লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোদাগাড়ীতে মারধরের অভিযোগের পর যুবকের মৃত্যু, ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুরসুনিপাড়ার বাসিন্দা শাওন আলী (২৫) নামের এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার বেলা দেড়টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিপক্ষের মারধরের কারণে অসুস্থ হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সনদে কারণ হিসেবে ডেঙ্গু, কার্ডিওজেনিক শক ও রক্তে সংক্রমণের কথা উল্লেখ থাকায় পুলিশ ময়নাতদন্ত করেনি। শেষ পর্যন্ত ময়নাতদন্ত ছাড়াই আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁকে স্থানীয় গোরস্তানে দাফন করা হয়েছে।

নিহত শাওনের স্ত্রী আদরী বেগম জানান, পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে গত ৩০ জুন প্রতিবেশী মো. রানা (২৫), তাঁর বাবা মহবুল ইসলাম (৪২) ও মা রিনা বেগম (৩৫) শাওনকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরদিন ১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় তাঁকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় আদরী বেগম গোদাগাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। মারধরের পর শাওনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু সুস্থ না হওয়ায় ১৭ জুলাই জ্বর নিয়ে তাঁকে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তাঁর শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।

শাওনের মৃত্যুর পর তাঁর স্বজনেরা গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু ওসি জানান, মৃত্যুর সনদে ডেঙ্গুর কথা উল্লেখ থাকায় পুলিশের কিছু করার নেই। ওসি আতিকুর রহমান বলেন, দ্বিতীয় দফায় হাসপাতালে ভর্তির সময় এটি কোনো 'পুলিশ কেস' হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি, তাই ময়নাতদন্ত করা সম্ভব নয়। আদরী বেগমের দায়ের করা অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, 'অভিযোগ করেছে কি না সেটা আমার নলেজে নাই। ২০ দিন আগের অভিযোগ নিয়ে এখন বলতে পারব না।'

এদিকে শাওনের মরদেহ গ্রামে নেওয়ার পর এলাকাবাসী ময়নাতদন্তের দাবিতে দাফন কাজ স্থগিত রাখেন। সারা রাত পুলিশ আসবে এই আশায় অপেক্ষা করেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পচন রোধে মরদেহ দাফন করা হয়। প্রতিবেশী কাজিম আলী বলেন, 'আমরা চেয়েছিলাম লাশের পোস্টমর্টেম হোক, তাহলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যেত। পুলিশ সে ব্যবস্থা করেনি।' ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মহবুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন এবং তাঁদের বাড়িতে তালা ঝুলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ের ২৭ দিনে আড়াই বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয়

গোদাগাড়ীতে মারধরের অভিযোগের পর যুবকের মৃত্যু, ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০৪:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুরসুনিপাড়ার বাসিন্দা শাওন আলী (২৫) নামের এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার বেলা দেড়টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিপক্ষের মারধরের কারণে অসুস্থ হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সনদে কারণ হিসেবে ডেঙ্গু, কার্ডিওজেনিক শক ও রক্তে সংক্রমণের কথা উল্লেখ থাকায় পুলিশ ময়নাতদন্ত করেনি। শেষ পর্যন্ত ময়নাতদন্ত ছাড়াই আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁকে স্থানীয় গোরস্তানে দাফন করা হয়েছে।

নিহত শাওনের স্ত্রী আদরী বেগম জানান, পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে গত ৩০ জুন প্রতিবেশী মো. রানা (২৫), তাঁর বাবা মহবুল ইসলাম (৪২) ও মা রিনা বেগম (৩৫) শাওনকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরদিন ১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় তাঁকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় আদরী বেগম গোদাগাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। মারধরের পর শাওনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু সুস্থ না হওয়ায় ১৭ জুলাই জ্বর নিয়ে তাঁকে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তাঁর শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।

শাওনের মৃত্যুর পর তাঁর স্বজনেরা গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু ওসি জানান, মৃত্যুর সনদে ডেঙ্গুর কথা উল্লেখ থাকায় পুলিশের কিছু করার নেই। ওসি আতিকুর রহমান বলেন, দ্বিতীয় দফায় হাসপাতালে ভর্তির সময় এটি কোনো 'পুলিশ কেস' হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি, তাই ময়নাতদন্ত করা সম্ভব নয়। আদরী বেগমের দায়ের করা অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, 'অভিযোগ করেছে কি না সেটা আমার নলেজে নাই। ২০ দিন আগের অভিযোগ নিয়ে এখন বলতে পারব না।'

এদিকে শাওনের মরদেহ গ্রামে নেওয়ার পর এলাকাবাসী ময়নাতদন্তের দাবিতে দাফন কাজ স্থগিত রাখেন। সারা রাত পুলিশ আসবে এই আশায় অপেক্ষা করেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পচন রোধে মরদেহ দাফন করা হয়। প্রতিবেশী কাজিম আলী বলেন, 'আমরা চেয়েছিলাম লাশের পোস্টমর্টেম হোক, তাহলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যেত। পুলিশ সে ব্যবস্থা করেনি।' ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মহবুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন এবং তাঁদের বাড়িতে তালা ঝুলছে।