লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা জোটে পাকিস্তান ও তুরস্ক

ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং ইরাকের মিলিশিয়াদের ক্রমাগত হামলার মুখে সৌদি আরব নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) মক্কায় সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে একটি ন্যাটো ধাঁচের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির ফলে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সহযোগিতাকে একটি সম্মিলিত প্রতিরক্ষা জোটে রূপ দেওয়া হলো, যেখানে কোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে এতদিন সংঘাত থেকে দূরত্ব বজায় রাখা পাকিস্তান ও তুরস্কও প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।

এই নতুন প্রতিরক্ষা বলয় সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব প্রদান করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই এই জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটল। এটি মূলত ইরানের ক্রমবর্ধমান হুমকির বিরুদ্ধে সুন্নি নেতৃত্বাধীন একটি ঐক্যবদ্ধ সামরিক ফ্রন্টের বার্তা দিচ্ছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরাইল তার সামরিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে এবং প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কেও টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তান ও তুরস্ক উভয় দেশেরই ইরানের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে, ফলে তারা এই সংঘাত যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়ে সচেতন। পাকিস্তানের জন্য এই চুক্তিটি একটি চ্যালেঞ্জও বটে, কারণ দেশটিতে উল্লেখযোগ্য শিয়া জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বেশ স্পর্শকাতর। অন্যদিকে, তুরস্ক ও ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদ ইস্যুতে তাদের মধ্যে অভিন্ন উদ্বেগের জায়গা রয়েছে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো, জ্বালানি স্থাপনা এবং মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। যদিও গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সরাসরি হামলা কমেছে, তবে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। রিয়াদ দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ না নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলেও, সম্প্রতি হামলার আশঙ্কায় তাদের উদ্বেগ ও হতাশা বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের একজন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সহায়তায় ইরাকি ও ইয়েমেনি মিলিশিয়ারা বড় ধরনের সমন্বিত হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এর আগে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো হামলা চালালে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ অবকাঠামোতে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। এই প্রেক্ষাপটে মক্কার চুক্তিটি তেহরানের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে, তবে এর ফলে ইরান-সৌদি সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে তরুণীদের আটকে পর্নোগ্রাফি তৈরির অভিযোগে ৫ জন গ্রেপ্তার

ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা জোটে পাকিস্তান ও তুরস্ক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৪১:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং ইরাকের মিলিশিয়াদের ক্রমাগত হামলার মুখে সৌদি আরব নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) মক্কায় সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে একটি ন্যাটো ধাঁচের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির ফলে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সহযোগিতাকে একটি সম্মিলিত প্রতিরক্ষা জোটে রূপ দেওয়া হলো, যেখানে কোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে এতদিন সংঘাত থেকে দূরত্ব বজায় রাখা পাকিস্তান ও তুরস্কও প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।

এই নতুন প্রতিরক্ষা বলয় সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব প্রদান করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই এই জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটল। এটি মূলত ইরানের ক্রমবর্ধমান হুমকির বিরুদ্ধে সুন্নি নেতৃত্বাধীন একটি ঐক্যবদ্ধ সামরিক ফ্রন্টের বার্তা দিচ্ছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরাইল তার সামরিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে এবং প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কেও টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তান ও তুরস্ক উভয় দেশেরই ইরানের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে, ফলে তারা এই সংঘাত যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়ে সচেতন। পাকিস্তানের জন্য এই চুক্তিটি একটি চ্যালেঞ্জও বটে, কারণ দেশটিতে উল্লেখযোগ্য শিয়া জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বেশ স্পর্শকাতর। অন্যদিকে, তুরস্ক ও ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদ ইস্যুতে তাদের মধ্যে অভিন্ন উদ্বেগের জায়গা রয়েছে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো, জ্বালানি স্থাপনা এবং মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। যদিও গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সরাসরি হামলা কমেছে, তবে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। রিয়াদ দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ না নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলেও, সম্প্রতি হামলার আশঙ্কায় তাদের উদ্বেগ ও হতাশা বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের একজন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সহায়তায় ইরাকি ও ইয়েমেনি মিলিশিয়ারা বড় ধরনের সমন্বিত হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এর আগে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো হামলা চালালে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ অবকাঠামোতে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। এই প্রেক্ষাপটে মক্কার চুক্তিটি তেহরানের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে, তবে এর ফলে ইরান-সৌদি সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।