লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফ মিশনের সঙ্গে বৈঠক রোববার

নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে ঢাকায় পৌঁছেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইএমএফের মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশনের প্রধান ইভো ক্রজনার। সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে প্রতিনিধিদলটি। এছাড়া সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এসব আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকার নতুন কর্মসূচির আওতায় আগামী তিন বছরের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ সামাল দেওয়া এবং অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে গত ৯ জুন অর্থমন্ত্রী আইএমএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের আলোচনায় অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই পর্যালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। সদ্য ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে করছাড়ের যৌক্তিকতা, রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা, আয়কর ও ভ্যাট সংস্কারের অগ্রগতি এবং আর্থিক খাত সংস্কারের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হবে। ব্যাংক খাতের অবস্থাও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রতিনিধিদলটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার বিষয়ে আলাদা মূল্যায়ন করবে। এর আওতায় বর্তমান জনবল সংখ্যা, নতুন নিয়োগের পরিকল্পনা, বিদ্যমান বেতনকাঠামো এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির নীতি ও ভাতার আর্থিক প্রভাবের মতো তথ্যগুলো সংস্থাটি চাইবে। এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ক্ষেত্রে আলাদা পর্যালোচনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ, জ্বালানি আমদানির ব্যয় এবং বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হবে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসে ভর্তুকি, পেট্রোবাংলাকে দেওয়া সরকারি সহায়তা এবং জ্বালানি খাতের সামগ্রিক আর্থিক প্রবাহও পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই বৈঠকগুলোর মাধ্যমে নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য শর্ত ও অগ্রাধিকারের বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে এবং সরকারও সাম্প্রতিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবে। ঢাকা সফর শেষে প্রতিনিধিদলটি ওয়াশিংটনে তাদের সদর দপ্তরে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেবে। যদি এই মূল্যায়ন ইতিবাচক হয়, তবে আগামী অক্টোবরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পর নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য আরেকটি মিশন ঢাকায় আসতে পারে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের আলোচনায় প্রায় পুরো অর্থনীতি সূচকগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। সদ্য ঘোষিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিভিন্ন করছাড়ের যৌক্তিকতা, রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা, আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সংস্কারের অগ্রগতি, কর–ব্যয়ের সংস্কার ও আর্থিক খাত সংস্কারের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ব

জনপ্রিয় সংবাদ

পাবনায় ভ্যান নিয়ে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহ

নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফ মিশনের সঙ্গে বৈঠক রোববার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩০:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে ঢাকায় পৌঁছেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইএমএফের মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশনের প্রধান ইভো ক্রজনার। সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে প্রতিনিধিদলটি। এছাড়া সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এসব আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকার নতুন কর্মসূচির আওতায় আগামী তিন বছরের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ সামাল দেওয়া এবং অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে গত ৯ জুন অর্থমন্ত্রী আইএমএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের আলোচনায় অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই পর্যালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। সদ্য ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে করছাড়ের যৌক্তিকতা, রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা, আয়কর ও ভ্যাট সংস্কারের অগ্রগতি এবং আর্থিক খাত সংস্কারের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হবে। ব্যাংক খাতের অবস্থাও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রতিনিধিদলটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার বিষয়ে আলাদা মূল্যায়ন করবে। এর আওতায় বর্তমান জনবল সংখ্যা, নতুন নিয়োগের পরিকল্পনা, বিদ্যমান বেতনকাঠামো এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির নীতি ও ভাতার আর্থিক প্রভাবের মতো তথ্যগুলো সংস্থাটি চাইবে। এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ক্ষেত্রে আলাদা পর্যালোচনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ, জ্বালানি আমদানির ব্যয় এবং বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হবে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসে ভর্তুকি, পেট্রোবাংলাকে দেওয়া সরকারি সহায়তা এবং জ্বালানি খাতের সামগ্রিক আর্থিক প্রবাহও পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই বৈঠকগুলোর মাধ্যমে নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য শর্ত ও অগ্রাধিকারের বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে এবং সরকারও সাম্প্রতিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবে। ঢাকা সফর শেষে প্রতিনিধিদলটি ওয়াশিংটনে তাদের সদর দপ্তরে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেবে। যদি এই মূল্যায়ন ইতিবাচক হয়, তবে আগামী অক্টোবরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পর নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য আরেকটি মিশন ঢাকায় আসতে পারে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের আলোচনায় প্রায় পুরো অর্থনীতি সূচকগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। সদ্য ঘোষিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিভিন্ন করছাড়ের যৌক্তিকতা, রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা, আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সংস্কারের অগ্রগতি, কর–ব্যয়ের সংস্কার ও আর্থিক খাত সংস্কারের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ব