লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলতি মাসেই হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে হাম প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

হামের টিকা কার্যক্রম থেকে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে তাদের সুরক্ষায় বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, চলতি মাসের শেষ দিকে এই পূর্ণাঙ্গ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মূল টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হলেও কিছু শিশু বাদ পড়ে গেছে। তিনি বলেন, ১ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও ১ কোটি ৮৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবুও পূর্ণ কভারেজ নিশ্চিত হয়নি। মূলত কাজের ব্যস্ততা বা স্কুলে থাকার কারণে অনেক মা তাদের সন্তানদের টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারেননি। এই ড্রপ-আউট শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় মপ-আপ ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে। ২০ মে মূল কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ২১ মে থেকেই এই বিশেষ মপ-আপ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সিলেট ও বান্দরবানের মতো ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ থাকা এলাকাগুলোতে টিকা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সিলেটে লক্ষ্যমাত্রার বাইরেও তিন হাজারের বেশি শিশুকে নতুন করে টিকা দেওয়া হয়েছে এবং হাওর এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করে আগামী দুই দিনের মধ্যেই প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে মূল ক্যাম্পেইনের আগে বিশেষ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গত এক মাসে ২৫টিরও বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করে চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন। তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন যে, হাসপাতাল পরিদর্শনের পর চিকিৎসকদের আচরণ ও খাবারের মানের উন্নতি হয়েছে। হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়েও কাজ শুরু হয়েছে এবং কোনো সমস্যা থাকলে আগামী সাত দিনের মধ্যে তা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান নিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলায় সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধ প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হচ্ছে এবং যেখানে লেবার রুমের মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই, সেসব ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এসব ঝুঁকি নিয়ে নিজে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন জানিয়ে তিনি পরিস্থিতি উন্নতির জন্য অন্তত ছয় মাস সময় চেয়েছেন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সিলেটেও লক্ষ্যমাত্রার বাইরে ৩ হাজারের বেশি শিশুকে নতুন করে টিকা দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি বাসায় ভাড়াটে রাখলে বরাদ্দ বাতিল করবে আবাসন পরিদপ্তর

চলতি মাসেই হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩১:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হামের টিকা কার্যক্রম থেকে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে তাদের সুরক্ষায় বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, চলতি মাসের শেষ দিকে এই পূর্ণাঙ্গ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মূল টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হলেও কিছু শিশু বাদ পড়ে গেছে। তিনি বলেন, ১ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও ১ কোটি ৮৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবুও পূর্ণ কভারেজ নিশ্চিত হয়নি। মূলত কাজের ব্যস্ততা বা স্কুলে থাকার কারণে অনেক মা তাদের সন্তানদের টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারেননি। এই ড্রপ-আউট শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় মপ-আপ ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে। ২০ মে মূল কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ২১ মে থেকেই এই বিশেষ মপ-আপ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সিলেট ও বান্দরবানের মতো ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ থাকা এলাকাগুলোতে টিকা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সিলেটে লক্ষ্যমাত্রার বাইরেও তিন হাজারের বেশি শিশুকে নতুন করে টিকা দেওয়া হয়েছে এবং হাওর এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করে আগামী দুই দিনের মধ্যেই প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে মূল ক্যাম্পেইনের আগে বিশেষ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গত এক মাসে ২৫টিরও বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করে চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন। তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন যে, হাসপাতাল পরিদর্শনের পর চিকিৎসকদের আচরণ ও খাবারের মানের উন্নতি হয়েছে। হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়েও কাজ শুরু হয়েছে এবং কোনো সমস্যা থাকলে আগামী সাত দিনের মধ্যে তা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান নিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলায় সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধ প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হচ্ছে এবং যেখানে লেবার রুমের মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই, সেসব ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এসব ঝুঁকি নিয়ে নিজে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন জানিয়ে তিনি পরিস্থিতি উন্নতির জন্য অন্তত ছয় মাস সময় চেয়েছেন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সিলেটেও লক্ষ্যমাত্রার বাইরে ৩ হাজারের বেশি শিশুকে নতুন করে টিকা দেওয়া হয়েছে।