লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিবর্তনের গতি ধীর হলেও প্রক্রিয়া চলমান: আইনমন্ত্রী

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষায় বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশে পরিবর্তনের গতি কিছুটা ধীর মনে হতে পারে, তবে পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এই সংলাপে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। বিএনপি জুলাই সনদের পথেই এগোতে চায় এবং এ লক্ষ্য অর্জনে সবার সহযোগিতা ও আস্থা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমাদের ভুলত্রুটি হতে পারে, তবে আমাদের চিন্তা স্বচ্ছ। আমাদের ওপর আস্থা রাখুন।” রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি যোগ করেন, রাতারাতি সব পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান জানান, প্রস্তাবিত আইনটির বিভিন্ন দিক বর্তমানে পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই শেষে এটি পুনরায় সংসদে উত্থাপন করা হবে। তবে মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত করার ক্ষমতা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন করা হবে না। সরকার দেশে জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ক্ষেত্রে ব্যর্থতা থাকলে তা সংশোধনের জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে। আইন পরিবর্তনশীল এবং এমন একটি আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি ক্ষতির শিকার না হন।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই সনদে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো যৌক্তিক প্রস্তাব এলে তা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকার গুমের সংস্কৃতি থেকে চিরতরে বেরিয়ে আসতে চায় উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমানে একটি গুমের অভিযোগের তদন্ত চলছে। এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স)।

সংলাপে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশে সংস্কারের উদ্দেশ্যে একটি গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, কোনো বিপ্লব হয়নি। সংস্কার কার্যক্রমকে সফল করতে হলে রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং সব অংশীজনের গঠনমূলক অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ঐকমত্য ছাড়া সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে রাজনৈতিক দূরত্ব কমিয়ে আনার তাগিদ দেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উন্মুক্ত আলোচনায় আইনের শাসন, মানবাধিকার পরিস্থিতি, পুলিশ বাহিনীর সংস্কার, মব জাস্টিস বা মব সহিংসতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা, জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন

পরিবর্তনের গতি ধীর হলেও প্রক্রিয়া চলমান: আইনমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩২:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষায় বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশে পরিবর্তনের গতি কিছুটা ধীর মনে হতে পারে, তবে পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এই সংলাপে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। বিএনপি জুলাই সনদের পথেই এগোতে চায় এবং এ লক্ষ্য অর্জনে সবার সহযোগিতা ও আস্থা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমাদের ভুলত্রুটি হতে পারে, তবে আমাদের চিন্তা স্বচ্ছ। আমাদের ওপর আস্থা রাখুন।” রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি যোগ করেন, রাতারাতি সব পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান জানান, প্রস্তাবিত আইনটির বিভিন্ন দিক বর্তমানে পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই শেষে এটি পুনরায় সংসদে উত্থাপন করা হবে। তবে মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত করার ক্ষমতা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন করা হবে না। সরকার দেশে জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ক্ষেত্রে ব্যর্থতা থাকলে তা সংশোধনের জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে। আইন পরিবর্তনশীল এবং এমন একটি আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি ক্ষতির শিকার না হন।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই সনদে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো যৌক্তিক প্রস্তাব এলে তা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকার গুমের সংস্কৃতি থেকে চিরতরে বেরিয়ে আসতে চায় উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমানে একটি গুমের অভিযোগের তদন্ত চলছে। এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স)।

সংলাপে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশে সংস্কারের উদ্দেশ্যে একটি গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, কোনো বিপ্লব হয়নি। সংস্কার কার্যক্রমকে সফল করতে হলে রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং সব অংশীজনের গঠনমূলক অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ঐকমত্য ছাড়া সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে রাজনৈতিক দূরত্ব কমিয়ে আনার তাগিদ দেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উন্মুক্ত আলোচনায় আইনের শাসন, মানবাধিকার পরিস্থিতি, পুলিশ বাহিনীর সংস্কার, মব জাস্টিস বা মব সহিংসতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা, জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।