লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুনর্মুসিক ভবঃ: ইঁদুর থেকে হিংস্র জন্তু হওয়ার সামাজিক অবক্ষয়

আমাদের এলাকার এক মরহুম মুক্তিযোদ্ধা নেতার একটি কথা প্রায়শই মনে পড়ে। তিনি বলতেন, তার কাছে রাজাকার ও বেয়াদব একই শ্রেণীভুক্ত। তিনি আরও মনে করতেন যে, এই দুই পক্ষকেই এড়িয়ে চলা ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ, যদিও অনেক সময় সেটি করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে কারো যদি কোনো পদ বা ডিগ্রি থাকে, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, বিগত ইউনূস শাসনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের মানুষ বিচার-বিবেচনা ছাড়াই এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

আজকের দিনে দেশের চারপাশ থেকে খুন, নিখোঁজ ও ধর্ষণের খবর আসছে। নদীর জলে ভেসে উঠছে মানুষের লাশ, আবার পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দার হাতে রামিশার মতো শিশু ধর্ষণের ঘটনাও ঘটছে। প্রশ্ন জাগে, দেশে আসলে কী হচ্ছে? সাংসদ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মতে, বিশেষ করে ১৪-১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী মানুষগুলো আজ বড় ধরনের ট্রমা, অসহিষ্ণুতা, প্রতিহিংসা, রুক্ষতা এবং ন্যায়পরায়ণতার প্রতি অনীহায় আক্রান্ত। এদিকে, প্রখ্যাত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও বিতার্কিক ডাক্তার আব্দুর নূর তুষার জানিয়েছেন, তিনি প্রায়শই টক শোতে বেয়াদবদের মুখোমুখি হন এবং তারা বেয়াদবি করলে তিনি চুপ থাকেন, যাতে মানুষ বুঝতে পারে কারা কতটা বেয়াদব।

কখনও মনে হয়, আমরা যেন সেই পুরনো গল্পের যুগে ফিরে এসেছি, যেখানে প্রয়োজন সেই প্রত্যাশিত মুনির শক্তির পুনর্জাগরণ। পঞ্চতন্ত্র ও ভারতীয় লোকগাথার সেই জনপ্রিয় গল্প 'পুনর্মুসিক ভবঃ' বা 'আবার ইঁদুর হও' আজকের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত শিক্ষণীয়। এক মুনি ধ্যান করার সময় একটি ইঁদুরকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। পরে বিড়াল, কুকুর ও বাঘের ভয়ে ইঁদুরটি মুনির কাছে বারবার আশ্রয় চাইলে মুনি তাকে পর্যায়ক্রমে বিড়াল, কুকুর ও বাঘ বানিয়ে দেন। কিন্তু বাঘ হওয়ার পর সে মুনিকেই হত্যা করতে উদ্যত হলে মুনি তাকে পুনরায় ইঁদুর হওয়ার অভিশাপ দেন।

আজকের দিনে প্রশ্ন হচ্ছে, দেশের জনগণ কি বুর্জোয়া শ্রেণির হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে ইঁদুর থেকে হিংস্র জন্তুতে পরিণত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে? কিছু বুদ্ধিজীবী এখনও দলকানা হয়ে তাদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু যখন তারা নিজেরাই এই হিংস্র জন্তুদের আক্রমণের শিকার হন, তখন আক্ষেপ করেন। এখন দেখার বিষয়, তারা কি সেই 'পুনর্মুসিক ভবঃ' মন্ত্রটি জোরেশোরে উচ্চারণ করতে পারছেন?

