লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোকসান ঠেকাতে আরও ১৭ জোড়া ট্রেন বেসরকারি খাতে ইজারা দিচ্ছে রেলওয়ে

যাত্রীর কোনো অভাব নেই, প্রতিটি ট্রেনই ছুটছে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে। স্টেশনগুলোতে রয়েছে টিকিটের তীব্র হাহাকার। তবুও লোকসান এড়ানো যাচ্ছে না। গত দুই অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ে গড়ে প্রতি বছর প্রায় পৌনে তিন হাজার কোটি টাকা করে লোকসান দিয়েছে। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা আলোচনার পর অবশেষে দুর্বল ব্যবস্থাপনার কাছে নতি স্বীকার করে ট্রেন ইজারা দেওয়াকেই সমাধান হিসেবে বেছে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রেলের দাবি, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন পরিচালনা করলে লাভ বেশি হয়। এই লাভের আশায় নতুন করে আরও ১৭ জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৩ জোড়া ট্রেন ইজারায় চলছে, নতুনগুলো যুক্ত হলে এই সংখ্যা দাঁড়াবে ৩০ জোড়ায় (৬০টি ট্রেন)। রেলওয়ের হিসাব অনুযায়ী, এই ৬০টি ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করে বছরে প্রায় শতকোটি টাকা আয় করা সম্ভব।

রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. নাজমুল ইসলাম জানান, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ইজারা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কম দূরত্বের ট্রেনগুলো সরকারি ব্যবস্থাপনায় চালাতে গেলে সরকারকে বিশাল লোকসান গুনতে হয়। এছাড়া তীব্র জনবল সংকটের কারণেও এসব ট্রেন নিয়মিত পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহণ ও রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে ইজারা পদ্ধতিকে আপাতত তুলনামূলক কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন করে পশ্চিমাঞ্চলে ১১ জোড়া এবং পূর্বাঞ্চলে ৬ জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এই ট্রেনগুলো ইজারা দেওয়া হবে এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব ইতিমধ্যে রেলওয়ে সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তবে এই উদ্যোগের ফলে রেলের আয় বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও বেসরকারি অপারেটরদের কারণে ভাড়া বৃদ্ধি এবং নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, কম ভাড়া, উচ্চ পরিচালন ব্যয় এবং ব্যাপক টিকিট ফাঁকির কারণে দীর্ঘদিন ধরে লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেনগুলোতে লোকসান হচ্ছে। স্থানীয় রুটের অধিকাংশ যাত্রীই টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করেন। সব ধরনের লজিস্টিকস থাকার পরও রেলওয়ে কেন যাত্রীদের টিকিট নিশ্চিত করতে পারছে না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ আছে, কাউন্টার থেকে টিকিট না কেটে ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সরাসরি টাকা দিয়ে যাতায়াত করেন প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি লোকাল ও মেইল ট্রেনের যাত্রী।

ইজারা পদ্ধতিতে ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম রয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিটি ট্রেনের জন্য প্রতিদিনের নির্ধারিত অর্থ অন্তত ৪০ দিন আগে অগ্রিম রেলে জমা দিতে হয়। পাশাপাশি প্রতিটি ট্রেনের জন্য সমপরিমাণ ৪০ দিনের অর্থ জামানত হিসেবে রাখতে হয়। এই কঠিন শর্ত পূরণ করেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো লাভ করছে। রেলের তথ্য অনুযায়ী, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে ১৩ জোড়া ট্রেন চালিয়ে যেখানে বার্ষিক আয় ছিল ২১ কোটি ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৭০৪ টাকা, সেখানে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় একই ট্রেনগুলো থেকে বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ৫৮ কোটি ২৭ লাখ ১৩ লাখ ২৬ টাকা।

এই বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একই রেললাইন, একই কোচ, একই যাত্রী এবং একই সরকারি ভাড়ায় যদি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান লাভ করতে পারে, তবে বাংলাদেশ রেলওয়ে কেন পারছে না? এই প্রশ্নের উত্তর রেলওয়ে প্রশাসনকে জনগণের সামনে দিতে হবে।

রেলওয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ইজারায় চলা ট্রেনে সরকারিভাবে চালক, গার্ড ও জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। বেসরকারি ইজারাদাররা শুধু যাত্রী পরিবহণের জন্য নিজস্ব লোকবল নিয়োগ করে। বর্তমানে রেলের প্রায় ৭০টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্ধ থাকা এই ট্রেনগুলো মেরামত করে পরবর্তীতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে মাত্র একবারই লাভের মুখ দেখেছিল। ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে সংস্থাটি ১ টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় করেছিল ৯৫ দশমিক ৯ পয়সা। রেলের আয়ের মূল উৎস যাত্রী ও মালামাল পরিবহণ হলেও চালক, গার্ড, টিটিই ও মাঠপর্যায়ের চরম জনবল সংকটের কারণে সিমেন্ট, সার, পাট, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্য পরিবহণ এখন তলানিতে ঠেকেছে। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ রুপি আয়ের বিপরীতে ৯৮ দশমিক ৩২ রুপি খরচ করে লাভজনক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে কানাডার রেলব্যবস্থা গত বছর প্রতি ১ ডলার আয়ের বিপরীতে খরচ করেছে মাত্র ৬৩ সেন্ট।

রেলের এই ইজারা নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন বুয়েটের অধ্যাপক ড. এম সামছুল হক। তিনি বলেন, ট্রেন ইজারা দেওয়ার অর্থ হলো রেলের নিজস্ব সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। রেলের যে বিশাল সম্পদ রয়েছে, তা সঠিকভাবে ব্যবহার করলেই লাভজনক হওয়া সম্ভব। আয় বাড়ানোর স্বীকৃত পথ হলো কনটেইনার ও মালামাল পরিবহণ বাড়ানো, কিন্তু রেল সেদিকে না গিয়ে সহজ পথ হিসেবে ইজারা দিচ্ছে। এছাড়া রেলের হাজার হাজার একর জমি বেদখল হয়ে পড়ে আছে, যা থেকে কোনো আয় আসছে না। কমিউটার, সার্কুলার বা শহরকেন্দ্রিক ট্রেন বাড়িয়েও রেলের আয় বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাবনার আটঘরিয়ায় আগাম শিম চাষে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

লোকসান ঠেকাতে আরও ১৭ জোড়া ট্রেন বেসরকারি খাতে ইজারা দিচ্ছে রেলওয়ে

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৫৭:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

যাত্রীর কোনো অভাব নেই, প্রতিটি ট্রেনই ছুটছে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে। স্টেশনগুলোতে রয়েছে টিকিটের তীব্র হাহাকার। তবুও লোকসান এড়ানো যাচ্ছে না। গত দুই অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ে গড়ে প্রতি বছর প্রায় পৌনে তিন হাজার কোটি টাকা করে লোকসান দিয়েছে। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা আলোচনার পর অবশেষে দুর্বল ব্যবস্থাপনার কাছে নতি স্বীকার করে ট্রেন ইজারা দেওয়াকেই সমাধান হিসেবে বেছে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রেলের দাবি, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন পরিচালনা করলে লাভ বেশি হয়। এই লাভের আশায় নতুন করে আরও ১৭ জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৩ জোড়া ট্রেন ইজারায় চলছে, নতুনগুলো যুক্ত হলে এই সংখ্যা দাঁড়াবে ৩০ জোড়ায় (৬০টি ট্রেন)। রেলওয়ের হিসাব অনুযায়ী, এই ৬০টি ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করে বছরে প্রায় শতকোটি টাকা আয় করা সম্ভব।

রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. নাজমুল ইসলাম জানান, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ইজারা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কম দূরত্বের ট্রেনগুলো সরকারি ব্যবস্থাপনায় চালাতে গেলে সরকারকে বিশাল লোকসান গুনতে হয়। এছাড়া তীব্র জনবল সংকটের কারণেও এসব ট্রেন নিয়মিত পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহণ ও রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে ইজারা পদ্ধতিকে আপাতত তুলনামূলক কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন করে পশ্চিমাঞ্চলে ১১ জোড়া এবং পূর্বাঞ্চলে ৬ জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এই ট্রেনগুলো ইজারা দেওয়া হবে এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব ইতিমধ্যে রেলওয়ে সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তবে এই উদ্যোগের ফলে রেলের আয় বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও বেসরকারি অপারেটরদের কারণে ভাড়া বৃদ্ধি এবং নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, কম ভাড়া, উচ্চ পরিচালন ব্যয় এবং ব্যাপক টিকিট ফাঁকির কারণে দীর্ঘদিন ধরে লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেনগুলোতে লোকসান হচ্ছে। স্থানীয় রুটের অধিকাংশ যাত্রীই টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করেন। সব ধরনের লজিস্টিকস থাকার পরও রেলওয়ে কেন যাত্রীদের টিকিট নিশ্চিত করতে পারছে না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ আছে, কাউন্টার থেকে টিকিট না কেটে ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সরাসরি টাকা দিয়ে যাতায়াত করেন প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি লোকাল ও মেইল ট্রেনের যাত্রী।

ইজারা পদ্ধতিতে ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম রয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিটি ট্রেনের জন্য প্রতিদিনের নির্ধারিত অর্থ অন্তত ৪০ দিন আগে অগ্রিম রেলে জমা দিতে হয়। পাশাপাশি প্রতিটি ট্রেনের জন্য সমপরিমাণ ৪০ দিনের অর্থ জামানত হিসেবে রাখতে হয়। এই কঠিন শর্ত পূরণ করেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো লাভ করছে। রেলের তথ্য অনুযায়ী, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে ১৩ জোড়া ট্রেন চালিয়ে যেখানে বার্ষিক আয় ছিল ২১ কোটি ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৭০৪ টাকা, সেখানে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় একই ট্রেনগুলো থেকে বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ৫৮ কোটি ২৭ লাখ ১৩ লাখ ২৬ টাকা।

এই বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একই রেললাইন, একই কোচ, একই যাত্রী এবং একই সরকারি ভাড়ায় যদি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান লাভ করতে পারে, তবে বাংলাদেশ রেলওয়ে কেন পারছে না? এই প্রশ্নের উত্তর রেলওয়ে প্রশাসনকে জনগণের সামনে দিতে হবে।

রেলওয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ইজারায় চলা ট্রেনে সরকারিভাবে চালক, গার্ড ও জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। বেসরকারি ইজারাদাররা শুধু যাত্রী পরিবহণের জন্য নিজস্ব লোকবল নিয়োগ করে। বর্তমানে রেলের প্রায় ৭০টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্ধ থাকা এই ট্রেনগুলো মেরামত করে পরবর্তীতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে মাত্র একবারই লাভের মুখ দেখেছিল। ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে সংস্থাটি ১ টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় করেছিল ৯৫ দশমিক ৯ পয়সা। রেলের আয়ের মূল উৎস যাত্রী ও মালামাল পরিবহণ হলেও চালক, গার্ড, টিটিই ও মাঠপর্যায়ের চরম জনবল সংকটের কারণে সিমেন্ট, সার, পাট, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্য পরিবহণ এখন তলানিতে ঠেকেছে। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ রুপি আয়ের বিপরীতে ৯৮ দশমিক ৩২ রুপি খরচ করে লাভজনক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে কানাডার রেলব্যবস্থা গত বছর প্রতি ১ ডলার আয়ের বিপরীতে খরচ করেছে মাত্র ৬৩ সেন্ট।

রেলের এই ইজারা নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন বুয়েটের অধ্যাপক ড. এম সামছুল হক। তিনি বলেন, ট্রেন ইজারা দেওয়ার অর্থ হলো রেলের নিজস্ব সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। রেলের যে বিশাল সম্পদ রয়েছে, তা সঠিকভাবে ব্যবহার করলেই লাভজনক হওয়া সম্ভব। আয় বাড়ানোর স্বীকৃত পথ হলো কনটেইনার ও মালামাল পরিবহণ বাড়ানো, কিন্তু রেল সেদিকে না গিয়ে সহজ পথ হিসেবে ইজারা দিচ্ছে। এছাড়া রেলের হাজার হাজার একর জমি বেদখল হয়ে পড়ে আছে, যা থেকে কোনো আয় আসছে না। কমিউটার, সার্কুলার বা শহরকেন্দ্রিক ট্রেন বাড়িয়েও রেলের আয় বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।