লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের আইনি পথ খুঁজছেন নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি

আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেফতারের কোনো আইনি সুযোগ আছে কি না, তা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। এ বিষয়ে তিনি নগর কর্তৃপক্ষের আইন বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সক্রিয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আল-জাজিরার একটি প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

শনিবার দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট নেতা মামদানি জানান, গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানার মুখে থাকা নেতানিয়াহুকে বিচারের আওতায় আনা জরুরি। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঠিক স্থান হলো দ্য হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আইসিসি তাকে অভিযুক্ত করেছে এবং বিগত কয়েক বছরে তার কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্বের বহু মানুষই এখন এই একই মত পোষণ করেন।

মেয়র হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও মামদানি নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে পা রাখলে তাকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে একজন নগর মেয়রের আন্তর্জাতিক পরোয়ানা বাস্তবায়নের আইনি সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তিনি জানান, নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে এ নিয়ে গভীর আলোচনা চলছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তারা নতুন কোনো আইন তৈরি করছেন না, বরং আইন অনুযায়ী সিটির ভেতরে যেটুকু করার অনুমতি রয়েছে, ততটুকুই করার চেষ্টা করবেন।

মেয়রের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। মার্কিন রেডিও উপস্থাপক সিড রোজেনবার্গের সঙ্গে আলাপকালে নেতানিয়াহু দাবি করেন, মেয়র মামদানি গোপনে আমেরিকাকে ঘৃণা করেন। এদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জানিয়েছেন, গ্রেফতারের হুমকি সত্ত্বেও নেতানিয়াহু আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাবেন।

উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারণার সময় মামদানি ব্যক্তিগত আক্রমণ ও তীব্র ইসলামবিদ্বেষের শিকার হয়েছিলেন। এমনকি রেডিও উপস্থাপক সিড রোজেনবার্গ তাকে ‘তেলাপোকা’ বলে কটূক্তি করেছিলেন, যদিও পরবর্তীতে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইল নীতির প্রতি জনমত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। মে মাসে প্রকাশিত এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৭৫ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ভোটার ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিপক্ষে, যা তিন বছর আগে ছিল ৪৫ শতাংশ। অর্ধেক ভোটার মনে করেন, তাদের দল ইসরাইলকে অতিরিক্ত সমর্থন দিচ্ছে। যদিও শীর্ষ নেতাদের নীতিতে এই পরিবর্তন পুরোপুরি আসেনি, তবে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় অর্ধেক ডেমোক্র্যাট সদস্য সম্প্রতি ইসরাইলের সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট নেতা মামদানি বলেন, গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানার মুখোমুখি হওয়া নেতানিয়াহুকে বিচারের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুর

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের আইনি পথ খুঁজছেন নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০০:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেফতারের কোনো আইনি সুযোগ আছে কি না, তা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। এ বিষয়ে তিনি নগর কর্তৃপক্ষের আইন বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সক্রিয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আল-জাজিরার একটি প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

শনিবার দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট নেতা মামদানি জানান, গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানার মুখে থাকা নেতানিয়াহুকে বিচারের আওতায় আনা জরুরি। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঠিক স্থান হলো দ্য হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আইসিসি তাকে অভিযুক্ত করেছে এবং বিগত কয়েক বছরে তার কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্বের বহু মানুষই এখন এই একই মত পোষণ করেন।

মেয়র হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও মামদানি নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে পা রাখলে তাকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে একজন নগর মেয়রের আন্তর্জাতিক পরোয়ানা বাস্তবায়নের আইনি সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তিনি জানান, নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে এ নিয়ে গভীর আলোচনা চলছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তারা নতুন কোনো আইন তৈরি করছেন না, বরং আইন অনুযায়ী সিটির ভেতরে যেটুকু করার অনুমতি রয়েছে, ততটুকুই করার চেষ্টা করবেন।

মেয়রের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। মার্কিন রেডিও উপস্থাপক সিড রোজেনবার্গের সঙ্গে আলাপকালে নেতানিয়াহু দাবি করেন, মেয়র মামদানি গোপনে আমেরিকাকে ঘৃণা করেন। এদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জানিয়েছেন, গ্রেফতারের হুমকি সত্ত্বেও নেতানিয়াহু আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাবেন।

উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারণার সময় মামদানি ব্যক্তিগত আক্রমণ ও তীব্র ইসলামবিদ্বেষের শিকার হয়েছিলেন। এমনকি রেডিও উপস্থাপক সিড রোজেনবার্গ তাকে ‘তেলাপোকা’ বলে কটূক্তি করেছিলেন, যদিও পরবর্তীতে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইল নীতির প্রতি জনমত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। মে মাসে প্রকাশিত এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৭৫ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ভোটার ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিপক্ষে, যা তিন বছর আগে ছিল ৪৫ শতাংশ। অর্ধেক ভোটার মনে করেন, তাদের দল ইসরাইলকে অতিরিক্ত সমর্থন দিচ্ছে। যদিও শীর্ষ নেতাদের নীতিতে এই পরিবর্তন পুরোপুরি আসেনি, তবে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় অর্ধেক ডেমোক্র্যাট সদস্য সম্প্রতি ইসরাইলের সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট নেতা মামদানি বলেন, গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানার মুখোমুখি হওয়া নেতানিয়াহুকে বিচারের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুর