লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন নীতিমালা ও কারিকুলাম ১৭ আগস্টের মধ্যে

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার একটি নতুন নীতিমালা ও মূল্যবোধভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে এই নতুন নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের আটটি বিভাগে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে, যার সূচনা হয়েছে সিলেট বিভাগ থেকে।

রবিবার (২৬ জুলাই) সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার উন্নত বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থা হুবহু অনুসরণ না করে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফলাফলভিত্তিক একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। নতুন কারিকুলামে প্রাথমিক পর্যায়ে শতভাগ ‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং’ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয়, পারিবারিক ও নাগরিক মূল্যবোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশবরেণ্য বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এই কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।

শিক্ষকদের বেতন কাঠামো সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে পাইলট পর্যায়ে থাকা মিড-ডে মিল কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, এর বাস্তবায়নে পাওয়া ত্রুটি সংশোধনের জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তদারকি, কারখানা পরিদর্শন, খাদ্য প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক ‘মাদার্স কমিটি’ গঠনের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পাইলটিং সফল হলে ২০২৭ সাল থেকে সারা দেশে কর্মসূচিটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর সময় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকেও এই নীতিমালার আওতায় আনা হবে। তখন এসব বিদ্যালয়ের কারিকুলাম, শিক্ষকের মান, অবকাঠামো ও শিক্ষা ক্যালেন্ডার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত বিদ্যমান নীতিমালার আওতায়ই অধিদপ্তরের কার্যক্রম চলবে এবং নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করা হবে।

সিলেটের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখওয়াত এরশেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ রানা। এছাড়া সিলেট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এতে অংশগ্রহণ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকায় বৃষ্টি ও তাপমাত্রা হ্রাসের পূর্বাভাস আবহাওয়া অধিদপ্তরের

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন নীতিমালা ও কারিকুলাম ১৭ আগস্টের মধ্যে

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৪০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার একটি নতুন নীতিমালা ও মূল্যবোধভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে এই নতুন নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের আটটি বিভাগে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে, যার সূচনা হয়েছে সিলেট বিভাগ থেকে।

রবিবার (২৬ জুলাই) সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার উন্নত বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থা হুবহু অনুসরণ না করে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফলাফলভিত্তিক একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। নতুন কারিকুলামে প্রাথমিক পর্যায়ে শতভাগ ‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং’ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয়, পারিবারিক ও নাগরিক মূল্যবোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশবরেণ্য বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এই কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।

শিক্ষকদের বেতন কাঠামো সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে পাইলট পর্যায়ে থাকা মিড-ডে মিল কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, এর বাস্তবায়নে পাওয়া ত্রুটি সংশোধনের জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তদারকি, কারখানা পরিদর্শন, খাদ্য প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক ‘মাদার্স কমিটি’ গঠনের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পাইলটিং সফল হলে ২০২৭ সাল থেকে সারা দেশে কর্মসূচিটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর সময় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকেও এই নীতিমালার আওতায় আনা হবে। তখন এসব বিদ্যালয়ের কারিকুলাম, শিক্ষকের মান, অবকাঠামো ও শিক্ষা ক্যালেন্ডার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত বিদ্যমান নীতিমালার আওতায়ই অধিদপ্তরের কার্যক্রম চলবে এবং নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করা হবে।

সিলেটের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখওয়াত এরশেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ রানা। এছাড়া সিলেট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এতে অংশগ্রহণ করেন।