লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে বিস্ফোরণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি দাবি

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পাতা একটি নৌপথ অতিক্রম করার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং সেগুলোতে আগুন ধরে গেছে। তবে এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইআরজিসির অধিকাংশ দাবির মতোই এটি একটি মিথ্যা তথ্য।

বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল ঘোষণা করার পর থেকে টানা সপ্তম দিনের মতো ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকম জানিয়েছে, কমান্ডার ইন চিফের নির্দেশে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইয়াজদ, কেশম দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির পার্শ্ববর্তী বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হরমোজগান প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। বিবিসি ভেরিফাই এবং বিবিসি ফারসি গারিভেহ সেতুতে ক্ষয়ক্ষতির ভিডিও ও ছবি যাচাই করেছে, যেখানে সেতুর একাংশ ধসে পড়া এবং ধ্বংসস্তূপ দেখা গেছে।

হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন শুধুমাত্র সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামোসহ সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালাচ্ছে। তবে তেহরান এর আগে অভিযোগ করেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র সেতু, রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এর আগে শুক্রবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছিল যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান এবং প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলার দাবি অস্বীকার করেছে। এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের সূত্র অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে জর্ডানের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এর আগে কুয়েতি কর্মকর্তারাও জানিয়েছিলেন যে, ইরানের ড্রোন হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন সেনা আহত এবং একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর এই ধারাবাহিক হামলা ও উত্তেজনা হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুলের শব্দে আম্পায়ার বিভ্রান্ত, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে প্রতারণার নজির

হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে বিস্ফোরণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি দাবি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পাতা একটি নৌপথ অতিক্রম করার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং সেগুলোতে আগুন ধরে গেছে। তবে এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইআরজিসির অধিকাংশ দাবির মতোই এটি একটি মিথ্যা তথ্য।

বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল ঘোষণা করার পর থেকে টানা সপ্তম দিনের মতো ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকম জানিয়েছে, কমান্ডার ইন চিফের নির্দেশে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইয়াজদ, কেশম দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির পার্শ্ববর্তী বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হরমোজগান প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। বিবিসি ভেরিফাই এবং বিবিসি ফারসি গারিভেহ সেতুতে ক্ষয়ক্ষতির ভিডিও ও ছবি যাচাই করেছে, যেখানে সেতুর একাংশ ধসে পড়া এবং ধ্বংসস্তূপ দেখা গেছে।

হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন শুধুমাত্র সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামোসহ সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালাচ্ছে। তবে তেহরান এর আগে অভিযোগ করেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র সেতু, রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এর আগে শুক্রবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছিল যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান এবং প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলার দাবি অস্বীকার করেছে। এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের সূত্র অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে জর্ডানের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এর আগে কুয়েতি কর্মকর্তারাও জানিয়েছিলেন যে, ইরানের ড্রোন হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন সেনা আহত এবং একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর এই ধারাবাহিক হামলা ও উত্তেজনা হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে।