লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব ও রিজিক অন্বেষণের ৬ নির্দেশনা

ইসলামে প্রাথমিক ফরজ ইবাদতগুলোর পরই হালাল উপার্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী অনুযায়ী, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য হালাল রুজি সন্ধান করা একটি অনিবার্য কর্তব্য (মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ১০/৩৭৭)। ইসলামি অর্থনীতির মূল নীতিতেও বলা হয়েছে যে, দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা যেমন ফরজ, তেমনি জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ উপার্জন করাও আবশ্যক (কিতাবুল কাসব : ৭১)। অন্য একটি বর্ণনায় একে ইসলামের প্রাথমিক মৌলিক ফরজ আমলগুলোর পরেই দ্বিতীয় পর্যায়ের ফরজ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে (কানযুল উম্মাল : ৯২৩১)।

তবে হালাল উপার্জনের তাগিদ থাকলেও দুনিয়ার প্রতি অন্ধ আসক্তিকে ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওলামায়ে কেরামের মতে, ব্যবসা-বাণিজ্য করা ফরজে কেফায়া, কারণ এটি ছাড়া সমাজ ও রাষ্ট্র সচল রাখা সম্ভব নয়; তবে সম্পদের প্রতি মোহগ্রস্ততা কাম্য নয় (খুতুবাতে হাকিমুল উম্মত : ৮/১৯৭)। উপার্জনের পেছনে এমনভাবে মগ্ন হওয়া যাবে না যা মানুষকে আল্লাহর ইবাদত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। যেমন, নামাজের সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মসজিদে যাওয়া প্রশংসনীয়, কিন্তু ব্যবসার ব্যস্ততায় নামাজই ছুটে গেলে তা দুনিয়ার প্রতি নিষিদ্ধ আসক্তির বহিঃপ্রকাশ।

ইসলামে রিজিক অন্বেষণের ক্ষেত্রে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা মেনে চলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, উপার্জনের নিয়ত সর্বদা বিশুদ্ধ রাখতে হবে। নিয়ত সঠিক হলে সাধারণ কাজও ইবাদতে পরিণত হয়। চাকরি বা ব্যবসার মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের ভরণপোষণ এবং মানুষের সেবা করার নিয়ত থাকলে, তা রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ ও ফরজ আদায়ের সওয়াব এনে দেয়। দ্বিতীয়ত, উপার্জনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ইসলামি বিধান মেনে চলতে হবে। যাকাত ও সদকা আদায়ের পাশাপাশি সব ধরনের হারাম পথ পরিহার করা আবশ্যক। কেউ যদি কোনো হারাম পেশায় যুক্ত থাকেন, তবে দ্রুত হালাল কাজের সন্ধান করতে হবে এবং চলনসই ব্যবস্থা হওয়া মাত্রই হারামটি ত্যাগ করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি বলেন, কেউ যদি সারাজীবন কোনো নফল ইবাদত বা জিকির নাও করেন, কিন্তু নিজেকে হারাম উপার্জন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রেখে কবরে যান, তবে তিনি সরাসরি জান্নাতে যাবেন। বিপরীতে, হালাল-হারামের তোয়াক্কা না করে কেবল নফল ইবাদত বা তাহাজ্জুদ আদায় করলে তা মানুষকে শাস্তির হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না (ইসলাহি খুতুবাত : ১০/১৭৪)।

তৃতীয়ত, যেকোনো হালাল পেশাকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে এবং সেটিকে কখনোই ছোট করে দেখা যাবে না। রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যাকে যে কাজের মাধ্যমে রিজিক দিয়েছেন, সে যেন তা আঁকড়ে ধরে রাখে (কানজুল উম্মাল : ৯২৮৬)। চতুর্থত, নিজের প্রাপ্তির ওপর সন্তুষ্ট বা ‘কানাআত’ অর্জন করতে হবে। রাসুল (সা.) হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-কে দেওয়া পাঁচটি উপদেশের মধ্যে বলেছিলেন, হারাম থেকে বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বড় ইবাদতকারী হওয়া যায় এবং আল্লাহর দেওয়া রিজিকের ওপর সন্তুষ্ট থাকলে সবচেয়ে বড় ধনী হওয়া যায় (তিরমিজি : ২৩০৫)। প্রকৃত ধনী সে-ই, যে অন্যের সম্পদের দিকে না তাকিয়ে নিজের যা আছে তাতেই তৃপ্ত থাকে। এ জন্য রাসুল (সা.) আল্লাহর কাছে প্রাপ্ত রিজিকে সন্তুষ্টি ও বরকতের জন্য দোয়া করতে শিখিয়েছেন (মুস্তাদরাকে হাকিম : ১/৪৫৫)।