উচ্চকন্ঠী সাংসদ বাপের বেটি ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, দেশের মানুষ গুলো বিশেষ করে ১৪/১৫ থেকে ৪০/৪৫ বছর বয়স্ক মানুষগুলো বড় ধরনের ট্রমাটাইজড, অসহিষ্জ্ঞু, প্রতিহিংসা পরায়ন, রুক্ষ, যাচ্ছেতাই আবেগ, ন্যায় পরায়নতা বিচারে অনীহায় আক্রান্ত।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

পুনর্মুসিক ভবঃ: ইঁদুর থেকে হিংস্র জন্তু হওয়ার সামাজিক অবক্ষয়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

আমাদের এলাকার এক মরহুম মুক্তিযোদ্ধা নেতার একটি কথা প্রায়শই মনে পড়ে। তিনি বলতেন, তার কাছে রাজাকার ও বেয়াদব একই শ্রেণীভুক্ত। তিনি আরও মনে করতেন যে, এই দুই পক্ষকেই এড়িয়ে চলা ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ, যদিও অনেক সময় সেটি করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে কারো যদি কোনো পদ বা ডিগ্রি থাকে, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, বিগত ইউনূস শাসনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের মানুষ বিচার-বিবেচনা ছাড়াই এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

আজকের দিনে দেশের চারপাশ থেকে খুন, নিখোঁজ ও ধর্ষণের খবর আসছে। নদীর জলে ভেসে উঠছে মানুষের লাশ, আবার পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দার হাতে রামিশার মতো শিশু ধর্ষণের ঘটনাও ঘটছে। প্রশ্ন জাগে, দেশে আসলে কী হচ্ছে? সাংসদ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মতে, বিশেষ করে ১৪-১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী মানুষগুলো আজ বড় ধরনের ট্রমা, অসহিষ্ণুতা, প্রতিহিংসা, রুক্ষতা এবং ন্যায়পরায়ণতার প্রতি অনীহায় আক্রান্ত। এদিকে, প্রখ্যাত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও বিতার্কিক ডাক্তার আব্দুর নূর তুষার জানিয়েছেন, তিনি প্রায়শই টক শোতে বেয়াদবদের মুখোমুখি হন এবং তারা বেয়াদবি করলে তিনি চুপ থাকেন, যাতে মানুষ বুঝতে পারে কারা কতটা বেয়াদব।

কখনও মনে হয়, আমরা যেন সেই পুরনো গল্পের যুগে ফিরে এসেছি, যেখানে প্রয়োজন সেই প্রত্যাশিত মুনির শক্তির পুনর্জাগরণ। পঞ্চতন্ত্র ও ভারতীয় লোকগাথার সেই জনপ্রিয় গল্প 'পুনর্মুসিক ভবঃ' বা 'আবার ইঁদুর হও' আজকের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত শিক্ষণীয়। এক মুনি ধ্যান করার সময় একটি ইঁদুরকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। পরে বিড়াল, কুকুর ও বাঘের ভয়ে ইঁদুরটি মুনির কাছে বারবার আশ্রয় চাইলে মুনি তাকে পর্যায়ক্রমে বিড়াল, কুকুর ও বাঘ বানিয়ে দেন। কিন্তু বাঘ হওয়ার পর সে মুনিকেই হত্যা করতে উদ্যত হলে মুনি তাকে পুনরায় ইঁদুর হওয়ার অভিশাপ দেন।

আজকের দিনে প্রশ্ন হচ্ছে, দেশের জনগণ কি বুর্জোয়া শ্রেণির হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে ইঁদুর থেকে হিংস্র জন্তুতে পরিণত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে? কিছু বুদ্ধিজীবী এখনও দলকানা হয়ে তাদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু যখন তারা নিজেরাই এই হিংস্র জন্তুদের আক্রমণের শিকার হন, তখন আক্ষেপ করেন। এখন দেখার বিষয়, তারা কি সেই 'পুনর্মুসিক ভবঃ' মন্ত্রটি জোরেশোরে উচ্চারণ করতে পারছেন?

উচ্চকন্ঠী সাংসদ বাপের বেটি ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, দেশের মানুষ গুলো বিশেষ করে ১৪/১৫ থেকে ৪০/৪৫ বছর বয়স্ক মানুষগুলো বড় ধরনের ট্রমাটাইজড, অসহিষ্জ্ঞু, প্রতিহিংসা পরায়ন, রুক্ষ, যাচ্ছেতাই আবেগ, ন্যায় পরায়নতা বিচারে অনীহায় আক্রান্ত।