লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মরক্কো কি এবার সত্যিই বিশ্বকাপ জয়ের পথে?

মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওয়াহবি যখন বলেছিলেন যে তাঁর দল বিশ্বকাপ জিততে পারে, তখন শুরুতে অনেকের কাছেই এটি অতিরঞ্জিত মনে হয়েছিল। তবে বিশ্বকাপের বর্তমান আসরে দলটির পারফরম্যান্স এখন সেই সাহসী উচ্চারণকে বাস্তবসম্মত করে তুলেছে। কাতার বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান ও আরব দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠার মাধ্যমে মরক্কো যে প্রত্যাশার পারদ চড়িয়েছিল, ২০২৬ সালের আসরে তারা এখন সেই লক্ষ্য পূরণের পথে হাঁটছে। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার ফাইনাল খেলা ছিল তেমনই এক উদাহরণ।

টুর্নামেন্টে নিজেদের সক্ষমতার বড় প্রমাণ দিয়েছে অ্যাটলাস লায়নরা। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তাদের জয়টি ছিল অন্যতম বড় চমক। ডাচরা তাদের চিরচেনা ‘টোটাল ফুটবল’ দর্শন ছেড়ে রক্ষণাত্মক কৌশল নিতে বাধ্য হয়েছিল। ম্যাচটিতে ৭০ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে মরক্কো যে আধিপত্য দেখিয়েছিল, তা তাদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সামর্থ্যকেই তুলে ধরে। ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় মরক্কো, যা তাদের স্নায়ুবিক দৃঢ়তারও পরিচয় দেয়।

কানাডার বিপক্ষে শেষ ১৬-এর ৩-০ ব্যবধানের জয়টি ছিল দলের চরিত্রের প্রতিফলন। এই ম্যাচে কোচের রণকৌশল, বেঞ্চের শক্তি এবং ধৈর্য—সবই ছিল নিখুঁত। কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় বর্তমান দলটি আরও বেশি শক্তিশালী ও পরিণত। রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলার পাশাপাশি এখনকার মরক্কো মাঝমাঠে বল দখলে অনেক বেশি পারদর্শী এবং আক্রমণের ক্ষেত্রেও তারা বৈচিত্র্যময়। দলের স্কোয়াড ডেপথ এখন অনেক বেশি, যেখানে বদলি খেলোয়াড় শেমশাদিন তালবি বা সোফিয়ান রাহিমির মতো খেলোয়াড়েরা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারছেন।

বোস্টনে ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি এখন মরক্কোর বিশ্বাসের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। অনেকেই এটিকে ২০২২ সালের সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন, তবে বর্তমান দলের লক্ষ্য কেবল প্রতিশোধ নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের অভিজাতদের কাতারে নিজেদের অবস্থান স্থায়ী করা। স্পেন বা বেলজিয়ামের মতো দলকে অতীতে হারানোর অভিজ্ঞতা তাদের মানসিকতায় বড় পরিবর্তন এনেছে। এখন তারা ইউরোপের পরাশক্তিদের চমকে দেওয়ার জন্য নয়, বরং জেতার জন্যই লড়াই করে।

বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের পথে ফ্রান্সের বাধা টপকাতে পারলে সেমিফাইনালে স্পেন বা বেলজিয়ামের মুখোমুখি হতে পারে মরক্কো। ফাইনালে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, নরওয়ে কিংবা সুইজারল্যান্ডের মতো দলগুলোর মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, মরক্কোর জমাট রক্ষণ ও গতিময় ফুটবল যে কাউকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা রাখে। ক্রীড়া সাংবাদিক আলি আল গার্‌নির মতে, মরক্কো এখন কেবল স্বপ্ন দেখছে না, বরং কাতার বিশ্বকাপে বিশ্বকে চমকে দেওয়া দলটির চেয়েও শক্তিশালী হয়ে বিশ্ব জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ের ২৭ দিনে আড়াই বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয়

মরক্কো কি এবার সত্যিই বিশ্বকাপ জয়ের পথে?

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওয়াহবি যখন বলেছিলেন যে তাঁর দল বিশ্বকাপ জিততে পারে, তখন শুরুতে অনেকের কাছেই এটি অতিরঞ্জিত মনে হয়েছিল। তবে বিশ্বকাপের বর্তমান আসরে দলটির পারফরম্যান্স এখন সেই সাহসী উচ্চারণকে বাস্তবসম্মত করে তুলেছে। কাতার বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান ও আরব দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠার মাধ্যমে মরক্কো যে প্রত্যাশার পারদ চড়িয়েছিল, ২০২৬ সালের আসরে তারা এখন সেই লক্ষ্য পূরণের পথে হাঁটছে। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার ফাইনাল খেলা ছিল তেমনই এক উদাহরণ।

টুর্নামেন্টে নিজেদের সক্ষমতার বড় প্রমাণ দিয়েছে অ্যাটলাস লায়নরা। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তাদের জয়টি ছিল অন্যতম বড় চমক। ডাচরা তাদের চিরচেনা ‘টোটাল ফুটবল’ দর্শন ছেড়ে রক্ষণাত্মক কৌশল নিতে বাধ্য হয়েছিল। ম্যাচটিতে ৭০ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে মরক্কো যে আধিপত্য দেখিয়েছিল, তা তাদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সামর্থ্যকেই তুলে ধরে। ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় মরক্কো, যা তাদের স্নায়ুবিক দৃঢ়তারও পরিচয় দেয়।

কানাডার বিপক্ষে শেষ ১৬-এর ৩-০ ব্যবধানের জয়টি ছিল দলের চরিত্রের প্রতিফলন। এই ম্যাচে কোচের রণকৌশল, বেঞ্চের শক্তি এবং ধৈর্য—সবই ছিল নিখুঁত। কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় বর্তমান দলটি আরও বেশি শক্তিশালী ও পরিণত। রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলার পাশাপাশি এখনকার মরক্কো মাঝমাঠে বল দখলে অনেক বেশি পারদর্শী এবং আক্রমণের ক্ষেত্রেও তারা বৈচিত্র্যময়। দলের স্কোয়াড ডেপথ এখন অনেক বেশি, যেখানে বদলি খেলোয়াড় শেমশাদিন তালবি বা সোফিয়ান রাহিমির মতো খেলোয়াড়েরা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারছেন।

বোস্টনে ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি এখন মরক্কোর বিশ্বাসের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। অনেকেই এটিকে ২০২২ সালের সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন, তবে বর্তমান দলের লক্ষ্য কেবল প্রতিশোধ নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের অভিজাতদের কাতারে নিজেদের অবস্থান স্থায়ী করা। স্পেন বা বেলজিয়ামের মতো দলকে অতীতে হারানোর অভিজ্ঞতা তাদের মানসিকতায় বড় পরিবর্তন এনেছে। এখন তারা ইউরোপের পরাশক্তিদের চমকে দেওয়ার জন্য নয়, বরং জেতার জন্যই লড়াই করে।

বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের পথে ফ্রান্সের বাধা টপকাতে পারলে সেমিফাইনালে স্পেন বা বেলজিয়ামের মুখোমুখি হতে পারে মরক্কো। ফাইনালে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, নরওয়ে কিংবা সুইজারল্যান্ডের মতো দলগুলোর মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, মরক্কোর জমাট রক্ষণ ও গতিময় ফুটবল যে কাউকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা রাখে। ক্রীড়া সাংবাদিক আলি আল গার্‌নির মতে, মরক্কো এখন কেবল স্বপ্ন দেখছে না, বরং কাতার বিশ্বকাপে বিশ্বকে চমকে দেওয়া দলটির চেয়েও শক্তিশালী হয়ে বিশ্ব জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।