লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বৃষ্টিতে শাহজালাল বিমানবন্দরে শত কোটি টাকার পণ্য নষ্ট

কয়েকদিনের টানা বর্ষণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শত শত টন আমদানি পণ্য পানিতে ভিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মতে, এই ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে পর্যাপ্ত গুদাম না থাকা এবং গত বছরের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত স্থায়ী কার্গো টার্মিনাল দীর্ঘ ৯ মাসেও পুরোপুরি চালু না হওয়ায় পণ্যগুলো খোলা আকাশের নিচে রাখতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের অব্যবস্থাপনা এবং পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রিতাকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের মধ্যে দায় ঠেলাঠেলির কারণে কার্গো ভিলেজে পণ্যগুলো অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকছে। বিদেশ থেকে পণ্য আসার পর তা বিমান থেকে নামানো, টার্মিনালে নেয়া এবং হ্যান্ডেলিংয়ের দায়িত্ব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের। এরপর কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা শেষে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা পণ্য খালাস করে থাকেন।

ব্যবসায়ীদের মতে, কার্গো এলাকায় ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পণ্য গাদাগাদি করে রাখার ফলে অনেক সময় প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও মালামালের অবস্থান খুঁজে পাওয়া যায় না। এর ফলে শিল্পকারখানার কাঁচামাল সরবরাহ ও সামগ্রিক উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৪৫ থেকে ৫০টি ফ্লাইট অবতরণ করে, যার মধ্যে ৫ থেকে ৮টি চার্টার কার্গো ফ্লাইট ও প্রায় ৪৫টি নিয়মিত ফ্লাইট থাকে।

ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রতিদিন গড়ে ৪০টি যাত্রীবাহী ফ্লাইটে ১০০ টন এবং ছোট-বড় মিলিয়ে ৫টি চার্টার কার্গো ফ্লাইটে ৩৫০ থেকে ৫০০ টন পণ্য আসে। নিয়মিত ফ্লাইটের পণ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই-বাছাই হলেও কার্গো জটের কারণে প্রায় ১ হাজার ৮০০ টন পণ্য নোটিশ অব অ্যারাইভালের অপেক্ষায় পড়ে থাকে। এর সঙ্গে কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের সর্টিং ও বিতরণে আরও ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগে। তিনি বলেন, মূল সমস্যা কাস্টমসের প্রক্রিয়ায় নয়, বরং নোটিশ অব অ্যারাইভাল, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং আধুনিক ওয়্যারহাউজ ব্যবস্থার অভাবে এই সরবরাহ সংকট ও পণ্য নষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুলের শব্দে আম্পায়ার বিভ্রান্ত, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে প্রতারণার নজির

টানা বৃষ্টিতে শাহজালাল বিমানবন্দরে শত কোটি টাকার পণ্য নষ্ট

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০২:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

কয়েকদিনের টানা বর্ষণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শত শত টন আমদানি পণ্য পানিতে ভিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মতে, এই ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে পর্যাপ্ত গুদাম না থাকা এবং গত বছরের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত স্থায়ী কার্গো টার্মিনাল দীর্ঘ ৯ মাসেও পুরোপুরি চালু না হওয়ায় পণ্যগুলো খোলা আকাশের নিচে রাখতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের অব্যবস্থাপনা এবং পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রিতাকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের মধ্যে দায় ঠেলাঠেলির কারণে কার্গো ভিলেজে পণ্যগুলো অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকছে। বিদেশ থেকে পণ্য আসার পর তা বিমান থেকে নামানো, টার্মিনালে নেয়া এবং হ্যান্ডেলিংয়ের দায়িত্ব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের। এরপর কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা শেষে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা পণ্য খালাস করে থাকেন।

ব্যবসায়ীদের মতে, কার্গো এলাকায় ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পণ্য গাদাগাদি করে রাখার ফলে অনেক সময় প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও মালামালের অবস্থান খুঁজে পাওয়া যায় না। এর ফলে শিল্পকারখানার কাঁচামাল সরবরাহ ও সামগ্রিক উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৪৫ থেকে ৫০টি ফ্লাইট অবতরণ করে, যার মধ্যে ৫ থেকে ৮টি চার্টার কার্গো ফ্লাইট ও প্রায় ৪৫টি নিয়মিত ফ্লাইট থাকে।

ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রতিদিন গড়ে ৪০টি যাত্রীবাহী ফ্লাইটে ১০০ টন এবং ছোট-বড় মিলিয়ে ৫টি চার্টার কার্গো ফ্লাইটে ৩৫০ থেকে ৫০০ টন পণ্য আসে। নিয়মিত ফ্লাইটের পণ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই-বাছাই হলেও কার্গো জটের কারণে প্রায় ১ হাজার ৮০০ টন পণ্য নোটিশ অব অ্যারাইভালের অপেক্ষায় পড়ে থাকে। এর সঙ্গে কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের সর্টিং ও বিতরণে আরও ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগে। তিনি বলেন, মূল সমস্যা কাস্টমসের প্রক্রিয়ায় নয়, বরং নোটিশ অব অ্যারাইভাল, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং আধুনিক ওয়্যারহাউজ ব্যবস্থার অভাবে এই সরবরাহ সংকট ও পণ্য নষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটছে।