লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের বিস্ফোরণ: রাষ্ট্রপতি

জুলাই গণআন্দোলনকে দীর্ঘদিনের বৈষম্য, দুর্নীতি, গুম-খুন, ভোটাধিকার হরণ, নিপীড়ন এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আপামর জনগণের ক্ষোভের বিস্ফোরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে বুধবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের এই গণ-অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক অর্জন নয়; বরং এটি গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, সাহস ও আত্মত্যাগের ফসল।

বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই শহীদ দিবসকে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি আন্দোলনে আহত সেইসব সাহসী তরুণ-তরুণী ও যুবকদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জানান, যাঁদের অনেকে আজও পঙ্গুত্ববরণ করে যন্ত্রণাময় জীবন অতিবাহিত করছেন। এছাড়া শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি জুলাই যোদ্ধা ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সব দেশপ্রেমিক নাগরিকের ত্যাগের কথাও তিনি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাতবরণ এবং একই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক তরুণের আত্মাহুতি আন্দোলনকে এক নতুন মাত্রা দেয়। এরপর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর জেল-জুলুম এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের রাজপথে নেমে আসার মধ্য দিয়ে গণআন্দোলন সূচিত হয়।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, শহীদদের আত্মদান আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় যে, রাষ্ট্রের শক্তির প্রকৃত উৎস ও সর্বময় ক্ষমতার মালিক জনগণ। একটি মানবিক, স্বৈরাচারমুক্ত, সমতাভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা জুলাইয়ের চেতনা থেকেই আসে। জনগণের মৌলিক অধিকার, স্বার্থ, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের সম্মান প্রদান, পরিবারের কল্যাণ, আহতদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি এই কাজে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও মানবিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বাণীর শেষাংশে তিনি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শহীদদের আত্মার শান্তি ও জুলাই শহীদ দিবসের কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান-ওমান আলোচনার খবরে তেলের দাম হ্রাস

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের বিস্ফোরণ: রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩৩:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণআন্দোলনকে দীর্ঘদিনের বৈষম্য, দুর্নীতি, গুম-খুন, ভোটাধিকার হরণ, নিপীড়ন এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আপামর জনগণের ক্ষোভের বিস্ফোরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে বুধবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের এই গণ-অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক অর্জন নয়; বরং এটি গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, সাহস ও আত্মত্যাগের ফসল।

বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই শহীদ দিবসকে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি আন্দোলনে আহত সেইসব সাহসী তরুণ-তরুণী ও যুবকদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জানান, যাঁদের অনেকে আজও পঙ্গুত্ববরণ করে যন্ত্রণাময় জীবন অতিবাহিত করছেন। এছাড়া শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি জুলাই যোদ্ধা ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সব দেশপ্রেমিক নাগরিকের ত্যাগের কথাও তিনি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাতবরণ এবং একই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক তরুণের আত্মাহুতি আন্দোলনকে এক নতুন মাত্রা দেয়। এরপর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর জেল-জুলুম এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের রাজপথে নেমে আসার মধ্য দিয়ে গণআন্দোলন সূচিত হয়।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, শহীদদের আত্মদান আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় যে, রাষ্ট্রের শক্তির প্রকৃত উৎস ও সর্বময় ক্ষমতার মালিক জনগণ। একটি মানবিক, স্বৈরাচারমুক্ত, সমতাভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা জুলাইয়ের চেতনা থেকেই আসে। জনগণের মৌলিক অধিকার, স্বার্থ, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের সম্মান প্রদান, পরিবারের কল্যাণ, আহতদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি এই কাজে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও মানবিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বাণীর শেষাংশে তিনি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শহীদদের আত্মার শান্তি ও জুলাই শহীদ দিবসের কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।