লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংসদ চত্বরে সমাহিত সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে দাফন করা হয়েছে। রোববার বাদ আসর সংসদ ভবনের টানেলে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জানাজার স্থান হিসেবে পূর্বনির্ধারিত দক্ষিণ প্লাজার পরিবর্তে টানেল ব্যবহার করা হয়। জানাজা শেষে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়, যেখানে দেশের আরও কয়েকজন বিশিষ্ট রাজনীতিক শায়িত আছেন।

জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, জমির উদ্দিন সরকারের পরিবারের সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহ উদ্দিন আহমদসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়াও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির নেতৃত্বে হুইপরা এবং সংসদ সচিব গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার নেতৃত্বে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রয়াত জমির উদ্দিন সরকারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি বাংলাদেশের একজন কৃতি সন্তান এবং অমায়িক ও সজ্জন মানুষ ছিলেন। সাধারণ মানুষের কল্যাণে সারাজীবন কাজ করা এই অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও রাষ্ট্রনায়কের মৃত্যুতে জাতি একজন অভিভাবককে হারাল। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার রোববার ভোরে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯৪ বছর বয়সে মারা যান। ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এই আইনজীবী সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া জমির উদ্দিন সরকার জাগদল হয়ে বিএনপিতে যোগ দেন এবং দীর্ঘদিন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর কয়েক মাস বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ের ২৭ দিনে আড়াই বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয়

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংসদ চত্বরে সমাহিত সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে দাফন করা হয়েছে। রোববার বাদ আসর সংসদ ভবনের টানেলে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জানাজার স্থান হিসেবে পূর্বনির্ধারিত দক্ষিণ প্লাজার পরিবর্তে টানেল ব্যবহার করা হয়। জানাজা শেষে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়, যেখানে দেশের আরও কয়েকজন বিশিষ্ট রাজনীতিক শায়িত আছেন।

জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, জমির উদ্দিন সরকারের পরিবারের সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহ উদ্দিন আহমদসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়াও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির নেতৃত্বে হুইপরা এবং সংসদ সচিব গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার নেতৃত্বে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রয়াত জমির উদ্দিন সরকারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি বাংলাদেশের একজন কৃতি সন্তান এবং অমায়িক ও সজ্জন মানুষ ছিলেন। সাধারণ মানুষের কল্যাণে সারাজীবন কাজ করা এই অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও রাষ্ট্রনায়কের মৃত্যুতে জাতি একজন অভিভাবককে হারাল। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার রোববার ভোরে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯৪ বছর বয়সে মারা যান। ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এই আইনজীবী সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া জমির উদ্দিন সরকার জাগদল হয়ে বিএনপিতে যোগ দেন এবং দীর্ঘদিন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর কয়েক মাস বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।