লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি নিয়ে চাপে বাংলাদেশ, বলছে আইইএ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত তাদের ‘ইলেকট্রিসিটি মিড-ইয়ার আপডেট ২০২৬’ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় এই দেশগুলো সরাসরি সংকটের মুখে পড়েছে। এর ফলে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে, যা দেশের বিদ্যুৎ খাতের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জরুরি পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।

আইইএ উল্লেখ করেছে, ২০২২-২৩ সালের জ্বালানি সংকটের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি সরবরাহে বাধার কারণে এশিয়া ও ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও উত্তর আমেরিকা থেকে অতিরিক্ত সরবরাহ বাজারের চাপ কিছুটা শিথিল করেছে, তবুও উচ্চমূল্যের কারণে এশিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশ বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার বাড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, শিল্পায়ন, বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ডেটা সেন্টারের সম্প্রসারণের ফলে বিশ্বে বিদ্যুতের চাহিদা ২০২৬ সালে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। ২০২৬ সালের মধ্যেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস হয়ে উঠবে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত বাড়তে থাকায় এটি জলবিদ্যুতের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎসে উন্নীত হবে।

তবে এলএনজি-নির্ভর দেশগুলোর বিষয়ে আইইএ সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও সরবরাহ-সংকট ছাড়াও আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি এলএনজি-নির্ভর দেশগুলোর বিদ্যুৎ খাতের সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান-ওমান আলোচনার খবরে তেলের দাম হ্রাস

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি নিয়ে চাপে বাংলাদেশ, বলছে আইইএ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত তাদের ‘ইলেকট্রিসিটি মিড-ইয়ার আপডেট ২০২৬’ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় এই দেশগুলো সরাসরি সংকটের মুখে পড়েছে। এর ফলে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে, যা দেশের বিদ্যুৎ খাতের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জরুরি পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।

আইইএ উল্লেখ করেছে, ২০২২-২৩ সালের জ্বালানি সংকটের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি সরবরাহে বাধার কারণে এশিয়া ও ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও উত্তর আমেরিকা থেকে অতিরিক্ত সরবরাহ বাজারের চাপ কিছুটা শিথিল করেছে, তবুও উচ্চমূল্যের কারণে এশিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশ বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার বাড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, শিল্পায়ন, বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ডেটা সেন্টারের সম্প্রসারণের ফলে বিশ্বে বিদ্যুতের চাহিদা ২০২৬ সালে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। ২০২৬ সালের মধ্যেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস হয়ে উঠবে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত বাড়তে থাকায় এটি জলবিদ্যুতের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎসে উন্নীত হবে।

তবে এলএনজি-নির্ভর দেশগুলোর বিষয়ে আইইএ সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও সরবরাহ-সংকট ছাড়াও আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি এলএনজি-নির্ভর দেশগুলোর বিদ্যুৎ খাতের সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।