লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে মন্তব্যের জেরে চাকরি হারালেন হাইকোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার ইব্রাহীম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়াকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

চাকরি হারানোর পর ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রায় ২ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সর্বশেষ নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার ফেসবুক পোস্টে তিনি কোনো নির্দিষ্ট বিচারপতির নাম বা ‘প্রধান বিচারপতি’ শব্দটি ব্যবহার করেননি।

ইব্রাহীম আলমের ভাষ্যমতে, বিদায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সময়ে বাসাবাড়িতে কর্মরত এমএলএসএসদের সমস্যা সমাধানের জন্য একটি তিন সদস্যের বিচারপতি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ওই কমিটির কাছে বাসাবাড়িতে কর্মরত কর্মচারীদের ওপর নির্যাতন ও সরকারি ছুটি না পাওয়ার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তার দাবি অনুযায়ী, ওই অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর এমএলএসএসদের বাসাবাড়ি থেকে প্রত্যাহার করে সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসন ওই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে পুনরায় বাসাবাড়িতে কর্মচারী পদায়নের উদ্যোগ নিলে কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। সেই পরিস্থিতিতে অস্থিরতা এড়াতে এবং কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তিনি গত ১২ এপ্রিল ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন।

নিজের বিরুদ্ধে কর্মচারীদের আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন ইব্রাহীম। তিনি বলেন, তদন্তে তার সম্পৃক্ততার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার দাবি, তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন ছিল ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর আগে গত ৭ মে সাময়িক বরখাস্তের আদেশে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেই আদেশে গত ২৬ এপ্রিলের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের কথা উল্লেখ করা হয়, যেখানে তিনি বিচারপতিদের বাসভবনে কর্মরত কর্মচারীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের সমালোচনা করেছিলেন।

চাকরিচ্যুতির আদেশ পাওয়ার পর নিজের সর্বশেষ পোস্টে ইব্রাহীম লিখেছেন, কর্মচারীদের প্রতিনিধি হিসেবে অনিয়ম ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাকে এই পরিণতির শিকার হতে হয়েছে। তিনি তার প্রতি হওয়া এই অবিচারের বিচার দেশবাসী এবং মহান আল্লাহর কাছে ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের বিষয়টি মাথা থেকে বের করতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ফেসবুকে মন্তব্যের জেরে চাকরি হারালেন হাইকোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার ইব্রাহীম

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:১৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়াকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

চাকরি হারানোর পর ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রায় ২ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সর্বশেষ নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার ফেসবুক পোস্টে তিনি কোনো নির্দিষ্ট বিচারপতির নাম বা ‘প্রধান বিচারপতি’ শব্দটি ব্যবহার করেননি।

ইব্রাহীম আলমের ভাষ্যমতে, বিদায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সময়ে বাসাবাড়িতে কর্মরত এমএলএসএসদের সমস্যা সমাধানের জন্য একটি তিন সদস্যের বিচারপতি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ওই কমিটির কাছে বাসাবাড়িতে কর্মরত কর্মচারীদের ওপর নির্যাতন ও সরকারি ছুটি না পাওয়ার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তার দাবি অনুযায়ী, ওই অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর এমএলএসএসদের বাসাবাড়ি থেকে প্রত্যাহার করে সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসন ওই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে পুনরায় বাসাবাড়িতে কর্মচারী পদায়নের উদ্যোগ নিলে কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। সেই পরিস্থিতিতে অস্থিরতা এড়াতে এবং কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তিনি গত ১২ এপ্রিল ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন।

নিজের বিরুদ্ধে কর্মচারীদের আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন ইব্রাহীম। তিনি বলেন, তদন্তে তার সম্পৃক্ততার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার দাবি, তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন ছিল ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর আগে গত ৭ মে সাময়িক বরখাস্তের আদেশে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেই আদেশে গত ২৬ এপ্রিলের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের কথা উল্লেখ করা হয়, যেখানে তিনি বিচারপতিদের বাসভবনে কর্মরত কর্মচারীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের সমালোচনা করেছিলেন।

চাকরিচ্যুতির আদেশ পাওয়ার পর নিজের সর্বশেষ পোস্টে ইব্রাহীম লিখেছেন, কর্মচারীদের প্রতিনিধি হিসেবে অনিয়ম ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাকে এই পরিণতির শিকার হতে হয়েছে। তিনি তার প্রতি হওয়া এই অবিচারের বিচার দেশবাসী এবং মহান আল্লাহর কাছে ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।