লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও সামাজিক উদাসীনতা নিয়ে রাষ্ট্রপতির গভীর উদ্বেগ

কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, তাদের প্রতি পরিবারের দায়িত্ববোধ এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি। সম্প্রতি কুমিল্লার একটি ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একটি মেয়ে তিনদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পরও তার বাবা-মায়ের মধ্যে যে স্বাভাবিক উদ্বেগ থাকা প্রয়োজন ছিল, তা পরিলক্ষিত হয়নি। তার মতে, এ ধরনের ঘটনা সমাজের গভীরে থাকা মানসিক সংকট ও উদাসীনতারই বহিঃপ্রকাশ।

গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি ধানক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত স্কুলছাত্রী যশোর সদর উপজেলার আব্দুল আলিমের মেয়ে এবং কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে কর্মরত এবং তারা বর্তমানে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি থাকলেও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে। তিনি কন্যাশিশুর প্রতি পরিবারের দায়িত্বশীল আচরণ, চলাফেরার নিরাপত্তা এবং বিপদের সময় দ্রুত সহায়তা পাওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের সজাগ দৃষ্টি রাখা অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রে স্কুলে যাতায়াতের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় মায়েদের ফুটপাতে বসে অপেক্ষা করতে হয়, যা সমাজে বিদ্যমান ভীতিকর পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানির মতো অপরাধ দমনে দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার ও আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর তিনি জোর দেন।

রাষ্ট্রপতির মতে, আইন প্রয়োগ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; এর জন্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন আবশ্যক। সরকার এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি ভুক্তভোগীরা যেন ন্যায়বিচার পান, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিশেষে, তিনি প্রতিটি উপজেলায় কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার আহ্বান জানান।

জানা যায়, ওই স্কুলছাত্রী যশোর সদর উপজেলার আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। নিহতের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে চাকরি করেন। তারা কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও সামাজিক উদাসীনতা নিয়ে রাষ্ট্রপতির গভীর উদ্বেগ

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, তাদের প্রতি পরিবারের দায়িত্ববোধ এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি। সম্প্রতি কুমিল্লার একটি ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একটি মেয়ে তিনদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পরও তার বাবা-মায়ের মধ্যে যে স্বাভাবিক উদ্বেগ থাকা প্রয়োজন ছিল, তা পরিলক্ষিত হয়নি। তার মতে, এ ধরনের ঘটনা সমাজের গভীরে থাকা মানসিক সংকট ও উদাসীনতারই বহিঃপ্রকাশ।

গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি ধানক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত স্কুলছাত্রী যশোর সদর উপজেলার আব্দুল আলিমের মেয়ে এবং কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে কর্মরত এবং তারা বর্তমানে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি থাকলেও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে। তিনি কন্যাশিশুর প্রতি পরিবারের দায়িত্বশীল আচরণ, চলাফেরার নিরাপত্তা এবং বিপদের সময় দ্রুত সহায়তা পাওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের সজাগ দৃষ্টি রাখা অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রে স্কুলে যাতায়াতের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় মায়েদের ফুটপাতে বসে অপেক্ষা করতে হয়, যা সমাজে বিদ্যমান ভীতিকর পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানির মতো অপরাধ দমনে দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার ও আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর তিনি জোর দেন।

রাষ্ট্রপতির মতে, আইন প্রয়োগ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; এর জন্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন আবশ্যক। সরকার এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি ভুক্তভোগীরা যেন ন্যায়বিচার পান, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিশেষে, তিনি প্রতিটি উপজেলায় কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার আহ্বান জানান।

জানা যায়, ওই স্কুলছাত্রী যশোর সদর উপজেলার আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। নিহতের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে চাকরি করেন। তারা কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।