপানি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া এবং ২০২৩ সালে গোপনে ইউক্রেন সফর করা তাঁর উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ ছিল। এছাড়া একই বছর হিরোশিমায় জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন করেন তিনি। ২০২৪ সালে পদত্যাগের পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন শিগেরু ইশিবা।

পদ ছাড়লেও কিশিদা কূটনীতি ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বিশেষ দূত হিসেবে ফিলিপাইন সফর করেছেন, যা জাপানের রাজনীতিতে তাঁর ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়। গত ২৬ জুন টোকিওতে বিদেশি সাংবাদিকদের ক্লাব এফসিসিজেতে ‘অনিশ্চিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জাপানের কূটনীতি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। কিশিদা বলেন, স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের স্থিতিশীলতা এখন আর নেই। চীনের সামরিক ও অর্থনৈতিক উত্থান কৌশলগত প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছে এবং ইউক্রেনে রুশ আক্রমণ জাতিসংঘ স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করেছে, যা বিশ্বকে এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রত্যাবর্তনকে কিশিদা কেবল ব্যক্তিগত প্রভাব হিসেবে না দেখে বরং একটি কাঠামোগত প্রবণতা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চরম ডানপন্থী শক্তির উত্থান ও অন্তর্মুখী প্রবণতা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার গভীরে বিদ্যমান হতাশারই প্রতিফলন। এই পরিবর্তনশীল বিশ্বে জাপানের করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, আইনের শাসনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান, বহুপক্ষীয়তা ও মুক্ত বাণিজ্যের মূল্যবোধ রক্ষা করাই একমাত্র পথ। প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা জাপানের মতো দ্বীপরাষ্ট্রের জন্য জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রধান শক্তিগুলোর সাথে বিচক্ষণতার সাথে কাজ করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

কিশিদার মতে, জাপানের কূটনীতি দুটি স্তরে এগোবে—একদিকে আদর্শের অনুসরণ, অন্যদিকে প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার সাথে বাস্তবতার মোকাবিলা। তিনি পারমাণবিক অস্ত্রহীন বিশ্বকে কেবল কল্পনা নয়, বরং একটি আদর্শ হিসেবে অভিহিত করেন যা ধাপে ধাপে বাস্তবসম্মতভাবে অনুসরণ করতে হবে। মানবিক মর্যাদা ও মানব নিরাপত্তার ধারণাকে জাপানের অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুক্ত ও অবাধ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য সমষ্টিগত শক্তি বৃদ্ধি এবং জবরদস্তি প্রত্যাখ্যান করা সময়ের দাবি। আন্তর্জাতিক আইনই জাপানের মতো দেশগুলোর জন্য রক্ষাকবচ, তাই বিশ্ব সম্প্রদায়কে আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।