পঞ্চমত, তাকদিরের ওপর বিশ্বাস রেখে আল্লাহর ফয়সালা সহাস্য বদনে মেনে নিতে হবে। চেষ্টা করার পরও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না এলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকাই মোমিনের লক্ষণ (তিরমিজি : ২১৪৪)। ষষ্ঠত, রিজিক অন্বেষণে সর্বদা ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। ইসলামে ব্যবসার পরিধি বাড়ানো বা সম্পদ বৃদ্ধি নিষিদ্ধ নয়, তবে তা যেন মানুষের ওপর সওয়ার হয়ে না বসে। দিন-রাত কেবল ব্যবসার চিন্তা করা, পরিবারের হক নষ্ট করা কিংবা নামাজে ও ঘুমেও ব্যবসার ভাবনায় ডুবে থাকা কখনোই কাম্য নয়। তাই হালাল পথে উপার্জনের ক্ষেত্রেও দ্বীন ও দুনিয়ার মাঝে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

১. নিয়ত শুদ্ধ রাখা : নিয়ত বিশুদ্ধ হলে সাধারণ কাজও অসাধারণ হয়ে ওঠে। ঠাণ্ডা পানি পান করার প্রয়োজন। রাসুল (সা.) ঠাণ্ডা পানি পছন্দ করতেন, তাই পান করছি। এমন সামান্য কয়েক সেকেন্ডের নিয়ত সাধারণ পানি পানকে অসাধারণ করে তুলবে। তেমনি ব্যবসা বা চাকরির ক্ষেত্রে নিয়ত করা, আমার ওপর আমার ও আমার অধীনস্থদের যে হক রয়েছে, তা পূরণের জন্য ও

২. ইসলামের বিধানমতে রিজিক অন্বেষণ করা : রিজিক অন্বেষণ করতে হবে ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী। সুতরাং সম্পদ ও উপার্জন সংক্রান্ত ইসলামের যেসব নির্দেশনা রয়েছে, সেসব অনুসরণ করতে হবে। সম্পদের জাকাত ও সদকা আদায় করতে হবে। উপার্জন করতে হবে হালাল পন্থায়। হারাম থেকে বেঁচে থাকতে হবে। এরইমধ্যে হারাম উপার্জনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে থাকলে,

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে এনসিপি বহরে হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ইসলামে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব ও রিজিক অন্বেষণের ৬ নির্দেশনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৪৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ইসলামে প্রাথমিক ফরজ ইবাদতগুলোর পরই হালাল উপার্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী অনুযায়ী, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য হালাল রুজি সন্ধান করা একটি অনিবার্য কর্তব্য (মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ১০/৩৭৭)। ইসলামি অর্থনীতির মূল নীতিতেও বলা হয়েছে যে, দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা যেমন ফরজ, তেমনি জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ উপার্জন করাও আবশ্যক (কিতাবুল কাসব : ৭১)। অন্য একটি বর্ণনায় একে ইসলামের প্রাথমিক মৌলিক ফরজ আমলগুলোর পরেই দ্বিতীয় পর্যায়ের ফরজ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে (কানযুল উম্মাল : ৯২৩১)।

তবে হালাল উপার্জনের তাগিদ থাকলেও দুনিয়ার প্রতি অন্ধ আসক্তিকে ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওলামায়ে কেরামের মতে, ব্যবসা-বাণিজ্য করা ফরজে কেফায়া, কারণ এটি ছাড়া সমাজ ও রাষ্ট্র সচল রাখা সম্ভব নয়; তবে সম্পদের প্রতি মোহগ্রস্ততা কাম্য নয় (খুতুবাতে হাকিমুল উম্মত : ৮/১৯৭)। উপার্জনের পেছনে এমনভাবে মগ্ন হওয়া যাবে না যা মানুষকে আল্লাহর ইবাদত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। যেমন, নামাজের সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মসজিদে যাওয়া প্রশংসনীয়, কিন্তু ব্যবসার ব্যস্ততায় নামাজই ছুটে গেলে তা দুনিয়ার প্রতি নিষিদ্ধ আসক্তির বহিঃপ্রকাশ।

ইসলামে রিজিক অন্বেষণের ক্ষেত্রে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা মেনে চলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, উপার্জনের নিয়ত সর্বদা বিশুদ্ধ রাখতে হবে। নিয়ত সঠিক হলে সাধারণ কাজও ইবাদতে পরিণত হয়। চাকরি বা ব্যবসার মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের ভরণপোষণ এবং মানুষের সেবা করার নিয়ত থাকলে, তা রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ ও ফরজ আদায়ের সওয়াব এনে দেয়। দ্বিতীয়ত, উপার্জনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ইসলামি বিধান মেনে চলতে হবে। যাকাত ও সদকা আদায়ের পাশাপাশি সব ধরনের হারাম পথ পরিহার করা আবশ্যক। কেউ যদি কোনো হারাম পেশায় যুক্ত থাকেন, তবে দ্রুত হালাল কাজের সন্ধান করতে হবে এবং চলনসই ব্যবস্থা হওয়া মাত্রই হারামটি ত্যাগ করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি বলেন, কেউ যদি সারাজীবন কোনো নফল ইবাদত বা জিকির নাও করেন, কিন্তু নিজেকে হারাম উপার্জন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রেখে কবরে যান, তবে তিনি সরাসরি জান্নাতে যাবেন। বিপরীতে, হালাল-হারামের তোয়াক্কা না করে কেবল নফল ইবাদত বা তাহাজ্জুদ আদায় করলে তা মানুষকে শাস্তির হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না (ইসলাহি খুতুবাত : ১০/১৭৪)।

তৃতীয়ত, যেকোনো হালাল পেশাকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে এবং সেটিকে কখনোই ছোট করে দেখা যাবে না। রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যাকে যে কাজের মাধ্যমে রিজিক দিয়েছেন, সে যেন তা আঁকড়ে ধরে রাখে (কানজুল উম্মাল : ৯২৮৬)। চতুর্থত, নিজের প্রাপ্তির ওপর সন্তুষ্ট বা ‘কানাআত’ অর্জন করতে হবে। রাসুল (সা.) হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-কে দেওয়া পাঁচটি উপদেশের মধ্যে বলেছিলেন, হারাম থেকে বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বড় ইবাদতকারী হওয়া যায় এবং আল্লাহর দেওয়া রিজিকের ওপর সন্তুষ্ট থাকলে সবচেয়ে বড় ধনী হওয়া যায় (তিরমিজি : ২৩০৫)। প্রকৃত ধনী সে-ই, যে অন্যের সম্পদের দিকে না তাকিয়ে নিজের যা আছে তাতেই তৃপ্ত থাকে। এ জন্য রাসুল (সা.) আল্লাহর কাছে প্রাপ্ত রিজিকে সন্তুষ্টি ও বরকতের জন্য দোয়া করতে শিখিয়েছেন (মুস্তাদরাকে হাকিম : ১/৪৫৫)।

পঞ্চমত, তাকদিরের ওপর বিশ্বাস রেখে আল্লাহর ফয়সালা সহাস্য বদনে মেনে নিতে হবে। চেষ্টা করার পরও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না এলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকাই মোমিনের লক্ষণ (তিরমিজি : ২১৪৪)। ষষ্ঠত, রিজিক অন্বেষণে সর্বদা ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। ইসলামে ব্যবসার পরিধি বাড়ানো বা সম্পদ বৃদ্ধি নিষিদ্ধ নয়, তবে তা যেন মানুষের ওপর সওয়ার হয়ে না বসে। দিন-রাত কেবল ব্যবসার চিন্তা করা, পরিবারের হক নষ্ট করা কিংবা নামাজে ও ঘুমেও ব্যবসার ভাবনায় ডুবে থাকা কখনোই কাম্য নয়। তাই হালাল পথে উপার্জনের ক্ষেত্রেও দ্বীন ও দুনিয়ার মাঝে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

১. নিয়ত শুদ্ধ রাখা : নিয়ত বিশুদ্ধ হলে সাধারণ কাজও অসাধারণ হয়ে ওঠে। ঠাণ্ডা পানি পান করার প্রয়োজন। রাসুল (সা.) ঠাণ্ডা পানি পছন্দ করতেন, তাই পান করছি। এমন সামান্য কয়েক সেকেন্ডের নিয়ত সাধারণ পানি পানকে অসাধারণ করে তুলবে। তেমনি ব্যবসা বা চাকরির ক্ষেত্রে নিয়ত করা, আমার ওপর আমার ও আমার অধীনস্থদের যে হক রয়েছে, তা পূরণের জন্য ও

২. ইসলামের বিধানমতে রিজিক অন্বেষণ করা : রিজিক অন্বেষণ করতে হবে ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী। সুতরাং সম্পদ ও উপার্জন সংক্রান্ত ইসলামের যেসব নির্দেশনা রয়েছে, সেসব অনুসরণ করতে হবে। সম্পদের জাকাত ও সদকা আদায় করতে হবে। উপার্জন করতে হবে হালাল পন্থায়। হারাম থেকে বেঁচে থাকতে হবে। এরইমধ্যে হারাম উপার্জনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে থাকলে,