লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগে এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জমি দখল, চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এ বি এম হাবিবুর রহমান এবং বড় ভাই মো. মামুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কলাপাড়া সিনিয়র জুিনিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আসামিরা ভেকু মেশিন, ভ্যান, কোদাল ও নির্মাণসামগ্রী নিয়ে বিদ্যালয়ের দাবি করা জমিতে প্রবেশ করেন। তারা জোরপূর্বক মাটি কেটে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কয়েকজন শিক্ষককে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে আসামিরা তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। বাদী আব্দুর রহিম জানান, প্রায় ছয় শতাংশ জমির মাটি কেটে রাস্তা তৈরি করায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বাদী আরও জানান, বিদ্যালয়ের জমিটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। স্থানীয়ভাবে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হয়েছেন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নুরুজ্জামান কাফি। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজি, প্রাণনাশের হুমকি ও জমি দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেন। কাফির ভাষ্যমতে, তিনি যে জমিতে রাস্তা নির্মাণ করেছেন সেটি বৈধভাবে কেনা এবং জমির বিক্রেতারা উচ্চ আদালতসহ তিনটি আদালতে রায় পেয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জমির মালিক তিনি নিজে হলেও তার বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের এই মামলায় অযৌক্তিকভাবে আসামি করা হয়েছে।

কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া জানান, আদালত মামলাটি নথিভুক্ত করেছেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুলের শব্দে আম্পায়ার বিভ্রান্ত, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে প্রতারণার নজির

জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগে এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:১৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জমি দখল, চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এ বি এম হাবিবুর রহমান এবং বড় ভাই মো. মামুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কলাপাড়া সিনিয়র জুিনিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আসামিরা ভেকু মেশিন, ভ্যান, কোদাল ও নির্মাণসামগ্রী নিয়ে বিদ্যালয়ের দাবি করা জমিতে প্রবেশ করেন। তারা জোরপূর্বক মাটি কেটে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কয়েকজন শিক্ষককে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে আসামিরা তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। বাদী আব্দুর রহিম জানান, প্রায় ছয় শতাংশ জমির মাটি কেটে রাস্তা তৈরি করায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বাদী আরও জানান, বিদ্যালয়ের জমিটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। স্থানীয়ভাবে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হয়েছেন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নুরুজ্জামান কাফি। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজি, প্রাণনাশের হুমকি ও জমি দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেন। কাফির ভাষ্যমতে, তিনি যে জমিতে রাস্তা নির্মাণ করেছেন সেটি বৈধভাবে কেনা এবং জমির বিক্রেতারা উচ্চ আদালতসহ তিনটি আদালতে রায় পেয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জমির মালিক তিনি নিজে হলেও তার বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের এই মামলায় অযৌক্তিকভাবে আসামি করা হয়েছে।

কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া জানান, আদালত মামলাটি নথিভুক্ত করেছেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।