লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শতবর্ষ পর জেগে ওঠার সংকেত দিচ্ছে ঘাতক আগ্নেয়গিরি মাউন্ট পিলি

ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের মার্টিনিক দ্বীপে অবস্থিত ঘাতক আগ্নেয়গিরি মাউন্ট পিলি প্রায় শতবর্ষ পর আবারও জেগে ওঠার সংকেত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আগ্নেয়গিরিটিতে ঘন ঘন ভূকম্পন এবং ভূমির কাঠামোগত পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন বিজ্ঞানীরা, যা ১৯০২ এবং ১৯২৯ সালের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

মার্টিনিক ভলক্যানোলজিক্যাল অ্যান্ড সিসমোলজিক্যাল অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগ্নেয়গিরিটিতে ১২৪টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া পুরো জুলাই মাসজুড়ে মোট ৩৩১টি ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে। মাউন্ট পিলির চূড়ার প্রায় আধা মাইল গভীরে থাকা উচ্চ চাপের কারণে ম্যাগমা বা তরল পাথর জমা হয়ে এই কম্পনগুলো তৈরি হচ্ছে। ভূ-পৃষ্ঠের মাত্র আধা মাইল থেকে এক মাইল গভীরে এই ভূমিকম্পগুলো ঘটায় সাধারণ মানুষ সেগুলোর তীব্রতা টের পায়নি, কারণ প্রতিটি কম্পনের মাত্রা ছিল মাত্র ১।

ভূমিকম্পের পাশাপাশি পর্বত চূড়ার আশপাশের মাটি ক্রমাগত ফুলে উঠছে। মে মাস থেকে প্রতি মাসে চূড়ার চারপাশের এলাকা প্রায় আধা ইঞ্চি হারে প্রসারিত হচ্ছে। তবে বর্তমান ভূ-তাত্ত্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, আপাতত নিকট ভবিষ্যতে বড় কোনো অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা নেই।

উল্লেখ্য যে, ১৯০২ সালে মাউন্ট পিলির এক বিধ্বংসী অগ্ন্যুৎপাতে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সেন্ট-পিয়েরে শহরটি ছাইয়ে পরিণত হয় এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। এরপর সর্বশেষ ১৯২৯ থেকে ১৯৩২ সালের মধ্যে আগ্নেয়গিরিটিতে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত ঘটলে প্রচণ্ড গরম গ্যাস, ছাই ও পাথরের মেঘ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মশাখালীতে ট্রেন অবরোধ প্রত্যাহার, ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে চলাচল স্বাভাবিক

শতবর্ষ পর জেগে ওঠার সংকেত দিচ্ছে ঘাতক আগ্নেয়গিরি মাউন্ট পিলি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের মার্টিনিক দ্বীপে অবস্থিত ঘাতক আগ্নেয়গিরি মাউন্ট পিলি প্রায় শতবর্ষ পর আবারও জেগে ওঠার সংকেত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আগ্নেয়গিরিটিতে ঘন ঘন ভূকম্পন এবং ভূমির কাঠামোগত পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন বিজ্ঞানীরা, যা ১৯০২ এবং ১৯২৯ সালের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

মার্টিনিক ভলক্যানোলজিক্যাল অ্যান্ড সিসমোলজিক্যাল অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগ্নেয়গিরিটিতে ১২৪টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া পুরো জুলাই মাসজুড়ে মোট ৩৩১টি ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে। মাউন্ট পিলির চূড়ার প্রায় আধা মাইল গভীরে থাকা উচ্চ চাপের কারণে ম্যাগমা বা তরল পাথর জমা হয়ে এই কম্পনগুলো তৈরি হচ্ছে। ভূ-পৃষ্ঠের মাত্র আধা মাইল থেকে এক মাইল গভীরে এই ভূমিকম্পগুলো ঘটায় সাধারণ মানুষ সেগুলোর তীব্রতা টের পায়নি, কারণ প্রতিটি কম্পনের মাত্রা ছিল মাত্র ১।

ভূমিকম্পের পাশাপাশি পর্বত চূড়ার আশপাশের মাটি ক্রমাগত ফুলে উঠছে। মে মাস থেকে প্রতি মাসে চূড়ার চারপাশের এলাকা প্রায় আধা ইঞ্চি হারে প্রসারিত হচ্ছে। তবে বর্তমান ভূ-তাত্ত্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, আপাতত নিকট ভবিষ্যতে বড় কোনো অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা নেই।

উল্লেখ্য যে, ১৯০২ সালে মাউন্ট পিলির এক বিধ্বংসী অগ্ন্যুৎপাতে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সেন্ট-পিয়েরে শহরটি ছাইয়ে পরিণত হয় এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। এরপর সর্বশেষ ১৯২৯ থেকে ১৯৩২ সালের মধ্যে আগ্নেয়গিরিটিতে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত ঘটলে প্রচণ্ড গরম গ্যাস, ছাই ও পাথরের মেঘ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।