লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভারে পুলিশের তাড়া খেয়ে ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু

সাভারের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) আবাসিক এলাকায় পুলিশের তাড়া খেয়ে একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মনোয়ার হোসেন বকশী নামের এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। তিনি সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

আজ শুক্রবার দুপুরে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত মনোয়ার হোসেন বকশী বিপিএটিসির নিরাপত্তাকর্মী জাফর আলীর ছেলে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে পুলিশের একটি দল বিপিএটিসি আবাসিক এলাকায় তাদের সরকারি কোয়ার্টারের ৪ তলায় তল্লাশি চালায়। এ সময় পুলিশ জাফর আলীর দুই ছেলে এবং তাঁর মেয়ের ঘরের নাতি শাহরিয়ার কবির সৌমিকের খোঁজ করতে থাকে। আকস্মিক এই অভিযানের সময় পুলিশের একজন সদস্য দ্রুত দৌড়ে ছাদে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পরই ভবনের নিচে ভারী কিছু আছড়ে পড়ার শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা।

বাসিন্দারা ছুটে গিয়ে ভবনের নিচে মনোয়ার হোসেন বকশীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এই পরিস্থিতিতে অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ওই এলাকা ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন মনোয়ারকে উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

অভিযানের কারণ সম্পর্কে সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, রংপুরের পীরগাছা থানায় ১৫ বছর বয়সী মিমি আকতার নামের এক কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগে নিহতের ভাগনে শাহরিয়ার কবির সৌমিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলায় আসামি ছিলেন তাঁর মামা মনোয়ার হোসেন বকশীও। পীরগাছা থানার এসআই মনোরঞ্জন বর্মন রিকুইজিশন নিয়ে সাভার মডেল থানায় এলে, তাঁর সঙ্গে সাভার থানার একজন এসআইকে যুক্ত করে আসামিদের গ্রেফতারে এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ দেখে আসামি ছাদ থেকে লাফ দিলে তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন ওসি।

অভিযান শেষে পীরগাছা থানা পুলিশের তড়িঘড়ি করে চলে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ওসি আরও বলেন, "তাদের এমন ভাবে চলে যাওয়া ঠিক হয়নি।"

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মুহাম্মদ জাফর আলী সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেছেন। অন্যদিকে, ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি তমিজ উদ্দিন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন শিকদার অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে তরুণীদের আটকে পর্নোগ্রাফি তৈরির অভিযোগে ৫ জন গ্রেপ্তার

সাভারে পুলিশের তাড়া খেয়ে ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩৫:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

সাভারের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) আবাসিক এলাকায় পুলিশের তাড়া খেয়ে একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মনোয়ার হোসেন বকশী নামের এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। তিনি সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

আজ শুক্রবার দুপুরে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত মনোয়ার হোসেন বকশী বিপিএটিসির নিরাপত্তাকর্মী জাফর আলীর ছেলে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে পুলিশের একটি দল বিপিএটিসি আবাসিক এলাকায় তাদের সরকারি কোয়ার্টারের ৪ তলায় তল্লাশি চালায়। এ সময় পুলিশ জাফর আলীর দুই ছেলে এবং তাঁর মেয়ের ঘরের নাতি শাহরিয়ার কবির সৌমিকের খোঁজ করতে থাকে। আকস্মিক এই অভিযানের সময় পুলিশের একজন সদস্য দ্রুত দৌড়ে ছাদে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পরই ভবনের নিচে ভারী কিছু আছড়ে পড়ার শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা।

বাসিন্দারা ছুটে গিয়ে ভবনের নিচে মনোয়ার হোসেন বকশীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এই পরিস্থিতিতে অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ওই এলাকা ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন মনোয়ারকে উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

অভিযানের কারণ সম্পর্কে সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, রংপুরের পীরগাছা থানায় ১৫ বছর বয়সী মিমি আকতার নামের এক কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগে নিহতের ভাগনে শাহরিয়ার কবির সৌমিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলায় আসামি ছিলেন তাঁর মামা মনোয়ার হোসেন বকশীও। পীরগাছা থানার এসআই মনোরঞ্জন বর্মন রিকুইজিশন নিয়ে সাভার মডেল থানায় এলে, তাঁর সঙ্গে সাভার থানার একজন এসআইকে যুক্ত করে আসামিদের গ্রেফতারে এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ দেখে আসামি ছাদ থেকে লাফ দিলে তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন ওসি।

অভিযান শেষে পীরগাছা থানা পুলিশের তড়িঘড়ি করে চলে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ওসি আরও বলেন, "তাদের এমন ভাবে চলে যাওয়া ঠিক হয়নি।"

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মুহাম্মদ জাফর আলী সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেছেন। অন্যদিকে, ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি তমিজ উদ্দিন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন শিকদার অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।