লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৈরী আবহাওয়ায় খালাস বিঘ্নিত: দেশে ফের গ্যাসের তীব্র সংকট, গ্রাহক ভোগান্তি

গ্যাসের সরবরাহ বাড়ার চারদিনের মাথায় আবারও দেশে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমদানি করা এলএনজি খালাস করতে না পারায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা সাধারণ গ্রাহক ও সিএনজি চালকদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার এলএনজি নিয়ে একটি নতুন জাহাজ এলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে টার্মিনালে গ্যাস খালাস করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে গ্যাসের সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করে। সরবরাহ কমে গেছে ২৫ কোটি ঘনফুটেরও বেশি। তবে আবহাওয়ার উন্নতি হলে বুধবার থেকে সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, এলএনজির জাহাজটি টার্মিনালের কাছেই অবস্থান করছে, কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সেটিকে ভেড়ানো যাচ্ছে না। এছাড়া এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের একটি বয়লার বর্তমানে চালু রয়েছে এবং দ্বিতীয়টি আগামী দু-একদিনের মধ্যে সক্রিয় করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বর্তমানে এক্সিলারেটের অক্ষত বয়লারটি থেকে দৈনিক গড়ে ২৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। টার্মিনালটিতে থাকা দুটি বয়লারের প্রতিটির সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট, যার একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করার চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য বর্তমানে সচল বয়লারটি অন্তত ১২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখতে হবে। ছুটির দিনে চাহিদা কম থাকার সময় এই পরীক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে পেট্রোবাংলা। এ লক্ষ্যে এক্সিলারেট এনার্জিকে একটি কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে, যা জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত করা হবে।

দেশে দৈনিক গ্যাসের মোট চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে ১০৫ কোটি ঘনফুট। এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ থাকার সময় সামিটের টার্মিনাল সর্বোচ্চ ৫৭ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করেছিল, যা পরে ৫০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। এতে দৈনিক গ্যাসের সরবরাহ ২১৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। এরপর এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালুর পর সরবরাহ বেড়ে ২৪৫ কোটি ঘনফুট পার হলেও, বর্তমানে সামিটের টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ ২৫ কোটি ঘনফুট কমে গেছে। এর ফলে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ ২২০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই যুবকের মৃত্যু

বৈরী আবহাওয়ায় খালাস বিঘ্নিত: দেশে ফের গ্যাসের তীব্র সংকট, গ্রাহক ভোগান্তি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৫৮:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

গ্যাসের সরবরাহ বাড়ার চারদিনের মাথায় আবারও দেশে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমদানি করা এলএনজি খালাস করতে না পারায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা সাধারণ গ্রাহক ও সিএনজি চালকদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার এলএনজি নিয়ে একটি নতুন জাহাজ এলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে টার্মিনালে গ্যাস খালাস করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে গ্যাসের সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করে। সরবরাহ কমে গেছে ২৫ কোটি ঘনফুটেরও বেশি। তবে আবহাওয়ার উন্নতি হলে বুধবার থেকে সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, এলএনজির জাহাজটি টার্মিনালের কাছেই অবস্থান করছে, কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সেটিকে ভেড়ানো যাচ্ছে না। এছাড়া এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের একটি বয়লার বর্তমানে চালু রয়েছে এবং দ্বিতীয়টি আগামী দু-একদিনের মধ্যে সক্রিয় করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বর্তমানে এক্সিলারেটের অক্ষত বয়লারটি থেকে দৈনিক গড়ে ২৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। টার্মিনালটিতে থাকা দুটি বয়লারের প্রতিটির সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট, যার একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করার চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য বর্তমানে সচল বয়লারটি অন্তত ১২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখতে হবে। ছুটির দিনে চাহিদা কম থাকার সময় এই পরীক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে পেট্রোবাংলা। এ লক্ষ্যে এক্সিলারেট এনার্জিকে একটি কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে, যা জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত করা হবে।

দেশে দৈনিক গ্যাসের মোট চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে ১০৫ কোটি ঘনফুট। এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ থাকার সময় সামিটের টার্মিনাল সর্বোচ্চ ৫৭ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করেছিল, যা পরে ৫০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। এতে দৈনিক গ্যাসের সরবরাহ ২১৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। এরপর এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালুর পর সরবরাহ বেড়ে ২৪৫ কোটি ঘনফুট পার হলেও, বর্তমানে সামিটের টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ ২৫ কোটি ঘনফুট কমে গেছে। এর ফলে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ ২২০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে।