লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈশ্বরদীতে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, চিঠিতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

পাবনার ঈশ্বরদীতে হৃদয় প্রামাণিক (৩০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়াড়সাহাপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত হৃদয় প্রামাণিক উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর মধ্যপাড়া (পাঠশালা মোড়) এলাকার আনজারুল প্রামাণিকের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হৃদয় তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে দিয়াড়সাহাপুর এলাকায় ছবি মন্ডল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার তিন দিন আগে স্ত্রী সুমাইয়া ঝগড়া করে বাবার বাড়িতে চলে যান, এরপর থেকে হৃদয় ওই বাসায় একাই থাকছিলেন। রোববার সন্ধ্যার পর বাড়ির মালিক হৃদয়ের খোঁজ নিতে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে তাঁর মাকে খবর দেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় হৃদয়ের মা ওই বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় হৃদয়কে দেখতে পান।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ হাতে লেখা একটি চিঠি উদ্ধার করেছে। চিঠিতে হৃদয় লিখেছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী সুমাইয়া, আমার ছেলেকে মারছে শরীফ, আমার জন্য দোয়া করবেন।’ স্থানীয় ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, চিঠিতে উল্লেখিত শরীফ হৃদয়ের দ্বিতীয় স্ত্রী সুমাইয়ার বড় ভাই। প্রায় এক মাস আগে সুমাইয়া একটি ছেলেসন্তান জন্ম দিয়েছিলেন, তবে জন্মের কয়েক দিন পরই শিশুটির মৃত্যু হয়। তবে নবজাতকটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। চিঠিতে সুমাইয়া ও শরীফের নাম উল্লেখ থাকলেও অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এইচএসসি ফলে শহর ও মফস্বলের বড় বৈষম্য, ঢাকার বাইরে হতাশাজনক চিত্র

ঈশ্বরদীতে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, চিঠিতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩০:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদীতে হৃদয় প্রামাণিক (৩০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়াড়সাহাপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত হৃদয় প্রামাণিক উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর মধ্যপাড়া (পাঠশালা মোড়) এলাকার আনজারুল প্রামাণিকের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হৃদয় তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে দিয়াড়সাহাপুর এলাকায় ছবি মন্ডল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার তিন দিন আগে স্ত্রী সুমাইয়া ঝগড়া করে বাবার বাড়িতে চলে যান, এরপর থেকে হৃদয় ওই বাসায় একাই থাকছিলেন। রোববার সন্ধ্যার পর বাড়ির মালিক হৃদয়ের খোঁজ নিতে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে তাঁর মাকে খবর দেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় হৃদয়ের মা ওই বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় হৃদয়কে দেখতে পান।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ হাতে লেখা একটি চিঠি উদ্ধার করেছে। চিঠিতে হৃদয় লিখেছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী সুমাইয়া, আমার ছেলেকে মারছে শরীফ, আমার জন্য দোয়া করবেন।’ স্থানীয় ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, চিঠিতে উল্লেখিত শরীফ হৃদয়ের দ্বিতীয় স্ত্রী সুমাইয়ার বড় ভাই। প্রায় এক মাস আগে সুমাইয়া একটি ছেলেসন্তান জন্ম দিয়েছিলেন, তবে জন্মের কয়েক দিন পরই শিশুটির মৃত্যু হয়। তবে নবজাতকটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। চিঠিতে সুমাইয়া ও শরীফের নাম উল্লেখ থাকলেও অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।