লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন হামলার জবাবে ৮৫টি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইরানের প্রধান শহর ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থানে মার্কিন বিমানবাহিনীর ভয়াবহ হামলার পর, এর কঠোর জবাব দিয়েছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে আলজাজিরার খবরে জানানো হয়েছে।

ইরানি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন উপকূলীয় শহরগুলোতে এই হামলা চালায়। বিশেষ করে কৌশলগত কেশম দ্বীপে অন্তত সাতটি সামরিক অবস্থানে মার্কিন যুদ্ধবিমান আঘাত হানে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির ওপর নজরদারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিরিক শহরের ছয়টি অবস্থানে এবং বন্দর আব্বাসের দশটি অবস্থানে নিখুঁত বোমাবর্ষণ করা হয়, যার মধ্যে সামরিক টেলিযোগাযোগ টাওয়ারগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও পরমাণু পরিকল্পনাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই মার্কিন হামলাকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকের মারাত্মক লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ, নতুন হামলার হুমকি, তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও লেবাননে ইসরায়েলের চুক্তি লঙ্ঘন এই পরিস্থিতিকে উসকে দিয়েছে। গালিবাফ হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, জোরপূর্বক দাবি আদায়ের দিন শেষ এবং এই ধরনের চাপে ইরানকে দমানো সম্ভব নয়।

পাল্টা হামলার বিষয়ে আইআরজিসি জানিয়েছে, বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের প্রধান সদর দপ্তর এবং কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি তাদের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু ছিল। এছাড়াও দক্ষিণ ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে আইআরজিসি। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

খিলগাঁও ও মুগদা থানার দুই মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন

মার্কিন হামলার জবাবে ৮৫টি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৪৫:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইরানের প্রধান শহর ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থানে মার্কিন বিমানবাহিনীর ভয়াবহ হামলার পর, এর কঠোর জবাব দিয়েছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে আলজাজিরার খবরে জানানো হয়েছে।

ইরানি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন উপকূলীয় শহরগুলোতে এই হামলা চালায়। বিশেষ করে কৌশলগত কেশম দ্বীপে অন্তত সাতটি সামরিক অবস্থানে মার্কিন যুদ্ধবিমান আঘাত হানে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির ওপর নজরদারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিরিক শহরের ছয়টি অবস্থানে এবং বন্দর আব্বাসের দশটি অবস্থানে নিখুঁত বোমাবর্ষণ করা হয়, যার মধ্যে সামরিক টেলিযোগাযোগ টাওয়ারগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও পরমাণু পরিকল্পনাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই মার্কিন হামলাকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকের মারাত্মক লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ, নতুন হামলার হুমকি, তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও লেবাননে ইসরায়েলের চুক্তি লঙ্ঘন এই পরিস্থিতিকে উসকে দিয়েছে। গালিবাফ হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, জোরপূর্বক দাবি আদায়ের দিন শেষ এবং এই ধরনের চাপে ইরানকে দমানো সম্ভব নয়।

পাল্টা হামলার বিষয়ে আইআরজিসি জানিয়েছে, বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের প্রধান সদর দপ্তর এবং কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি তাদের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু ছিল। এছাড়াও দক্ষিণ ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে আইআরজিসি। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে।