লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়কর প্রত্যাহার ও ঋণের দাবি উদ্যোক্তাদের

দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাতের ওপর থেকে আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি)। একই সঙ্গে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব ক্যাম্পাস অবকাঠামো নির্মাণের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। রোববার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত জাতীয় বাজেট পর্যালোচনামূলক এক মতবিনিময় সভায় এই দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা কঠিন ছিল, তবুও বাজেটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী উদ্যোক্তাদের এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব উদ্যোক্তাদেরই নিতে হবে এবং সরকারি গবেষণার ক্ষেত্রেও তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

সভায় এপিইউবির চেয়ারম্যান মো. সবুর খান আয়কর ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ৫ শতাংশ আয়করও তুলে নেওয়া হবে বলে তাদের প্রত্যাশা। এছাড়া নিজস্ব ক্যাম্পাস তৈরির জন্য জমি কেনা ও ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ঋণ না পাওয়ার সীমাবদ্ধতাটিও তিনি তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। তিনি উল্লেখ করেন, এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন হলে শিক্ষার্থীদের বিদেশ গমনের প্রবণতা কমবে।

এপিইউবির পক্ষ থেকে সভায় একটি নীতিগত অবস্থানপত্র উপস্থাপন করা হয়। এতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, স্নাতকদের কর্মসংস্থান, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সায়েন্সভিত্তিক শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং যৌথ পিএইচডি কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা জানান, তিন দশকের বেশি সময় ধরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব অর্থায়নে অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ করে আসছে। সভায় এপিইউবির অনারারি সেক্রেটারি জেনারেল ইশতিয়াক আবেদিন স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ও সাবেক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদসহ দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান, উপাচার্য এবং শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়কর প্রত্যাহার ও ঋণের দাবি উদ্যোক্তাদের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:১৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাতের ওপর থেকে আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি)। একই সঙ্গে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব ক্যাম্পাস অবকাঠামো নির্মাণের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। রোববার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত জাতীয় বাজেট পর্যালোচনামূলক এক মতবিনিময় সভায় এই দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা কঠিন ছিল, তবুও বাজেটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী উদ্যোক্তাদের এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব উদ্যোক্তাদেরই নিতে হবে এবং সরকারি গবেষণার ক্ষেত্রেও তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

সভায় এপিইউবির চেয়ারম্যান মো. সবুর খান আয়কর ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ৫ শতাংশ আয়করও তুলে নেওয়া হবে বলে তাদের প্রত্যাশা। এছাড়া নিজস্ব ক্যাম্পাস তৈরির জন্য জমি কেনা ও ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ঋণ না পাওয়ার সীমাবদ্ধতাটিও তিনি তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। তিনি উল্লেখ করেন, এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন হলে শিক্ষার্থীদের বিদেশ গমনের প্রবণতা কমবে।

এপিইউবির পক্ষ থেকে সভায় একটি নীতিগত অবস্থানপত্র উপস্থাপন করা হয়। এতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, স্নাতকদের কর্মসংস্থান, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সায়েন্সভিত্তিক শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং যৌথ পিএইচডি কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা জানান, তিন দশকের বেশি সময় ধরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব অর্থায়নে অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ করে আসছে। সভায় এপিইউবির অনারারি সেক্রেটারি জেনারেল ইশতিয়াক আবেদিন স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ও সাবেক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদসহ দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান, উপাচার্য এবং শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন।