লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিতাসের ২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়িয়ে আমদানি-নির্ভরতার চাপ কমাতে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে নতুন গ্যাস। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) অধীনে থাকা তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে যাচ্ছে। উদ্বোধনের পরপরই কূপটি থেকে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

বিজিএফসিএল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন কূপ খনন ও বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই সফলতা এসেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী শনিবার এই কূপটির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের সাথে সাথেই এটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ প্রায় এক মাস আগে সমাপ্ত হয়েছে। প্রায় ১৩ হাজার ফুট গভীরতার এই কূপটি ছাড়াও তিতাস-২৯, ৩০ এবং কামতা-২ নম্বর কূপ খননের জন্য প্রায় ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম জসীম উদ্দিন জানান, তিতাস-২৮ উৎপাদনে যাওয়ার পর অন্য কূপগুলোর কাজও দ্রুত শেষ করে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে তিতাস ও বাখরাবাদের আরও চারটি কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে পর্যায়ক্রমে প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে তিতাস-২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বাখরাবাদ-১১ নম্বর কূপ থেকে প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।

গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব জানান, তিতাস-৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপের খননকাজ চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল শুরু হয়েছে। বর্তমানে কূপটির খনন গভীরতা প্রায় ৪ হাজার ৯২০ মিটারে পৌঁছেছে এবং এর লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার ৬০০ মিটার (১০০ মিটার কমবেশি)। গভীরতার কারণে এই কূপটির কাজ শেষ করতে কিছুটা বাড়তি সময় লাগছে। কোনো ভূতাত্ত্বিক জটিলতা না দেখা দিলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হতে পারে, যেখান থেকে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, তিতাস-২৯ নম্বর কূপের মূল খননকাজ শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে লগিংসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ চলছে। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে এই কূপটি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত হবে এবং এখান থেকে দৈনিক ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি তিতাস-৩০ নম্বর কূপের কাজ আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে শেষ করে দৈনিক আরও ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার প্রত্যাশা করছে বিজিএফসিএল।

তিতাস-৩১ নম্বর কূপের কাজ শেষ হওয়ার পর বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর গভীর কূপের খননকাজ শুরু হবে। ৪ হাজার ৫০০ মিটার লক্ষ্যমাত্রার এই কূপটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বর্তমানে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের মোট মজুত আনুমানিক দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তিতাস-৩১ একটি অনুসন্ধানমূলক কূপ হওয়ায় এখানে নতুন গ্যাসের মজুত আবিষ্কারের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই কূপের মাধ্যমে আরও প্রায় দুই টিসিএফ গ্যাসের মজুত যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, খননকাজ শেষে বিভিন্ন স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই নতুন মজুতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পর্তুগালের অনূর্ধ্ব-১৭ দলে ডাক পেলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জুনিয়র

তিতাসের ২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়িয়ে আমদানি-নির্ভরতার চাপ কমাতে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে নতুন গ্যাস। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) অধীনে থাকা তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে যাচ্ছে। উদ্বোধনের পরপরই কূপটি থেকে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

বিজিএফসিএল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন কূপ খনন ও বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই সফলতা এসেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী শনিবার এই কূপটির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের সাথে সাথেই এটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ প্রায় এক মাস আগে সমাপ্ত হয়েছে। প্রায় ১৩ হাজার ফুট গভীরতার এই কূপটি ছাড়াও তিতাস-২৯, ৩০ এবং কামতা-২ নম্বর কূপ খননের জন্য প্রায় ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম জসীম উদ্দিন জানান, তিতাস-২৮ উৎপাদনে যাওয়ার পর অন্য কূপগুলোর কাজও দ্রুত শেষ করে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে তিতাস ও বাখরাবাদের আরও চারটি কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে পর্যায়ক্রমে প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে তিতাস-২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বাখরাবাদ-১১ নম্বর কূপ থেকে প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।

গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব জানান, তিতাস-৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপের খননকাজ চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল শুরু হয়েছে। বর্তমানে কূপটির খনন গভীরতা প্রায় ৪ হাজার ৯২০ মিটারে পৌঁছেছে এবং এর লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার ৬০০ মিটার (১০০ মিটার কমবেশি)। গভীরতার কারণে এই কূপটির কাজ শেষ করতে কিছুটা বাড়তি সময় লাগছে। কোনো ভূতাত্ত্বিক জটিলতা না দেখা দিলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হতে পারে, যেখান থেকে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, তিতাস-২৯ নম্বর কূপের মূল খননকাজ শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে লগিংসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ চলছে। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে এই কূপটি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত হবে এবং এখান থেকে দৈনিক ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি তিতাস-৩০ নম্বর কূপের কাজ আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে শেষ করে দৈনিক আরও ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার প্রত্যাশা করছে বিজিএফসিএল।

তিতাস-৩১ নম্বর কূপের কাজ শেষ হওয়ার পর বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর গভীর কূপের খননকাজ শুরু হবে। ৪ হাজার ৫০০ মিটার লক্ষ্যমাত্রার এই কূপটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বর্তমানে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের মোট মজুত আনুমানিক দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তিতাস-৩১ একটি অনুসন্ধানমূলক কূপ হওয়ায় এখানে নতুন গ্যাসের মজুত আবিষ্কারের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই কূপের মাধ্যমে আরও প্রায় দুই টিসিএফ গ্যাসের মজুত যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, খননকাজ শেষে বিভিন্ন স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই নতুন মজুতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।