লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ডের রায়

লালমনিরহাটে স্ত্রী মিতু আক্তারকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী আতিকুল ইসলামকে (৩০) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাটের জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী জনাকীর্ণ আদালতে চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আতিকুল ইসলাম আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে আতিকুল ইসলামের সঙ্গে মিতু আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আতিকা আক্তার নামে পাঁচ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান ছিল। তবে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে মিতুর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন আতিকুল।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে পারিবারিক কলহের জেরে মিতুর সঙ্গে আতিকুলের তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। ওই রাতে কাজের উদ্দেশ্যে আতিকুল পাবনা যেতে চাইলে মিতু তাকে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আতিকুল প্রথমে মিতুকে কিল-ঘুষি মারেন। পরে বাড়ির উঠানে থাকা একটি প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মিতুর মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই আতিকুল বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর সকালে মিতুর পাঁচ মাস বয়সী শিশুসন্তানের কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ঘরে গিয়ে তার মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত মিতুর বাবা মো. ইসলাম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর ২০২৪ সালের ৪ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে আদালত আতিকুলকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন বলেন, ‘আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছে যাবে যে, নারী নির্যাতন ও নৃশংসতার কোনো ছাড় নেই।’ তিনি আরও জানান, আইন অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির উচ্চ আদালতে আপিল করার আইনগত সুযোগ রয়েছে। এদিকে আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত মিতুর পরিবারও।

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্যের ডাক দিলেন চরমোনাই পীর

লালমনিরহাটে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ডের রায়

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

লালমনিরহাটে স্ত্রী মিতু আক্তারকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী আতিকুল ইসলামকে (৩০) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাটের জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী জনাকীর্ণ আদালতে চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আতিকুল ইসলাম আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে আতিকুল ইসলামের সঙ্গে মিতু আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আতিকা আক্তার নামে পাঁচ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান ছিল। তবে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে মিতুর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন আতিকুল।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে পারিবারিক কলহের জেরে মিতুর সঙ্গে আতিকুলের তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। ওই রাতে কাজের উদ্দেশ্যে আতিকুল পাবনা যেতে চাইলে মিতু তাকে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আতিকুল প্রথমে মিতুকে কিল-ঘুষি মারেন। পরে বাড়ির উঠানে থাকা একটি প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মিতুর মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই আতিকুল বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর সকালে মিতুর পাঁচ মাস বয়সী শিশুসন্তানের কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ঘরে গিয়ে তার মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত মিতুর বাবা মো. ইসলাম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর ২০২৪ সালের ৪ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে আদালত আতিকুলকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন বলেন, ‘আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছে যাবে যে, নারী নির্যাতন ও নৃশংসতার কোনো ছাড় নেই।’ তিনি আরও জানান, আইন অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির উচ্চ আদালতে আপিল করার আইনগত সুযোগ রয়েছে। এদিকে আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত মিতুর পরিবারও।